চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক
১৮ মাসে ঝরেছে ২১৩ প্রাণ
Advertisement
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। গত ১৮ মাসে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২১৩ জন। ৪৫ কিলোমিটার সড়কে রয়েছে ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি ও মহাসড়কে অবাধে থ্রি-হুইলার চলাচল। ফলে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ। যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৪ জন। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রাণ গেছে ৬৭ জনের। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মারা গেছেন আরও ১২ জন। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের পর্যটন, বাণিজ্য ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে প্রতিদিন চলাচল করে অসংখ্য দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও স্থানীয় যানবাহন। কর্ণফুলী সেতু থেকে চন্দনাইশের দোহাজারী শঙ্খনদী সেতু পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার সড়কে রয়েছে ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। এসব বাঁকে সামান্য অসতর্কতাও ডেকে আনছে বড় দুর্ঘটনা।
কক্সবাজার থেকে দোহাজারী সেতু পর্যন্ত ১১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা লাগে। অথচ দোহাজারী থেকে চট্টগ্রাম শহরের বাকি ৪৫ কিলোমিটার যেতে সময় লাগে আড়াই থেকে ৩ ঘণ্টা। দুই লেনের সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক এ দুর্ভোগের অন্যতম কারণ।
পটিয়ার মইজ্জার টেক, পটিয়া-আনোয়ারা ক্রসিং, মনসার টেক, নিমতল দরগাহ, গৈড়লার টেক, বাদামতল মোড়, আমজুরহাট, পটিয়া পোস্ট অফিস, আদালত গেট, থানার মোড়, ডাকবাংলো মোড়, বাসস্টেশন, কমলমুন্সির হাট ও ভাইয়ার দিঘির পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে।
পরিবহণসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বৈধ যানবাহনের তুলনায় অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল বেশি। পুলিশের সঙ্গে মাসিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব যানবাহন চলাচলের সুযোগ পায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। মহাসড়কে নিষিদ্ধ অটোরিকশা ও অন্যান্য থ্রি-হুইলারও অবাধে চলছে। এসব ছোট যানবাহন প্রায়ই ভারী গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওভারটেক করে, কখনো সড়কের মাঝখান দিয়ে চলে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল লোহাগাড়ার চুনতি-জাঙ্গালিয়া এলাকায় বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ১১ জন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হন। এর আগে ৩১ মার্চ চুনতিতে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত ও ১০ জন আহত হন। রামুতে বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষেও চারজন নিহত এবং সাতজন আহত হন। দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি নুরুল আবছার যুগান্তরকে বলেন, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক ও ট্রাফিক আইন না মানার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। ইটভাটার মাটি ও লবণপানি সড়কে পড়ে পিচ্ছিল হলেও ঝুঁকি বাড়ে।
দোহাজারী সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা ও সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সওজ চট্টগ্রাম দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা যুগান্তরকে বলেন, বাঁক কমাতে সড়কের দুই পাশ সম্প্রসারণে ১০০ কোটি টাকার কাজ চলছে। প্রকল্পের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে বাকি কাজ শেষ হলে দুর্ঘটনা ও যানজট অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
