ঢাকার আশপাশের নদী-খাল
৫৪ হাজার কোটি টাকার কাজ, কাঙ্ক্ষিত ফল নেই
দূষিত পানির সঙ্গে আছে নাব্য সংকট * একেক সংস্থা একেকভাবে বাস্তবায়ন করছে প্রকল্প আছে সমন্বয়ের ঘাটতি * চলমান ২১ ও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ২০টি প্রকল্প পর্যালোচনা করছে সরকার
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার আশপাশের নদী ও খালকেন্দ্রিক প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন ২১টি প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া হয় এসব প্রকল্প। তবে এক সংস্থার সঙ্গে আরেক সংস্থার কাজের সমন্বয় নেই। একেক সংস্থা তাদের মতো করে নিয়েছে এসব প্রকল্প। আরও ২০টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সবুজ পাতাভুক্ত রয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ ব্যয়ে প্রকল্পগুলো চলমান থাকলেও নদী ও খালগুলোর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালুসহ অন্য নদী ও খালগুলোর পানি এখনো দূষিত। রয়েছে নাব্য সংকটও। এ অবস্থায় চলমান ২১টি ও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ২০টি প্রকল্প পর্যালোচনা করছে বিএনপি সরকার। সম্প্রতি সরকারের উচ্চমহলে অনুষ্ঠিত একাধিক সভায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। শুধু ঢাকার চারপাশের নদী ও খাল নয়, দেশের বিভিন্ন জেলার নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, নদী দখল ও দূষণ চলছে। এমন এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব নদী দিবস’। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালিত হয়। এদিন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নদনদীর গুরুত্ব তুলে ধরা, দূষণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। শনিবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনগুলো। আরও জানা গেছে, ঢাকার চারপাশের নদী ও খাল উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়। অন্যদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নদী ও খাল নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দেন। ওই বৈঠকে শিল্পবর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য, সলিড ওয়েস্ট (প্লাস্টিক ও মেডিকেল বর্জ্য) ম্যানেজমেন্ট, খাল খনন ও জলাবদ্ধতা নিরসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলমান ও অপেক্ষমাণ প্রকল্পগুলোর সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া বৈঠকে নদীদূষণের উৎসমুখ বন্ধে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, ঢাকা ও আশপাশের সিটি করপোরেশনগুলোর খাল পুনরুদ্ধার ও ড্রেনেজের বর্জ্য অপসারণ; কলকারখানার শিল্পবর্জ্য জলাশয় ও ভূগর্ভে অপসারণ বন্ধ এবং সব কারখানায় পানি শোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়। এছাড়া জলাভূমি ভরাট করে আবাসন নির্মাণ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে। বৈঠকের এসব সিদ্ধান্তের কপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। একাধিক সচিব ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকার চারপাশের নদী ও খালে যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-এলজিআরডি, সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা ওয়াসার দাশেরকান্দি পয়ঃশোধানাগার প্রকল্প, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প, ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র ‘বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প। নদী ও খালকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার যুগান্তরকে বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছে। আমরা প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করেছি। যেসব প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত মান পাওয়া যায়নি সে প্রকল্পগুলোর কাজের মান ভালো করতে বলা হয়েছে।
