Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

জনপ্রিয় হচ্ছে দোহার নবাবগঞ্জের পিচফল

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও

Advertisement

Icon

কাজী সোহেল, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জনপ্রিয় হচ্ছে দোহার নবাবগঞ্জের পিচফল

Advertisement

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যাচ্ছে দেশীয় পিচফল বা কাঠলিচু। ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জের প্রায় সব বাড়িতেই গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে দেশীয় এই ফল। এটি এতই জনপ্রিয় যে রাজধানীর ফলের দোকানগুলোতে এর দেখা মিলে। এমনকি বিদেশেও যাচ্ছে এক সময়কার অবহেলিত লিচু আকৃতির মিষ্টি ফলটি। দোহার-নবাবগঞ্জের অলিগলি থেকে শুরু করে নামিদামি ফলের দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে এটি। তবে চাহিদা বাড়লেও দিন দিন গাছ উজাড় হয়ে যাওয়ায় হুমকিতে ঢাকাইয়া এই ফলটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা তথা দেশের ঐতিহ্যবাহী এলাকা হিসাবে পরিচিত দোহার-নবাবগঞ্জের রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায় কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে সর্বত্রই দেখা যায় মশারি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে বিশেষ কিছু গাছের উপরিভাগ! গাছের মাথায় মশারি দেখে প্রথমে খটকা লাগলেও কাছে যেতেই চোখের সামনে ধরা পড়ল রসালো ও সুস্বাদু মিষ্টি কাঠলিচু। রং কাঠের মতো আর দেখতে কিছুটা লিচুর মতো বলে ভিন্ন স্বাদের এই ফলটিকে অধিকাংশ মানুষ কাঠলিচু হিসাবে চিনলেও নবাবগঞ্জ-দোহারের মানুষ এটিকে পিচফল বলেই ডাকেন। আর পিচফল নিয়ে গৌরবের শেষ নেই এই এলাকার মানুষের। ফলটির দাম কম হওয়ায় রাস্তা-ঘাটসহ সব জায়গায়ই পাওয়া যায়। এক আটি বা ছড়া ৪০ থেকে ১০০ টাকা আবার কেজি হিসেবে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গাছ রোপণ করেই পাওয়া যায় পিচফল। দেওয়া লাগে না কোনো প্রকার সার বা ওষুধ, করা লাগে না পরিচর্যা। নিজে নিজেই গাছে ফুল, ফুল থেকে ফল হয়। কোনো খরচ না থাকা এবং এই ফলের পুরোটাই লাভজনক হওয়ায় এর পরিধি দিনদিন বাড়ছে। প্রতিদিন সকালে নবাবগঞ্জ সদর কাশিমপুর এলাকায় বসে এই ফলের পাইকারি বাজার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ তাদের গাছে ধরা এই ফলটি বিক্রি করতে চলে আসেন এই বাজারে। এখান থেকে পাইকাররা ফলটি কিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার বা জনসমাগমে বিক্রি করেন। এমনকি রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির উদ্দেশে পাঠানো হয় এটি।

নবাবগঞ্জ বাজারের পাইকারি ফল বিক্রেতা আবদুল করিম জানান, পিচফল দোহার-নবাবগঞ্জের ফল, এখন ফলটির জনপ্রিয়তা বাড়ায় অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন বাণিজ্যিক চাষে। তিনি বলেন, নবাবগঞ্জের ফল দেশ-বিদেশে সুনাম কুড়াচ্ছে শুনতেই ভালো লাগে। লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই বাজারে লিচুর জায়গা দখলে নেয় ফলটি। সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় লাভবান হচ্ছেন গাছের মালিক, মৌসুমি পাইকার ও খুচরো ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, কেউ গাছ লাগিয়ে, কেউ কিনে, আবার কেউ খুচরা বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। তবে অনেকেই বলছেন, পিচফলের জনপ্রিয়তা বাড়লেও সে হিসাবে গাছ বাড়ছে না। তেমন পরিচর্যা ছাড়াই দ্রুত সময় অধিক ফল দেওয়া গাছটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া গেলে এই ফল দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসমা জাহান বলেন, পিচফল দোহার-নবাবগঞ্জের একটি নিজস্ব ফল হিসাবে দেশবিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কম সময়ে অধিক ফল দেওয়া এবং জলবায়ু সহিষ্ণু হওয়ায় এটি বাণিজ্যিকভাবে দেশের যে কোনো জেলায় চাষাবাদ করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি। লিচুর বিকল্প হিসাবে ফলটি খাওয়া যায়। সম্পূর্ণ ফরমালিনমুক্ত এই ফলটির দামও কম। তাই সবাই কিনে খেতে পারে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ব্যয় ৩০০ কোটি টাকা সাত পৌরসভার মডেল ৭০টিতে সম্প্রসারণ

সাত পৌরসভার মডেল ৭০টিতে সম্প্রসারণ

ঝিনাইদহে ১১২৯ হেক্টর জমিতে চাষ কৃত্রিম আলোতে অফসিজনে ড্রাগন উৎপাদন

কৃত্রিম আলোতে অফসিজনে ড্রাগন উৎপাদন

কুমিল্লায় হুন্ডি রাসেলের রাজত্ব মাসে অর্ধশত কোটি টাকা ভারতে পাচার

মাসে অর্ধশত কোটি টাকা ভারতে পাচার

সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা উপেক্ষা তালিকায় নেতার স্ত্রী কন্যা শ্বশুর শ্যালক

তালিকায় নেতার স্ত্রী কন্যা শ্বশুর শ্যালক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম