চুয়েট আন্দোলন
নতুন ভিসির মেইলে আটকে যাওয়া বেতন বিক্ষোভের মুখে ছাড়
Advertisement
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় আটকে গিয়েছিল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন। তবে ব্যাংক ঘেরাও করে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার দুপুরের দিকে বেতন ছাড় হয়েছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। শিক্ষার্থীরা পুরোনো ভিসি ড. আবু সাদাত সায়েমের পুনর্বহালের দাবি ও নতুন ভিসি শেখ শরীফুল আলমের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। শিক্ষার্থীরা নতুন ভিসি কীভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তা দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
জানা গেছে, সাধারণত মাস শেষ হওয়ার আগেই ২৯-৩০ বা ৩১ তারিখের মধ্যেই চুয়েটের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন পেয়ে যান। কিন্তু নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ইমেইল পাঠান। সেখানে বলা হয়-উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানো ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’। তিনি চুয়েট আইন ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭)-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যে কোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। এ অবস্থায় ৩০ তারিখে বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও উপাচার্যের চিঠির কারণে ব্যাংক ব্যবস্থাপক তাদের বেতনের টাকা ছাড় করেননি। ৬ অক্টোবরও আবার মেইল পাঠান নতুন উপাচার্য। তার এসব মেইলের পর বেতন-ভাতা আটকে যায় বলে জানান সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক। বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়।
এদিকে বেতন আটকে যাওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা এর প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টা থেকে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। চুয়েট কর্মচারী সমিতির সদস্যরা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের বেতন পরিশোধ করা হয়। পরে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে এক হাজার ৮৭ জন রয়েছেন। চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, চুয়েটের চিরাচরিত নিয়ম অনুসারে কম্পট্রোলার ও সহকারী কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরেই বেতন-ভাতা দেওয়া হতো। কিন্তু এবার নতুন উপাচার্য ব্যাংকে চিঠি দিয়ে বেতন আটকে দিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে আমরা ব্যাংক ঘেরাও করে অবস্থান নিই। এরপর আমাদের বেতনের মেসেজ এসেছে।
এদিকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসতে পারেন-এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে বেতন-ভাতা আটকে ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রতিবাদে বিকালে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মিছিল শেষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ বলেন, ‘আজকে এই চুয়েট ক্যাম্পাস থেকে আমরা একটি ঘোষণা দিতে চাই, সেটি হচ্ছে-মাননীয় নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম, আপনি আমাদের কথা মন দিয়ে শুনুন; আমরা আপনাকে পরিপূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আপনি কীভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন, সেটা আমরা দেখে নেব।’
একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালুর আহ্বান সাবেক শিক্ষার্থীদের : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীরা। বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘চুয়েটের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে করা এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। এ সময় ১৫ দিন ধরে বন্ধ থাকা একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে চুয়েট কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ইলিয়াস হোসেন, সাবেক জিএস শফিকুল ইসলাম খান, সাবেক জিএস রিয়াসাত হাসান সুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
