Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

রাজশাহীর শাহদৌলা ডিগ্রি কলেজ

বহালতবিয়তে স্বঘোষিত অধ্যক্ষ, মাউশি চুপ

ক্ষমতার দাপটে চেয়ার দখলের প্রমাণ মিলেছে * ভয়ে প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছে না কেউ

Advertisement

তানজিমুল হক

তানজিমুল হক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বহালতবিয়তে স্বঘোষিত অধ্যক্ষ, মাউশি চুপ

Advertisement

রাজশাহীর বাঘায় শাহদৌলা সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বহালতবিয়তে রয়েছেন। তিনি নিজেকে জিয়া পরিষদের নেতা বলে দাবি করেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই পদ দখল করেন। আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক নিজেকে এখনো বৈধ বলে দাবি করে আসছেন। এই হিসাবে কলেজটিতে এখন দুজন অধ্যক্ষ। তবে চেয়ার দখলের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এক শিক্ষক। এ ব্যাপারে মাউশির তদন্ত কমিটি জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের সত্যতা পেলেও পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়নি। তারা একপ্রকার চুপ রয়েছে।

জানা যায়, জাহাঙ্গীর অধ্যক্ষের পদ দখল করে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিজেকে বাঘা উপজেলার জিয়া পরিষদের সাবেক কৃষিবিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচয় দেন। তার ভয়ে তটস্থ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। আবু বক্কর সিদ্দিকের দাবি, মব সন্ত্রাসের কারণে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।

দায়িত্ব পালনে মাউশির অনুমতির ব্যাপারে প্রশ্ন তুললে কোনো জবাব দেননি জাহাঙ্গীর। তিনি নিজেকে বৈধ অধ্যক্ষ দাবি করে বলেন, মব সৃষ্টি নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপে তিনি কলেজটির দায়িত্ব নিয়েছেন। দুজনের বিরুদ্ধেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলটির নেতাদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে। তবে সিদ্দিক ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন বলে স্বীকার করেছেন।

মাউশির তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক কালাচাঁদ শীল বলেন, ‘জ্যেষ্ঠতার তালিকা চেয়েছিল মাউশি। আমরা সেটি দিয়েছি। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর্থিক লেনদেনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন আবু বক্কর সিদ্দিক। আর দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দিক দেখছেন জাহাঙ্গীর আলম। আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিয়েছি। তবে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানি না।’ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদ দখলকারী জাহাঙ্গীর তার নিয়োগের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বিধি লঙ্ঘন করে তিনি নিজের নামে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সিল বানিয়েছেন। অধ্যক্ষের তালিকা বোর্ডে নাম যুক্ত করেছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের বার্ষিক গোপনীয় রিপোর্ট (এসিআর) তিনি নিজেই দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ভর্তিসহ অস্থায়ী নিয়োগে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তবে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি জ্যেষ্ঠতার দিক দিয়ে দুই নম্বরে আছি। রাজনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের চাপে সিদ্দিক পদত্যাগ করেছেন।’ তিনি স্বীকার করেন, দায়িত্ব পালনের কাগজপত্র মাউশিতে পাঠালেও এখনো নির্দেশনা আসেনি।

এ ব্যাপারে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ফোন করা হলে তিনি কেটে দেন। তবে মাউশির রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘বিষয়টি মহাপরিচালক স্যার দেখবেন। তবে আমার কার্যালয়ে অভিযোগ এলে, আমি তা মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেব। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ব্যয় ৩০০ কোটি টাকা সাত পৌরসভার মডেল ৭০টিতে সম্প্রসারণ

সাত পৌরসভার মডেল ৭০টিতে সম্প্রসারণ

ঝিনাইদহে ১১২৯ হেক্টর জমিতে চাষ কৃত্রিম আলোতে অফসিজনে ড্রাগন উৎপাদন

কৃত্রিম আলোতে অফসিজনে ড্রাগন উৎপাদন

কুমিল্লায় হুন্ডি রাসেলের রাজত্ব মাসে অর্ধশত কোটি টাকা ভারতে পাচার

মাসে অর্ধশত কোটি টাকা ভারতে পাচার

সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা উপেক্ষা তালিকায় নেতার স্ত্রী কন্যা শ্বশুর শ্যালক

তালিকায় নেতার স্ত্রী কন্যা শ্বশুর শ্যালক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম