কনসার্ট ফর সলিডারিটি
তারুণ্যের উচ্ছ্বাস মানিক মিয়া এভিনিউতে
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শনিবার বিকালে আয়োজন করা হয় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সংগীতানুষ্ঠান ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’। মঞ্চে গাইবেন দেশের প্রথিতযশা শিল্পীরা-এমন খবরে দুপুর গড়াতেই ভিড় করেন সংগীতপ্রেমী মানুষেরা। ছুটে আসেন বিভিন্ন এলাকা থেকে। বিকালে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর শিল্পীদের পরিবেশনা ও সামনে হাজারো দর্শক-শ্রোতার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। জনপ্রিয় শিল্পী ও সুরের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা। কেউ হাততালি দিচ্ছেন, কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন প্রিয় শিল্পীর পরিবেশনা। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পরিণত হয় বিশাল এক সংগীতের আসরে। গান, করতালি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠে মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকা।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ কনসার্টে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা)। এতে সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেয় নগর বাউল (জেমস), মাইলস, ওয়ারফেজ, ফিডব্যাক, আর্টসেল, শিরোনামহীন ও মেকানিক্সের মতো খ্যাতনামা ব্যান্ড। কনসার্টের আগে বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই আমাদের এই আয়োজন। আমরা প্রতিটি জেলার শিল্পকলা একাডেমিতেও নানা প্রোগ্রামের আয়োজন করেছি, যেন মানুষ আনন্দ করতে পারে এবং বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করতে পারে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা-সংগীতের মাধ্যমে ঐক্য, সম্প্রীতি, সংহতি ও উদার চেতনার বাংলাদেশের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর তৈরি করাও ছিল আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। আগামীর সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে লেখক, শিল্পীসহ সব মানুষের সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও কামনা করেন তারা।
বামবার সহসভাপতি ও ওয়ারফেজ ব্যান্ডের শেখ মনিরুল আলম টিপু বলেন, বামবা যখনই কোনো কনসার্টে যুক্ত থাকে সেটা আমাদের নিজেদের ঘরের আয়োজন। সেখানে আনন্দ, পরিবেশ এবং ডিসিপ্লিন সম্পূর্ণ আলাদা থাকে। আমরা সবসময় ব্যান্ড নির্বাচন থেকে শুরু করে সাউন্ড, লাইট, স্টেজ লজিস্টিকস এবং নিরাপত্তার একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখার চেষ্টা করি। যেন দর্শক-শ্রোতারা কনসার্টে এসে একটি উৎসবের মেজাজ পান এবং সানন্দে গান উপভোগ করতে পারেন।
আলোচনা শেষে একের পর এক ব্যান্ডের মঞ্চে উঠার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শকদের উন্মাদনা। বিশেষ করে জেমস, মাইলস ও ওয়ারফেজের পরিবেশনা ঘিরে তৈরি হয় বাড়তি আনন্দ। অনেকের কাছে এ আয়োজন ছিল প্রিয় ব্যান্ডকে সরাসরি দেখার পাশাপাশি পছন্দের গান একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ। উন্মুক্ত স্থানে এত বড় পরিসরে ব্যান্ড সংগীতের এ আয়োজন শুধু একটি কনসার্টেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, হয়ে উঠেছিল বিভিন্ন বয়সি মানুষের সংগীতের মিলনমেলা।
হেভি মেটাল ব্যান্ড ‘মেকানিক্স’-এর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টায় কনসার্ট শুরু হয়। তারা দেশকে উৎসর্গ করে ‘অপরাজেয়’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করে। এরপর প্রয়াত ও সাবেক সদস্যদের স্মরণে তারা পরিবেশন করে ‘নিয়তি’। পাশাপাশি ‘ছিন্ন পৃষ্ঠা’, ‘শুভ্র শহর’ এবং তাদের প্রথম অ্যালবামের সুপারহিট গান ‘বিস্ময়’ গেয়ে দর্শকদের মাতায় ব্যান্ডটি। মেকানিক্সের দলনেতা ও ভোকালিস্ট আফতাবুজ্জামান ত্রিদিব গান পরিবেশনার আগে বলেন, সমাজের নানা অসংগতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গানের মাধ্যমেই আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে যেতে চাই।
এরপর মঞ্চে উঠে ব্যান্ড শিরোনামহীন। তারা ‘পাখি’ গানের পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘দুর্গম গিরি কান্তার-মরু’, ‘মা’, ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’ এবং ‘এই অবেলায়’, ‘আবার হাসি’ গানগুলো কনসার্টে পরিবেশন করে।
শিরোনামহীনের পর মঞ্চে পারফর্ম করে ‘আর্টসেল’, ‘ফিডব্যাক’ ‘ওয়ারফেজ’, ‘মাইলস ও ‘নগরবাউল জেমস’। ওয়ারফেজ ৭ নভেম্বর উপলক্ষ্যে সাতটি গান পরিবেশন করে। রাত ১০টার পর মঞ্চে আসেন জেমস। তিনি তার জনপ্রিয় গানগুলোর পরিবেশ করেন।
