একনেকে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা
তিন বছরে সড়কের ক্ষতি হলে দায়ী ঠিকাদার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে সড়ক। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবাসিক এলাকায় সড়ক নির্মাণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। প্রয়োজন অনুযায়ী সড়কজুড়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রেখেই ভবিষ্যতে সড়ক নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্মাণের পর তিন বছরের মধ্যে সড়ক বা অন্য কোনো অবকাঠামোয় বড় ধরনের ত্রুটি বা ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তা ঠিক করে দিতে হবে। এজন্য প্রকল্পের চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বুধবার এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন যে কোনো ধরনের অবকাঠামো, স্থাপনা ও রাস্তাঘাট নির্মাণে টেকসই ও গুণগত মানকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো সড়ক নির্মাণের পর তিন বছরের মধ্যে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে ঠিকাদারকে সেটি পুনরায় ঠিক করে দিতে হবে। এজন্য চুক্তিতে প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি বা দায়বদ্ধতার শর্ত রাখা হবে।
তিনি বলেন, এটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয় নয়। নির্মাণের মানের কারণে বড় ধরনের ক্ষতি হলে ঠিকাদারকেই তার দায়িত্ব নিতে হবে। গ্রামীণ পর্যায়ে সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকাকে বড় সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে অনেক ক্ষেত্রে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে আবাসিক এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া যে কোনো সড়কের পরিকল্পনায় প্রয়োজন অনুযায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ড্রেনেজের সুবিধা না রেখে ভবিষ্যতে আর কোনো সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হবে না। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু ড্রেন নির্মাণ করলেই হবে না; ড্রেন বা পয়োনিষ্কাশন লাইন দিয়ে পানি কোথায় যাবে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। নদীতে পানি যাওয়ার আগে পরিশোধন ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ জন্য এসটিপির সঙ্গে পয়োনিষ্কাশন লাইনকে সমন্বিতভাবে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় শুধু অবকাঠামোর মান নয়, প্রকল্পের ব্যয় কমানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে গাড়ি কেনার ব্যবস্থা বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরামর্শক ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জনবল থাকার পরও অপ্রয়োজনীয়ভাবে পরামর্শক ব্যয় বাড়ানো যাবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে মিটারগেজ রেলপথের পরিমাণ প্রায় ৬৫ শতাংশ। প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভের ঘাটতির কারণে ইতোমধ্যে কিছু রুট স্থগিত, বাতিল বা কমিয়ে দিতে হয়েছে। পণ্য পরিবহণেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্তমানে আরও প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি লোকোমোটিভের প্রয়োজন রয়েছে। প্রথম ধাপে ৩০টি লোকোমোটিভ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রামপাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পসহ ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। একনেকে মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদিত এই অর্থায়নের মধ্যে সরকারি খাত থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রকল্প ঋণ হিসাবে মিলবে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজেদের তহবিল থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করবে। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি একেবারে নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প হিসাবে স্থান পেয়েছে।
