ঝিনাইদহে ১১২৯ হেক্টর জমিতে চাষ
কৃত্রিম আলোতে অফসিজনে ড্রাগন উৎপাদন
Advertisement
রাশেদুল ইসলাম, জাবি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সন্ধ্যা নামতেই ঝিনাইদহের গ্রামীণ জনপদে দেখা যায় অন্যরকম দৃশ্য। সারি সারি ড্রাগন গাছের পাশে জ্বলছে বৈদ্যুতিক বাতি। অন্ধকার মাঠে দূর থেকে মনে হয়, জ্বলছে অসংখ্য আলোকবিন্দু। এটি কোনো উৎসবের আয়োজন নয়; শীতেও ড্রাগন ফল উৎপাদনের আশায় কৃষকদের বিশেষ উদ্যোগ। কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে গাছে ফুল ও ফল ধরানোর এ পদ্ধতির নাম ‘ফটোপিরিয়ড ম্যানিপুলেশন’। অফসিজনে ফল উৎপাদন করে বেশি দাম পাওয়ার আশায় এ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা।
দেশে ড্রাগন ফলের প্রধান উৎপাদন মৌসুম মে থেকে অক্টোবর। শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ায় গাছের ফুল ও ফল উৎপাদনের ধরনে পরিবর্তন আসে। এ সময় কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে গাছের আলো পাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ করে ফুল ফোটানো ও ফল উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়। কৃষকদের প্রত্যাশা, মৌসুমের বাইরে ফল বাজারজাত করতে পারলে আয় বাড়বে, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
ঝিনাইদহের মহেশপুর, হরিণাকুণ্ডু, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর উপজেলায় ড্রাগন বাগানে এ পদ্ধতির ব্যবহার করা হচ্ছে। সরেজমিন মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, সারি সারি সিমেন্টের খুঁটিতে ড্রাগন গাছের ডালপালা ছড়িয়ে রয়েছে। খুঁটির পাশে বসানো বৈদ্যুতিক বাতি সন্ধ্যার পর জ্বালানো হয়। নির্দিষ্ট সময় আলো দিয়ে গাছে ফুল আসার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন চাষিরা। মহেশপুরের গৌরীনাথপুরের কৃষি উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম ছয় বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। এর আগে এলাকায় বাদাম ও আম ছাড়া তেমন কোনো ফলের চাষ হতো না। বর্তমানে গ্রামের বেশির ভাগ কৃষক কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে অফসিজনে ড্রাগন চাষ করছেন। তাদের দাবি, এতে বাজারে ভালো দামে ফল বিক্রির সুযোগ মিলছে। কোটচাঁদপুরের এড়ান্দাহ গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মো. মেহেদী হাসান তিন বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করছেন। বাগানে কৃত্রিম আলো ব্যবহার শুরু করলেও এখনো ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। মেহেদী হাসান বলেন, ‘লাইটিং চালুর মাসখানেক পর ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’ তবে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় জেনারেটর দিয়ে বাগানে আলো জ্বালাতে হচ্ছে তাকে। এতে বাড়ছে জ্বালানি খরচ। তিনি বলেন, ‘প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দুই লিটার তেল লাগছে। তেলের দাম বেশি হওয়ায় খরচ নিয়ে চিন্তায় আছি।’ কৃষকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ বাজারদর। স্বাভাবিক মৌসুমে সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কমে যেতে পারে। শীতকালে দেশীয় ড্রাগন ফলের সরবরাহ কম থাকলে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। তবে এ পদ্ধতি সফল করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও মানসম্মত উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কোন জাতের গাছে কৃত্রিম আলো কার্যকর, কতক্ষণ আলো দিতে হবে এবং কীভাবে বিদ্যুৎ খরচ কমানো যায়, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা প্রয়োজন। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎচালিত আলোকব্যবস্থার সম্ভাব্যতা যাচাই, সহজ শর্তে ঋণ ও ফল সংরক্ষণের সুবিধা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, জেলায় দিন দিন ড্রাগন ফলের চাষ ও চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে ১ হাজার ১২৯ হেক্টর জমিতে এ ফলের চাষ হচ্ছে। বাজারেও রয়েছে ভালো চাহিদা। কৃষকদের ফলের জাত ও মান উন্নয়নে কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
