Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

১৩ সিটিতে নিবন্ধন শুরু

ঢাকায় আট জোনে চলবে ই-রিকশা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না। ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে সোমবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। তবে বর্তমানে চলাচলরত রিকশা আকস্মিকভাবে বন্ধ করা হবে না। পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় এনে অননুমোদিত যান অপসারণ করা হবে।

রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি চালক ও মালিকদের আতঙ্কিত না হয়ে নিবন্ধন কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানান। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৯ অক্টোবর ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারার ক্ষমতাবলে প্রণীত বিধিমালাটি দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রযোজ্য।

নিবন্ধন ফি আট থেকে দশ হাজার টাকা : দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি দশ হাজার এবং বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। ফিটনেস সনদের জন্য ফি এক হাজার টাকা। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। প্রতিটি নিবন্ধিত যানে দৃশ্যমান স্থানে কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নম্বরপ্লেট রাখতে হবে। একটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হবে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর। এরপর নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, ছবি, ফি জমার রসিদ ও ফিটনেস সনদ দিতে হবে। যাচাই-বাছাইয়ে সন্তুষ্ট হলে কর্তৃপক্ষ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেবে। নিবন্ধনের মেয়াদ ৫ বছর; পাশাপাশি নির্ধারিত বার্ষিক নবায়ন ফি প্রযোজ্য।

মহাসড়ক ও প্রধান বাস করিডরে নিষেধ : জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডর এবং প্রশাসনের নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে না। ফুটপাতেও চলাচল নিষিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে জোন, রুট, রং এবং জোনভিত্তিক ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করবে। বিধিমালায় ঢাকার অনুমোদিত সড়কগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হয়নি। ফলে আট জোন করার ঘোষণা থাকলেও কোন এলাকায় কতটি রিকশা এবং কোন সড়কে চলবে, তা পৃথকভাবে চূড়ান্ত করতে হবে। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।

সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিলোমিটার : ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল স্থানে তা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারে সীমিত রাখতে হবে। প্রতিটি যানে স্পিডোমিটার থাকতে হবে। অনুমোদিত দুই বা চার আসনের অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহণও নিষিদ্ধ। চালককে সড়কের বাঁ লেন ধরে চলতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত ওভারটেক ও লেন পরিবর্তন করা যাবে না।

পুরোনো রিকশায় পরিবর্তন, চালকদের লাইসেন্স পরে : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী ই-রিকশার ফিটনেস নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে চলাচলরত রিকশাও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংশোধনের মাধ্যমে অনুমোদনের সুযোগ পাবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রথমে যানবাহনের নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়টি পরে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে। আপাতত মালিকপক্ষ চালকদের পরিচয়পত্র দেবে।

চার্জিং ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনাও নিয়ন্ত্রণে : অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরোনো ব্যাটারি উন্মুক্ত স্থান বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোও নিষিদ্ধ।

ঘোষিত ব্যবস্থা অনুযায়ী, বাস্তবায়নের প্রধান কাজ হবে জোন ও রুট চূড়ান্ত করা, পুরোনো রিকশার নিরাপত্তামান যাচাই এবং অনুমোদিত চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা। নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও চলমান রিকশা বন্ধে ধাপে ধাপে এগোনোর ঘোষণা রয়েছে। ফলে নিবন্ধনের সময়সূচি, কাঠামোগত পরিবর্তনের পদ্ধতি ও প্রয়োগের নির্দেশনা স্পষ্ট করা জরুরি। এসব প্রস্তুতির সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত তদারকি যুক্ত হলে বিধিমালার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

১৩ সিটিতে নিবন্ধন শুরু ঢাকায় আট জোনে চলবে ই-রিকশা

ঢাকায় আট জোনে চলবে ই-রিকশা

মাদকাসক্ত ও র‌্যাগিং খুবিতে ৩০ শিক্ষার্থীর শাস্তি

খুবিতে ৩০ শিক্ষার্থীর শাস্তি

পাবনায় জোড়া খুন টেন্ডার ছাড়াই ১৪ বছর ধরে পুষ্পপাড়া হাটের খাস আদায়

টেন্ডার ছাড়াই ১৪ বছর ধরে পুষ্পপাড়া হাটের খাস আদায়

চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন আজ রুটিন দায়িত্বের উপাচার্যকেও প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের

রুটিন দায়িত্বের উপাচার্যকেও প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম