Logo
Logo
×

Advertisement

আনন্দ নগর

ভাইরাল হলেই কী বদলে যায় জীবন

Advertisement

Icon

সাহিদ আহমেদ

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ইউটিউবে লাখ লাখ ভিউ, মানুষের মুখে মুখে নিজের গান, আর রাস্তায় বের হলেই চেনা-অচেনা ভক্তদের সেলফির ভিড়। প্রযুক্তির কল্যাণে আজকাল রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া মোটেও কোনো কঠিন কাজ নয়। কিন্তু ভাইরাল হওয়ার এই গল্প শুনতে যতটা মধুর ও জাদুকরি মনে হয়, তার পরের পথটুকু ঠিক ততটাই অনিশ্চিত আর কঠিন। জনপ্রিয়তার সেই উত্তাল স্রোতে গা ভাসিয়ে কতজন টিকে থাকতে পারেন এই সময়ে? আরমান আলিফ, মাহতিম সাকিব, সৈয়দ অমি, মতিন চৌধুরী, রানা মৃধা কিংবা জিসান খান শুভর মতো ভাইরাল শিল্পীর জীবনের আগের আর পরের চিত্র পাশাপাশি রাখলে এ কঠিন বাস্তবতা আর উত্থান-পতনের গল্পটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেউ সেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রজেক্ট নিয়ে এগিয়ে গেছেন, কেউ হারিয়ে গেছেন, কেউ জড়িয়েছেন নানা বিতর্কে, আবার কেউবা দীর্ঘ সাময়িক আড়াল ভেঙে স্বরূপে ফিরে এসেছেন রাজকীয় বেশে।

আরমান আলিফের কথাই বলা যাক। নেত্রকোনার এই তরুণ ২০১৮ সালে ‘অপরাধী’ শিরোনামের একটি গান গেয়ে ইউটিউবে ঝড় তোলেন। একসময় যাকে কেউ চিনত না, অল্প সময়ে কোটি কোটি ভিউ পেয়ে তিনি রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তখন তিনি উচ্চমাধ্যমিকে পড়ছেন। গ্রামের বাড়িতে ভক্তরা কেউ আসতেন গান শুনতে, কেউ সেলফি তুলতে। আরমান নিজেই বলেছিলেন, হঠাৎ সবকিছু হয়ে যাওয়ায় তিনি তখনো ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ভাইরাল হওয়ার কয়েক বছর পর তিনি জানিয়েছিলেন, সেই সময়টা ছিল অনেকটা অগোছালো, এখন নিজেকে গুছিয়ে এগোতে চান। ততদিনে ‘অপরাধী’র ভিউ ৪৬ কোটি ছাড়িয়েছে, যা দেশি বাংলা গানে রেকর্ড। কিন্তু এরপর আরও প্রায় ৫০টির বেশি গান করেও আর একটিও প্রথম গানের মতো সাড়া ফেলতে পারেননি। আর বর্তমানে, নেটদুনিয়ায় তার কোনো আওয়াজই নেই বললে চলে। জানা গেছে, মাঝে মধ্যে স্টেজ শো করেন।

