জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সভা আজ
ক্যাডারভুক্ত হতে যাচ্ছেন এলজিইডি’র প্রকৌশলীরা
তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কাগজপত্র চেয়েছি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে-অতিরিক্ত সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলীদের পেশাগত ক্যাডারভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছয় শতাধিক প্রকৌশলীকে ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে আজ (রোববার) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডাকা হয়েছে। এতে জনপ্রশাসন, আইন, অর্থ, লেজিসলেটিভ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বর্তমান ২৫ ক্যাডারকে কমিয়ে প্রশাসনকে আরও ছোট করতে চেয়েছে। বর্তমান সরকার তার বিপরীতে আরও একটি পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানকে ক্যাডারভুক্ত করতে চাচ্ছে। তারা আরও জানান, গত সরকারের সময় বিসিএস ট্রেড ক্যাডার, সমবায় ক্যাডার এবং তথ্য ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে মার্জ করার জন্য কিছু কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মো. মোস্তফা জামান বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীদের পেশাগত ক্যাডারভুক্ত করার একটি আবেদন পেয়েছি। এরপর তাদের কাছে সরকার কিছু তথ্য চেয়েছে। তারা চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র সরবরাহ করলে সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে। তিনি আরও বলেন, যতদূর মনে পড়ে, ২০০৫ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বর্তমান এলজিইডি ভবন উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রকৌশলীদের ক্যাডারভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরেই তারা আবেদন করেছেন। মোস্তফা জামান আরও বলেন, তাদের মধ্যে অনেক সমস্যা আছে। বিশেষ করে সিনিয়রিটি নির্ধারণ নিয়ে এক ধরনের সমস্যা বিদ্যমান। এছাড়া প্রকল্প থেকে যারা চাকরিতে নিয়মিত হয়েছেন তাদেরও সমস্যা রয়েছে। সব কিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
জানতে চাইলে সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘প্রকৌশলীদের কোনো একটি সংগঠনের কর্মকর্তাদের ক্যাডারভুক্ত করার আগে তাদের দক্ষতা ও জনসেবায় তাদের অবদান বিচার করতে হবে। তারা যদি দক্ষ হন এবং তাদের কর্ম যদি জনস্বার্থে সম্পন্ন হয়, তাহলে তাদের ক্যাডারভুক্ত করা দোষের কিছু নয়।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘তবে তাদের মধ্যে সিনিয়রিটি নিয়ে মনোবেদনা রয়েছে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সম্মতি ছাড়া অনেক প্রকৌশলী সিনিয়রিটি নিয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে কী হবে তা পরিষ্কার করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পিএসসির সুপারিশ ছাড়া প্রকল্পের প্রকৌশলীদের চাকরিতে নিয়মিত করা হয়েছে। উল্লিখিত ক্ষেত্রে তাদের কাউকে ক্যাডারভুক্ত করা হলে কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণ বেশি হবে বলে আমি মনে করি। আশা করি সরকার বিষয়টি নিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেবে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন বলেন, ২০০৫ সালে এই বিভাগের প্রকৌশলীদের ক্যাডারভুক্ত করার ঘোষণা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার ঘোষণার পর জনপ্রশাসন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বেশ কিছু চিঠিপত্র চালাচালি হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় কাজটি আর এগোয়নি। বিগত ১৭ বছর আমরা বহুবার চেষ্টা করেছি; কিন্তু বিগত সরকার বিষয়টি আমলেই নেয়নি। বেলাল হোসেন আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীরা দায়িত্ব পালন করেন। জেলা ও উপজেলায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশলীরা ক্যাডার কর্মকর্তা। শুধু স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীরা নন-ক্যাডার। এর ফলে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীরা হীনম্মন্যতায় ভোগেন। বিষয়টি আরও আগেই সুরাহা করা উচিত ছিল। আশা করছি সরকার বিবেচনা করবে।
অপরদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগে এলজিইডির প্রকৌশলীদের পেশাগত ক্যাডারভুক্ত করার জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হয়েছে। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের প্রতিনিধি, অর্থসচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সরকারি কর্মকমিশনের সচিব, লেজিসলেটিভ এবং সংসদ বিভাগের সচিবের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগের প্রতিনিধি, সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের প্রতিনিধি এবং যুগ্ম সচিব বিধিকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে বিগত সরকারের সময় ট্রেড ক্যাডার, সমবায় ক্যাডার এবং তথ্য ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে মার্জ করা নিয়ে বেশ কিছু কাজ হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রেড ক্যাডারে বর্তমানে মাত্র ২০ জন কর্মকর্তা কর্মরত। এছাড়া সমবায় ক্যাডারে কর্মরত কর্মকর্তার সংখ্যা ১৯৬ জন। তথ্য ক্যাডারের বিভিন্ন শাখায় কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাতশ।

