জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা * জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা : রিজভী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। শনিবার এ দিবস উপলক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুপুরে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে দুই নেতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তিনি পরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বাবা-মায়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিছুক্ষণ একা নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে নেতাদের নিয়ে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী জিয়া উদ্যান ত্যাগের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির নেতারা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তীতে পৃথকভাবে বিএনপি অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জিয়া উদ্যানে শ্রদ্ধা জানাতে আসা নেতাকর্মীদের ঢল নামে।
শ্রদ্ধা জানানো শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত ধারা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়েই এ দেশের মানুষ জুলাইয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনার মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত ধারা। এই চেতনা ধারণ করেই দেশের মানুষ গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছে। তিনি বলে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে পায়। তার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ উন্নয়ন ও উৎপাদনে এগিয়ে যায়। খাল খনন, স্বনির্ভর কর্মসূচি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং সাক্ষরতা অভিযানের মধ্য দিয়ে জাতি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, কোথাও কোথাও গলির ভেতর থেকে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এসব কর্মকাণ্ড-নির্দেশনা আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, জনগণ এসব অপচেষ্টা যথাযথভাবে প্রতিহত করবে। সরকার এ ব্যাপারে সদা প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডও জনগণ পর্যবেক্ষণ করছে। জনগণ এসব বিষয় কখনো ক্ষমা করবে না।
এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এদিনে বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। সারা দেশের জেলা ও উপজেলা শাখাগুলোও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া বিএনপির সহযোগী সংগঠন ও স্থানীয় শাখাগুলো আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফটো প্রদর্শনী, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং অনাথ শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মতো নানা আয়োজন করে।
ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় : ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় আগে থেকেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পল্টনসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্পর্শকাতর পয়েন্টে মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি বসিয়ে সন্দেহভাজন বিভিন্ন যানবাহন ও পথচারীদের তল্লাশি করা হয়। রাজধানীর নয়াপল্টন, শেরেবাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যান (জিয়া উদ্যান), জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, পুরানা পল্টন, কাকরাইল, বিজয় সরণিসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ, এপিবিএন ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন ছিল।
সরেজমিন দেখা গেছে, নিরাপত্তার সার্বিক দিক বিবেচনা করে ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ভোর থেকেই নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসাবে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ যেমন-গাবতলী, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার ও সায়েদাবাদ এলাকায় অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহন ও পথচারীদের তল্লাশি চালানো হয়। জনসমাবেশ ও শোভাযাত্রার রুটগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের দিনভর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। শোভাযাত্রা ও বড় জমায়েতের স্থানে সাময়িক রুট ডাইভারশন দিয়ে যান চলাচল সীমিত করা হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) আকতার হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
