প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা
সব হারানোর শঙ্কায় বাদ পড়া প্রার্থীরা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জটিলতা কাটছে না। ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের নথি পুনরায় যাচাই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের একটি অংশ। একই সঙ্গে নিয়োগপত্র আটকে থাকা প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা এসব দাবি জানান। তাদের দাবি, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের সময় কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তারা দাবি করেন, প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের নিয়োগপত্র এখনো ইস্যু হয়নি।
তবে নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শনিবার মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে জানানো হয়, ১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেলে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দ্রুততম সময়ে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। সরকারি নিয়োগে ভেরিফিকেশন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ জেসমিন নাহার, অতিরিক্ত সচিব মনোয়ারা ইশরাত, অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আট মাস অপেক্ষার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনেকেই আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। কেউ আগের চাকরি ছেড়েছেন, কেউ অন্য চাকরিতে যোগ দেননি। আবার অনেকের সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমাও শেষের দিকে। এ অবস্থায় ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া সব প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে-চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ও কীভাবে এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা। তবে বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা কোনো অনিয়মকারী বা অযোগ্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না। তাদের দাবি, প্রশাসনিক ভুল বা ভুল তথ্যের কারণে কোনো নিরপরাধ ও যোগ্য প্রার্থী যেন বঞ্চিত না হন।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত করা হয়। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টের কার্যক্রম শেষ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে সময়ক্ষেপণ হয়। একাধিক দফায় ভেরিফিকেশন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে নিয়োগ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লাগছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
যশোর ব্যুরো জানিয়েছে, যশোরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ১০৬ প্রার্থী। ২০২৫ সালের এ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন ২৯০ জন। তাদের মধ্যে ১৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে বাকিদের কেন দেওয়া হয়নি, তার কারণ জানানো হয়নি। এ ঘটনায় শনিবার সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় চত্বরে বাদ পড়ারা অবস্থান নেন। কর্মকর্তাদের সাড়া না পেয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এতে অভিভাবকরাও অংশ নেন। এ সময় তারা বাদ পড়াদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসেন যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ-সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং বাদ দেওয়ার কারণ জানানো হবে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বাদ পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায় আবেদনে তিনি সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ওই উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ জনের মধ্যে তিনি ৫৪তম হয়েছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, এ জেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৩৭১ জনের মধ্যে ৭২ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানিয়ে নিয়োগের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন বাদ পড়ারা। শনিবার নিয়োগবঞ্চিতরা এ দাবিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
