সমালোচনার মুখে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা পরিবর্তন
Advertisement
আনন্দনগর প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে অবশেষে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকায় সংশোধন এনেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। গত ২৯ জানুয়ারি চূড়ান্ত বিচারকাজ শেষে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হলেও বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো তালিকাটি পর্যালোচনা করে দুটি বিভাগে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে আজীবন সম্মাননা যাচ্ছে অভিনেত্রী ঝর্ণা বসাক শবনম এবং চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হকের ঝুলিতে। এর আগে গত জানুয়ারিতে ঘোষিত তালিকায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চুকে দেওয়া হয়েছিল আজীবন সম্মাননা। কিন্তু পুরস্কারের নীতিমালায় আজীবন সম্মাননার জন্য জীবিত ব্যক্তিদের বিবেচনার কথা উল্লেখ থাকায় তাদের নাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠে সেরা চিত্রনাট্যসহ কয়েকটি বিভাগে বিচারকদের সুপারিশ প্রতিফলিত হয়নি।
নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে তারেক মাসুদ ও আবদুল লতিফ বাচ্চুকে মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়া হবে। অন্যদিকে চিত্রনাট্য বিভাগে নাম ছিল নিয়ামুল মুক্তার। ‘রক্তজবা’ সিনেমার জন্য সেরা চিত্রনাট্যকার ঘোষণা করা হয়েছিল তাকে। তবে মুক্তা জানান সিনেমাটির চিত্রনাট্যকার তিনি নন। এবার তার জায়গায় সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে তাসনীমুল হাসানকে।
প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, কে এম হালিমুজ্জামান পাচ্ছেন ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক পুরস্কার। ‘মরিয়ম’ চলচ্চিত্রের জন্য চৈতালী সমদ্দার পাচ্ছেন শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার। এ ছাড়া ‘লীলাবতী নাগ : দ্য রেবেল’-এর জন্য শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রে পুরস্কার পাচ্ছেন এলিজা বিনতে এলাহী। ‘সুড়ঙ্গ’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (প্রধান চরিত্র) পুরস্কার পাচ্ছেন আহাম্মেদ ফজলে রাব্বি আফরান নিশো, ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (প্রধান চরিত্র) পুরস্কার পাচ্ছেন আইনুন নাহার পুতুল, ‘সুড়ঙ্গ’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (পার্শ্বচরিত্র) পুরস্কার পাচ্ছেন মনির আহাম্মেদ, ‘ওরা সাতজন’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (পার্শ্বচরিত্র) পুরস্কার পাচ্ছেন নাজিয়া হক অর্ষা, ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বা অভিনেত্রী (খল চরিত্র) পুরস্কার পাচ্ছেন খন্দকার রশিদ আহমেদ, ‘সুড়ঙ্গ’ চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বা অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে (কৌতুক চরিত্র) পুরস্কার পাচ্ছেন শহীদুজ্জামান সেলিম। ‘আম কাঁঠালের ছুটি’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী ক্যাটাগরিতে মো. লিয়ন, একই চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী শাখায় (বিশেষ পুরস্কার) পাচ্ছে আরিফ হাসান আনাইরা খান, ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ক্যাটাগরিতে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ইমন, ‘লাল শাড়ি’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাচ্ছেন হাবিবুর রহমান, ‘প্রিয়তমা’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ গায়ক ক্যাটাগরিতে কাজী মো. আলী জাহাঙ্গীর (বালাম), ‘সুড়ঙ্গ’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ গায়িকা ক্যাটাগরিতে অবন্তী দেব সিঁথি, ‘প্রিয়তমা’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার, শ্রেষ্ঠ সুরকার ও শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার যথাক্রমে মো. অলিউল্লাহ (সোমেশ্বর অলি), মুনির মাহমুদ প্রিন্স (প্রিন্স মাহমুদ) ও ফারুক হোসেন।
‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসাবে পুরস্কার পাচ্ছেন মো. তাসনীমুল হাসান, ‘সুড়ঙ্গ’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসাবে যুগ্মভাবে পুরস্কার পাচ্ছেন রায়হান রাফী চৌধুরী (রায়হান রাফী) ও সৈয়দ নাজিম উদ দৌলা, ‘ওরা সাত জন’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পাদক হিসাবে পুরস্কার পাচ্ছেন মো. সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাবু, ‘সুড়ঙ্গ’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক ও শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক হিসাবে পুরস্কার পাচ্ছেন যথাক্রমে শহীদুল ইসলাম ও সুমন কুমার সরকার, ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক হিসাবে পুরস্কার পাচ্ছেন সুজন মাহমুদ, ‘সুড়ঙ্গ’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাচ্ছেন বীথি আফরীন এবং ‘প্রিয়তমা’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ মেক-আপম্যান ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাচ্ছেন সবুজ।
