প্রজ্ঞা-আত্মার প্রাকবাজেট সংবাদ সম্মেলন
সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপে ৯ হাজার ৬শ কোটি টাকা বাড়তি আয় সম্ভব
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আগামী (২০২৩-২৪) বাজেটে সিগারেটে মূল্যস্তরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে প্রজ্ঞা এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মা। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব করা হয়। এতে বলা হয়, এ উদ্যোগ নেওয়া হলে সরকারের ৯ হাজার ৬শ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে। যা আইএমএফ’র ঋণের শর্ত পূরণে কাজ করবে। কারণ সংস্থাটি ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের বিপরীতে আগামী অর্থবছরে জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ সমান অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে বলেছে।
আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার। প্রস্তাবে নিুস্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ টাকা ও সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ (খুচরা মূল্যের ওপর) এবং মধ্যম স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক ৪৫.৫০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া উচ্চস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১১১ থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা ও সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক ৭৮ টাকা, প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের
খুচরা মূল্য ১৪২ থেকে ১৫০ টাকা ও সুনির্দিষ্ট শুল্ক ৯৭.৫০ টাকা আরোপের কথা বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘আইএমএফের ঋণের বিপরীতে শর্ত অনুযায়ী আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরেই কর আদায় বাড়াতে হবে কমপক্ষে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব অনুযায়ী শুল্ক আরোপের মাধ্যমে মূল্য বাড়িয়ে এ লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব।’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোক্তা কম দামি সিগারেটের। এ স্তরে শুল্ক বাড়ানো হলে ব্যবহার কমবে এবং রাজস্ব বাড়বে।’
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা ও সুনির্দিস্ট শুল্ক ১১.২৫ টাকা, ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ১৯ থেকে ২০ টাকা, সুনির্দিষ্ট শুল্ক ৯ টাকা আরোপ করা হয়েছে। প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ টাকা নির্ধারণ ও সুনির্দিষ্ট শুল্ক ২৭ টাকা আরোপ; প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা নির্ধারণ এবং সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক ১৫ টাকা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সব তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত, সিটিএফকে’র বাংলদেশ লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান, আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