মাহতিম শাকিবের গল্পে জনপ্রিয়তার আগে ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি। ২০১৮ সালের মে মাসে সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া ‘এই মন তোমাকে দিলাম’ কাভার করে মাত্র ৮ দিনে আলোচনায় আসেন তিনি। অথচ ২০১০ সালে একটি গানের প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার্স আপ হয়েছিলেন! কৈশোরে স্বাভাবিকভাবেই তার গলার কণ্ঠস্বর বদলে যেতে শুরু করে। এ কারণে ২০১৬ ও ২০১৭ সালের দিকে তিনি গান থেকে কিছুদিনের জন্য বিরতি নেন। এরপর ২০১৮ সালে তিনি নতুন করে আবার গান গাওয়া শুরু করেন। তখন তিনি সবেমাত্র এসএসসি পরীক্ষা শেষ করেছেন। ১৭ বছর বয়সি এ কিশোরের জীবন ওই বছরের ১৮ মে’র পর পুরোপুরি বদলে যায়। রাস্তাঘাটে মানুষ এখন তাকে একনামে চেনেন চিনতে পারছে এবং সবাই তার গানের প্রশংসা করছে। শাকিব জানান, জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই জীবন বদলে যায়। এখন দর্শকদের প্রত্যাশাও বেড়ে গেছে। যদিও তিনি চাপ মনে করেন না। গান তার জীবনেরই অংশ। তবে ভাইরাল হলে একজন পারফর্মারের বক্তিগত জীবন বলতে কিছু থাকে না বলেও অভিমত দেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের কলকাতার সিনেমায় প্লে-ব্যাক করছেন এ শিল্পী। তিনি নিজের নতুন অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল, একের পর এক মৌলিক গান উপহার দিচ্ছেন। জানিয়েছেন, শিগ্গির আসছে তার একক অ্যালবাম।

সৈয়দ অমির গল্প আবার কিছুটা আলাদা, ধীরে এগোনোর। এ গায়ক আনুষ্ঠানিকভাবে গান শেখেননি, ২০১৬ সালে একটি মিক্সড অ্যালবামে ‘অবুঝ মন’ দিয়ে প্রথম কণ্ঠ দেন। ২০১৮ সালের ‘ঘুম না আসা রাতে’ দিয়ে তার সাফল্য বা ভাইরালের গল্প শুরু। গানটির ভিউ ৫ কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। তবে এরপরও তার আরও অনেক গান ভাইরাল হয়েছে। এখনো কাজ করছেন তিনি। গত ছয় মাসে ছয়টি গান প্রকাশ করেছেন। অমি জানান, অডিও ইন্ডাস্ট্রির রমরমা বাজার তিনি পাননি, পেয়েছেন ডিজিটাল মাধ্যম। সাফল্যের রহস্য হিসাবে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে করা সংগ্রামের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

সবার ভাগ্য অবশ্য এত সহজে বদলায় না। ভাইরাল গান ‘টিকাটুলির মোড়’র গায়ক মতিন চৌধুরী তার অন্যতম উদাহরণ হতে পারে। গানটি বানিয়েছিলেন ২০০৫ সালে; বগুড়া থেকে ঢাকা এসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে গানটি গাইতেন। ৫ বছরের চেষ্টায় ২০১০ সালে বের করেন প্রথম অ্যালবাম। সেখানে স্থান পায় গানটি। টাকার অভাবে দ্বিতীয় কোন অ্যালবাম করতে পারেননি এ গায়ক। প্রায় এক যুগ পরে ঢাকাই সিনেমায় দীপঙ্কর দীপন পরিচালিত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমায় ‘টিকাটুলীর মোড়ে একটা সিনেমাহল রয়েছে’ গেয়ে নতুন প্রজন্মের কাছেও তুমুল জনপ্রিয়তা পান মতিন চৌধুরী। তবে দর্শকপ্রিয়তা পেলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি মতিনের। অভিযোগ করে তিনি জানান, পরিচালক আমাকে খুঁজে বের করে গানটি তার সিনেমার জন্য নিয়েছিলেন। কথা ছিল গানটির ইউটিউব থেকে আয় করা অর্থের ৫০ শতাংশ আমাকে দেওয়া হবে। একটি চুক্তিরও সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি (সিনেমার নির্মাতা) করেননি। মতিন বলেন, ‘আমাকে ঠকানো হয়েছে।’ বর্তমানে ৫-৬টি গান থাকলেও অর্থের অভাবে গান গুলো অপ্রকাশিতই রয়ে গেছে। গানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আগের মতো স্টেজ-শো, কনসার্টের যে ব্যস্ততা ছিল তা এখন আর নেই এ গায়কের।

