Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

জলবায়ু নিয়ে এডিবি’র প্রতিবেদন

ঝুঁকিতে উপকূলের ৪০ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যার আর্থিক ক্ষতি ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে বন্যার বার্ষিক ক্ষতি বেড়ে ১৯৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা ৭৩৯ বিলিয়ন ডলারেও পৌঁছাতে পারে। ৪০ কোটিরও বেশি মানুষের বাস সমুদ্র উপকূল থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। তাদের জীবন-জীবিকাও ঝুঁকিতে পড়বে। তবে সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজন খাতে এখনই বিনিয়োগ বাড়ালে বিপুল আর্থিক ক্ষতি এড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বুধবার প্রকাশিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬ : কোস্টাল রিস্কস অন দ্য রাইজ-অ্যাকশনস ফর আ রেজিলিয়েন্ট ফিউচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ম্যানিলায় সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩০টি উপকূলীয় অর্থনীতিতে বর্তমানে বন্যার কারণে বছরে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। যথাযথ অভিযোজন ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ২০৫০ সাল নাগাদ বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে ১৭২ বিলিয়ন থেকে ১৯৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২১০০ সালে তা বেড়ে ৫২০ বিলিয়ন থেকে ৭৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বিনিয়োগে এড়ানো সম্ভব বিপুল ক্ষতি : সংস্থার হিসাবে, উপকূলীয় সুরক্ষা ও অভিযোজন খাতে বছরে ৯ বিলিয়ন থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা গেলে ১৭৮ থেকে ৩৬০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। এডিবির জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিচালক ইয়েভগেনি জুকোভ বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অগ্রগতির অন্যতম কেন্দ্র উপকূলীয় এলাকাগুলো। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এসব এলাকার ভূমি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। জীবনযাত্রাকে নিরাপদ রাখতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এখনই দীর্ঘমেয়াদি, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর উপযোগী ও ঝুঁকিমুক্ত সমাধানের পথে হাঁটতে হবে।’

ঝুঁকিতে ৪০ কোটির বেশি মানুষ : ৪০ কোটিরও বেশি মানুষের বাস সমুদ্র উপকূল থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। তাদের জীবন-জীবিকার পাশাপাশি বন্দর, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, পর্যটনস্থল ও বিশ্ব ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ব্যাংকক, জাকার্তা, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরগুলোও উপকূলীয় বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এসব শহরে যে ধরনের ভয়াবহ উপকূলীয় বন্যা আগে ১০০ বছরে একবার ঘটত, শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা প্রতিবছর ঘটতে পারে।

অভিযোজন অর্থায়নে ঘাটতি : উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকি মোকাবিলায় অর্থায়ন বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক অভিযোজন অর্থায়ন ২০১৫ সালে ৫ বিলিয়ন ডলার ছিল। ২০২২ ও ২০২৩ সালে তা বেড়ে বার্ষিক গড়ে ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির তুলনায় এ অর্থায়নে ঘাটতি রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারগুলোকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে জলবায়ু অভিযোজন ব্যবস্থা যুক্ত করার সুপারিশ করেছে এডিবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু সরকারি অর্থের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সরকারি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং সুবিধাজনক শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে উপকূলীয় জনপদ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ১৮ মাসে ঝরেছে ২১৩ প্রাণ

১৮ মাসে ঝরেছে ২১৩ প্রাণ

‘কাঠের ক্রেন’ দিয়ে চা-বিস্কুট পরিবেশন

‘কাঠের ক্রেন’ দিয়ে চা-বিস্কুট পরিবেশন

খাদ্যপণ্যের ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হচ্ছে

নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হচ্ছে

জলবায়ু নিয়ে এডিবি’র প্রতিবেদন ঝুঁকিতে উপকূলের ৪০ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা

ঝুঁকিতে উপকূলের ৪০ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম