Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে জেরা

কতজন গুম হয়েছিল বলতে পারব না উদ্ধারের চেষ্টা করিনি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কতজন গুম হয়েছিল বলতে পারব না উদ্ধারের চেষ্টা করিনি

Advertisement

আওয়ামী লীগ শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সাক্ষী সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে জেরা করা হয়েছে। রোববার চতুর্থ দিনের মতো তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি। ইকবাল করিম ভূঁইয়া জেরায় বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল তা বলতে পারব না। যারা গুম হয়েছিল, তাদের কাউকে আমি উদ্ধারের চেষ্টা করিনি। কারণ এটা আমার দায়িত্বাধীন ছিল না এবং আমি জানতাম না, কে কখন কোথায় গুম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কে বা কারা গুম হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তর (এমআই) কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে গুম হচ্ছে মর্মে তারা আমাকে জানিয়েছে।’ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসাবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দেন। ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি শেষ করার পর তাকে প্রথম দফায় জেরা করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার বিচার চলছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এই মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। রোববার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনির জেরায় সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘গুমের সংস্কৃতি প্রতিরোধ করতে আমি অসংখ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ মর্মে দালিলিক কোনো প্রমাণপত্র দাখিল করিনি। দালিলিক কোনো প্রমাণ নেই। গুম প্রতিরোধের জন্য সুপার চিফ বা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে চিঠি পাঠাইনি বা তাকে লিখিতভাবে জানাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে কনিষ্ঠ অফিসার র‌্যাব থেকে প্রত্যাবর্তনের পরে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আমার অফিসে আসেন, তার নাম স্মরণ নেই। কত তারিখ তিনি আমার কাছে এসেছিলেন, স্মরণ নেই। ওই কনিষ্ঠ অফিসার দুজনকে হত্যা করেছেন মর্মে আমার কাছে স্বীকার করার পরিপ্রেক্ষিতে আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি। এই মর্মে কোনো সাক্ষী বা আলামত ছিল না। তার এরূপ স্বীকারোক্তি আমি রেকর্ড করিনি। উনি প্রতিটি হত্যার জন্য প্রাপ্ত যে ১০ হাজার টাকা মসজিদে দান করেছেন, সেজন্য তাকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়নি।’

আপনি উত্তরপাড়ার বিশেষজ্ঞ, আমরা দক্ষিণপাড়ার-ট্রাইব্যুনাল : জিয়াউল আহসানের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটো ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে সেনাবাহিনীর আবাসন প্রকল্প ‘জলসিঁড়ি’ নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করেন। জবাবে ইকবাল করিম জানান তিনি ওই প্রকল্পের প্রধান ছিলেন। রূপগঞ্জের ২৪টি মৌজায় জমি কেনা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী ক্যাম্পে আক্রমণ ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছিল। ঘটনার সময় জেনারেল মুবিন সেনাপ্রধান ছিলেন এবং অপারেশন পরিদপ্তর এটি নিয়ন্ত্রণ করেছিল।’ জেরার একপর্যায়ে সাবেক সেনাপ্রধানের দীর্ঘ ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনাকে এত ব্যাখ্যা দিতে হবে না। আপনি উত্তরপাড়ার এক্সপার্ট আর আমরা দক্ষিণপাড়ার এক্সপার্ট।’ জমির মূল্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল করিম বলেন, ‘বিঘাপ্রতি জমি ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকায় কেনা হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি আমার এখতিয়ারে ছিল না। এছাড়া তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো কোর্ট অব ইনকোয়ারি করা হয়নি।’

আসামি হিসাবে জিয়াউল আহসানের সম্মান চাইলেন আইনজীবী : এদিন বিচারকার্যের শুরুতে নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে অভিনন্দন জানান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা। এরপর শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জেরা পরিচালনার জন্য দাঁড়ান জিয়াউলের বোন নাজনীন নাহার। তিনিও আমিনুল ইসলামকে অভিনন্দন জানান। এ সময় চিফ প্রসিকিউটরের উদ্দেশে নাজনীন নাহার বলেন, ‘এটি একটি আদালত। আমরা চাই আদালত তেমনই হোক যেমনটা আশা করি। কারণ অতীতে তথা আগের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের সময় যেসব কিছুর মুখোমুখি হয়েছি, সেসব যেন আর না হতে হয়।’ আমিনুল ইসলামের উদ্দেশে জিয়াউলের বোন আরও বলেন, ‘আগের শুনানিতে অনেক গালগল্প বলা হতো। তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা হতো; যা আদালতের সঙ্গে মানানসই নয়। এখানে একজন আসামি (জিয়াউল আহসান) রয়েছেন। রায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে যেন সম্মান দেওয়া হয়। আশা করি আদালতের মর্যাদা রাখবেন।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘প্রসিকিউটররা বিশেষ কোনো সুবিধা পান বলে আমি মনে করি না। অতএব আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে এমন কিছু হবে না।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম