Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

মাতুয়াইল শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

রোগীর ভিড় চিকিৎসক সংকটে সেবায় হিমশিম

Advertisement

Icon

যাত্রাবাড়ী (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাজধানীর মাতুয়াইল শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বুধবার ছিল রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। সেই তুলনায় চিকিৎসক ছিলেন সীমিত। প্রায়ই রোগীর এমন ভিড় দেখা যায়। বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার জরুরি বিভাগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গাইনি বিভাগে ২ জন এবং শিশু বিভাগে ৩ জন চিকিৎসক ছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৪৬০ জন রোগী এবং দুপুর ২টার পর রাত ৮টা পর্যন্ত একজন গাইনি ডাক্তারকে রোগী দেখতে হয়েছে। তাছাড়া মাত্র দুজন ডাক্তার দুই শতাধিক শিশু রোগী দেখেছেন। তাদের বেশির ভাগ হাম, ডেঙ্গু, ঠান্ডা ও জ্বরের রোগী। গর্ভবতী মায়েরাও ছিলেন।

সরেজমিন জরুরি বিভাগে ডাক্তারের চেম্বারের সামনে দেখা যায়, শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের উপচে পড়া ভিড়। শিশু ডাক্তার সামিউল রোগী দেখছিলেন। তিনি বলেন, রোগীর প্রচুর চাপ। দম ফালানোর সময় নেই। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে টানা রোগী দেখছি, এখন দুপুর ২টা বাজে। কতক্ষণ একটানা পারা যায়।

নিরব নামের এক ব্যক্তি তার ৪ বছরের ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে জরুরি বিভাগে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের ঠান্ডা ও জ্বর কয়েকদিন ধরে। সকাল ৮টার সময় হাসপাতালে এসেছি। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে সময় লেগেছে দুঘণ্টা। ডাক্তার দেখাতে লেগেছে আরও দুঘণ্টা। এখানে বৈদ্যুতিক পাখা নেই। ভ্যাপসা গরমে আমার ছেলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’

আলী নামের আট বছরের শিশুকে তার বাবা অহিদুল ঠান্ডা ও জ্বরের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তিনজন ডাক্তার দিয়ে প্রায় ৭০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখানে চিকিৎসকের সংকট থাকলেও সরকারের নজর নেই।

রূপগঞ্জ তারাবো থেকে দুপুর ২টার দিকে করিম নামের এক ব্যক্তি তার ১০ বছরের ছেলে আব্দুল ওয়াদুদকে খিঁচুনি নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এ সময় ওয়ার্ডে ডাক্তার না থাকায় হাসপাতালের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক আফিজ উদ্দিন জরুরি ভিত্তিতে একজন চিকিৎসককে দেখান। এতে শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো হয়ে যায়।

এদিকে শামীম হাওলাদার তার গর্ভবতী বোন সাদিয়া আক্তারকে হাসপাতালের ৩০৫ নম্বর কেবিনে ভর্তি করেন। তিনি ফাইলের জন্য তৃতীয়তলায় নার্সের জন্য অপেক্ষা করেন ১৫ মিনিট। অথচ অফিস সহকারী পান্না জানান, ‘নার্স খাদিজা ম্যাডাম শুয়ে মোবাইল টিপতেছেন।’ নার্স খাদিজা জানালেন, তিনি নিজেও একজন গর্ভবর্তী।

এ সময় ওয়ার্ডের ভেতর এক রোগীর স্বজন থেকে ২০০ টাকা নিতে দেখা যায় অফিস সহকারী পান্না আক্তার ও ক্লিনার রেশমাকে। কিসের টাকা নিলেন জানতে চাইলে পান্না বলেন, ‘তিনি আমাদের পরিচিত। সেবা পেয়ে খুশি হয়ে টাকা দিয়েছেন। এ টাকা আমরা তিনজনে ভাগ করে নেব।’ টাকার বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন পান্না।

সার্বিক বিষয়ে মন্তব্য জানতে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এমদাদুল হককে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

স্পেনে কর্মসংস্থানের ফাঁদ লিবিয়ায় জিম্মি যুবক ‘নির্বাক দর্শক’ পুলিশ

লিবিয়ায় জিম্মি যুবক ‘নির্বাক দর্শক’ পুলিশ

ফ্রান্সের বিক্ষোভে রহস্যময় স্লোগানে তোলপাড় ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’

‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’

মাতুয়াইল শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট রোগীর ভিড় চিকিৎসক সংকটে সেবায় হিমশিম

রোগীর ভিড় চিকিৎসক সংকটে সেবায় হিমশিম

নরসিংদীতে বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৬

নরসিংদীতে বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৬

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম