ভৈরবে তোলপাড়
অর্থের বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দিলেন ওসি
Advertisement
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভৈরব থানা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে তিনি আরিয়ান খুলুদ নামে আসামিকে ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এ নিয়ে দুদিন ধরে তোলপাড় চলছে ভৈরবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসামি আরিয়ান খুলুদের বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সোমবার পর্তুগাল যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভৈরব থানা পুলিশকে অবগত করেন। পরে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক শক্তি পদ মৃধা ওই আসামিকে থানায় নিয়ে আসেন। এরই মধ্যে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটি প্রভাবশালী মহল ওসি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে থানা থেকে আরিয়ান খুলুদকে গভীর রাতে ছাড়িয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি খুবই গোপন রাখা হয়। গণমাধ্যম কর্মীরা যাতে ঘটনা জানতে না পারে এ ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন ওসি। শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার আরিয়ান খুলুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ৪টি মামলা রয়েছে। আদালতে জামিনের রি-কলে দেখা যায়, আরিয়ান খুলুদ ৩ মে আদালতে হাজির হলে কিশোরগঞ্জ দায়রা ও জেলা জজ আদালতের বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্তিলাভ করেন। দীর্ঘদিন ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও রিকলটি ভৈরব থানায় জমা হয়নি। সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর স্বাক্ষরবিহীন একটি রিকলের অজুহাতে আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ খবর ফাঁস হওয়ার পর আদালতের স্বাক্ষর বিহীন রিকলটি গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা ভৈরব থানা পুলিশের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। ভৈরব থানার এসআই শক্তি পদ মৃধা এই মামলার রিকল থানায় জমা ছিল না নিশ্চিত করে বলেন, রাতে রিকলটি থানায় জমা দেওয়া হলে ওসি স্যার তা যাচাই-বাছাই করেন। যাচাই-বাছাই করে রিকলটি সঠিক হওয়ায় এসপি স্যারের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, পাসপোর্ট লক থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। আসামিকে ভৈরব থানায় নিয়ে এসে যাচাই-বাছাই করে দেখলাম তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযোগ বা ওয়ারেন্ট নেই। আগের একটি মামলায় ৫ মাস আগে জামিনে আছে, যার রি-কল থানায় রয়েছে। এ কারণে আমরা খুলুদকে ছেড়ে দেই। রিকলে বিচারকের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়ে ওসি বলেন, রিকলটি আমার কাছে আগে থেকেই ছিল। আমি তো আদালত থেকে খবর নিয়েছি সে অনেক আগে থেকে জামিনে আছে। রিকলে বিচারকের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়টি ভুল হতে পারে। পরে স্বাক্ষরযুক্ত রি-কল হাতে পেয়েছি। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, টাকার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং কাল্পনিক। কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শৈলী বলেন, আমরা কোর্ট থেকে মূল রি-কলটি আনার ব্যবস্থা করেছি এবং ফোনে যাচাই-বাছাই করেছি রিকলটি সঠিক আছে। আসামির বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আছে, ৪টিতেই সে জামিনে আছে। তাই তাকে ওসি ছেড়ে দিয়েছে।
