গরুর খামার-কেঁচো সার উৎপাদন
স্বাবলম্বী হাসিব মিয়া উৎসাহিত অন্যরাও
Advertisement
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাকরির পেছনে না ছুটে গরুর খামার, দুধ উৎপাদন, বায়োগ্যাস ও কেঁচো সার তৈরির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরলাঠিমারা গ্রামের হাসিব মিয়া। ছয়টি গরু নিয়ে খামার পরিচালনার পাশাপাশি গোবর থেকে উৎপাদন করছেন পরিবেশবান্ধব জৈব সার। নিজের কৃষিজমিতে ব্যবহারের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সার বিক্রি করেও আয়ের সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি।
হাসিব মিয়া চরলাঠিমারা গ্রামের ছগীর গোলদারের ছেলে। ২২টি উৎপাদন ইউনিট বা চারির মাধ্যমে তিনি ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন করছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিটে বছরে আনুমানিক ১০০ কেজি সার উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। প্রতি কেজি ১২ টাকা হিসাবে ২২টি ইউনিট থেকে বছরে প্রায় ২ হাজার ২০০ কেজি সার উৎপাদন করা সম্ভব, যার সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ২৬ হাজার ৪০০ টাকা। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে উৎপাদন, বাজারদর ও পরিচালন ব্যয়ের ওপর।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ মানুষের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত ‘এলইডি থ্রিডি সলিউশন’ উদ্যোগের আওতায় পিসিআরসিবি প্রকল্প ফেইজ-২ এর মাধ্যমে সিসিডিবি, পাথরঘাটা থেকে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে সহায়তা পান তিনি। প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে জার্মানির ‘ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’। হাসিবের খামারে রয়েছে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। এর মাধ্যমে তার ছয় সদস্যের পরিবারের রান্নার কাজ চলে। পাশাপাশি গরুর দুধ বিক্রি এবং গোবর থেকে জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে একাধিক আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে গোবরের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিজমিতে জৈব সার ব্যবহারের সুযোগ বাড়ছে।
পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ বলেন, উপজেলায় ধীরে ধীরে বেকার যুবকরা গরুর খামার, কেঁচো সার ও দুধ উৎপাদনের মতো কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে এগিয়ে আসছেন। কৃষি অফিস থেকে তাদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কৃষি অফিসের দরজা সব সময় খোলা রয়েছে বলেও তিনি জানান। হাসিব মিয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। সঠিক প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে আরও তরুণ গরুর খামার, বায়োগ্যাস ও কেঁচো সার উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এতে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
