Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

জুনের পর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা

ইরান মাথা নোয়াবে না-পেজেশকিয়ান

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জুনের পর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা

Advertisement

যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। জুনের পর এটাই দুপক্ষের মধ্যে প্রথম আলোচনা। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ আলোচনার সময় তেহরান কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়টিকে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার ও জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

বুধবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দীর্ঘক্ষণ পরোক্ষ আলোচনা করে। তবে উভয় দেশের কর্মকর্তারা সরাসরি বৈঠক করেছেন কিনা, সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, মঙ্গলবার দিনভর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের আলোচনা চলেছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উইটকফ বলেন, ‘আজ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। এ মধ্যস্থতাকারীরা সারা দিন দুপক্ষের মধ্যে যাতায়াত করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘তারা আলোচনার একটি পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন, যা গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হবে বলে আমরা আশা করছি। মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে জানান, উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার একটি বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের বৈঠকটি অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ হয়েছে।’ তিনি বলেন, একটি চুক্তির পথে ‘বেশ ভালো গতি’ তৈরি হয়েছে। পরে ট্রাম্প জানান, আলোচনা অব্যাহত আছে; শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, ট্রাম্প বলেছেন-নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তারা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছতে পারেন। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার কিম্বার্লি হালকেট জানান, ট্রাম্প নিজে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। মার্কিন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন উইটকফ ও কুশনার।

তেহরান থেকে আল জাজিরার তৌহিদ আসাদি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনো সরাসরি যোগাযোগ না থাকার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও উইটকফের মধ্যে বৈঠকের বিষয়টি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। আসাদি জানান, ‘সর্বশেষ এ বৈঠকটি মার্কিন পক্ষের অনুরোধ ও তাগিদেই অনুষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য ইরানের বার্তা ও শর্তাবলী-বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করা এবং তেহরান যাকে ‘প্রতিরোধ’ ফ্রন্ট হিসাবে অভিহিত করে, সেখানে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো। আসাদি আরও জানান, ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক একটি সূত্র আল জাজিরাকে বলেছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের শর্ত ও প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে নেয়, তবে আরও কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এর আগে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি প্রতিনিধিদলের কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে। তিনি জাতিসংঘের এ সমাবেশকে ওয়াশিংটনের জন্য আলোচনায় ফিরে আসার এক ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হিসাবে বর্ণনা করেন। 

উত্তেজনা প্রশমনে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর চেষ্টা : পরোক্ষ আলোচনার পাশাপাশি উপসাগরীয় ও অন্যান্য আঞ্চলিক রাষ্ট্রকে নিয়ে একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। কাতার জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে তারা অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা ও আলোচনার পরিবেশ তৈরির উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের বিষয়ে কাতারের একটি প্রস্তাবও বিবেচনার তালিকায় রয়েছে। আঞ্চলিক একটি সূত্রের তথ্যমতে, তেহরান বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। 

ইরান মাথা নোয়াবে না-পেজেশকিয়ান : প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনোই মাথা নোয়াবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান আলোচনার জন্য যেমন প্রস্তুত, তেমনি আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে আত্মরক্ষার জন্যও সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানের প্রেসিডেন্ট বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

মেহের নিউজ এজেন্সি জানায়, ভাষণের শুরুতে পেজেশকিয়ান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মিনাবের সেই স্কুলশিক্ষার্থীদের ছবি তুলে ধরেন, যারা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রথম দিনে নিহত হয়। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র লামের্দ এলাকায় ইরানি শিশুদের ওপর ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছিল। তিনি বলেন, তারা ইরানকে সন্ত্রাসবাদের দায়ে অভিযুক্ত করে, অথচ তারাই নিজেরা জঘন্যতম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তিনি করেন, ‘গত ২০০ বছরে ইরান কোনো দেশ আক্রমণ বা দখল করেনি, তবে সর্বদা দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের রক্ষা করেছে।’ 

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরান ত্যাগ করবে না।’ ইরান আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বোমা বা আগ্রাসনের মাধ্যমে প্রতিরোধকে পরাজিত করা যায় না। তারা ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু তারা জেনেছে যে ইরানিরা যুদ্ধকে ভয় পায় না।’ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, অথচ আইএইএর পরিদর্শকরা ইরানে আসার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে।’ তিনি বলেন, তেহরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি বা ধমকের ভাষা মেনে নেবে না। 

জাতিসংঘ অধিবেশনে আরও যত আলোচনা : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও জলবায়ু পরিবর্তন। ইতোমধ্যেই জলবায়ু সংকট নিয়ে সতর্ক করে জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের বিদায়ি মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের দাবি জোরালো করেছে ব্রাজিল, জার্মানি, ভারত ও জাপান। বুধবার দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, বর্তমান জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংস্কার আগের চেয়ে বেশি জরুরি।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম