ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
নিপীড়নবিরোধী স্মৃতিস্তম্ভ ‘আর্তনাদ’ উদ্বোধন
Advertisement
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে চলা রাজনৈতিক গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের স্মৃতি সংরক্ষণে ‘আর্তনাদ’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে। নিপীড়নের সেই অন্ধকার অধ্যায়কে স্মরণে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর ভয়াবহতা তুলে ধরতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। স্মৃতিস্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। আর নামকরণ করেন ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান। স্থাপত্যটির নকশা করেছেন স্থপতি নাজমুল ও তার দল। স্মৃতিস্তম্ভটির পূর্ণ নাম ‘আর্তনাদ-নীরব ক্রন্দন’। এটি নির্মাণ ও বাস্তবায়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘আর্তনাদ-নীরব ক্রন্দন’ স্মৃতিস্তম্ভের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন তিনি। প্রবন্ধে স্থাপনাটির ভাবনা ও প্রতীকী তাৎপর্য তুলে ধরেন তিনি। এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেন ডাকসুর ছাত্র পরিবহণ সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজাহারুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, আনাস ইবনে মুনির, জহুরুল হক হলের ভিপি আহসান হাবিব ইমরোজ এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের জিএস ইমামুল হাসান।
অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বলেন, ‘আবরার ফাহাদকে হারানোর কষ্ট একজন বাবা হিসাবে কখনোই ভুলতে পারব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবে সে তার নিজের মত প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সেই মত প্রকাশের কারণে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ ঢাবিতে ‘আর্তনাদ’ নামে যে স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হলো, এটিকে আমি শুধু একটি স্থাপনা হিসাবে দেখছি না। এটি সেই সব শিক্ষার্থীর স্মৃতি বহন করবে, যারা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।’
ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘ঢাবির হলগুলোতে যে গণরুম-গেস্টরুমের অপসংস্কৃতি চালু ছিল, সেই অপসংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চালানো হতো। অসংখ্য শিক্ষার্থী এর কারণে নির্যাতিত, অপমানিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন। অনেকের জীবনও ঝরে গেছে।’ তিনি
বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সেই কষ্ট, ভয় ও আর্তনাদকে স্মরণে রাখতেই ‘আর্তনাদ’ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।’