সব জনপ্রিয়তা স্টুডিও থেকে শুরু হয় না। রানা মৃধার বিচরণ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার রাস্তায়, ফুলের ঝুড়ি হাতে। কামরাঙ্গীরচরের এ শিশু ঘুরে ঘুরে ফুল বিক্রি করত।

‘ঢাকাইয়া গাল্লি বয়’ র‌্যাপ গানটি দিয়ে ২০১৯ সালে ব্যাপকভাবে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয় রানা। তাকে আবিষ্কার করেন তবীব, যে নিজেও একজন র‌্যাপার। পরে তবীর ও রানার যৌথভাবে ‘গাল্লিবয়’ সিরিজের মোট ৪টি অফিসিয়াল পর্ব মুক্তি পায়। এ ছাড়া এ সিরিজের বাইরেও তারা ‘চাপ নাই’ এবং ‘সাম্যের বিশ্ব চাই’-এর মতো র‌্যাপ গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তবে তখন এক সাক্ষাৎকারে তবীব জানিয়েছিলেন, মানুষ তাদের চিনলেও ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি। এরপর ২০২৩ সালে সেপ্টেম্বরে রানা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ডিজনি প্লাস হটস্টারে মুক্তি পায় ক্রাইম থ্রিলার ওয়েব সিরিজ ‘কালা’। এতে ‘চাপ নাই’ শিরোনামের গানটি করেন রানা।

গাল্লিবয় রানা এখন আর পথশিশু নন, ভাইরাল হওয়ার পর স্বপ্ন পূরণে স্কুলে ভর্তি হন। বর্তমানে পড়ছেন অষ্টম শ্রেণিতে। একইসঙ্গে নিয়মিত গানের আয় থেকে নিজ পরিবার নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

সময়ের আলোচিত তরুণ শিল্পী জিসান খান শুভ। তিনি মূলত নিজের গড়া ব্যান্ড ‘ফানুস’-এর প্রধান ভোকাল হিসাবে সুরের ভুবনে পা রেখেছিলেন। এরপর ২০১৮ সালে তার নিজের লেখা ও সুর করা ‘তোর মনের পিঞ্জিরায়’ গানটি রাতারাতি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হন। এ গানই তার ক্যারিয়ারের চাকা ঘুরিয়ে দেয়। পরে তিনি আরও অনেক গান করেছেন এবং সেগুলো শ্রোতারা শুনেছেনও। তবে মতিন চৌধুরীর মতোই তার ক্ষেত্রেও দর্শকপ্রিয়তা আর ভাগ্যের চাকা সবসময় সমান্তরালে চলেনি। একই ধাঁচের গান হওয়ায় শ্রোতা-দর্শকরা নেতিবাচক মন্তব্য করছিলেন। ভিউ আর দর্শকপ্রিয়তা এক জিনিস নয় তা বুঝতে পেরে সস্তা জনপ্রিয়তার স্রোতে না ভেসে জিসান নিখুঁত কাজের মানের ওপর জোর দেন। মাঝে কিছু সময় বিরতি দিয়ে চলতি বছর আবার স্বরূপে ফিরে এসেছেন এবং এখন স্টুডিও আর কনসার্ট নিয়ে নতুন করে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ভাইরাল হলেই কী বদলে যায় জীবন

ভাইরাল হলেই কী বদলে যায় জীবন

বক্স অফিসের সিংহাসনে আবারও ‘এন্ডগেম’, পেছনে ‘অ্যাভাটার’

বক্স অফিসের সিংহাসনে আবারও ‘এন্ডগেম’, পেছনে ‘অ্যাভাটার’

‘দৃশ্যম’-এর তাণ্ডব, তিন দিনেই ১৭২ কোটি রুপি

‘দৃশ্যম’-এর তাণ্ডব, তিন দিনেই ১৭২ কোটি রুপি

প্রীতম-শেহতাজের বিচ্ছেদ

প্রীতম-শেহতাজের বিচ্ছেদ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম