প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর কূটনীতির নতুন অধ্যায়
বৈশ্বিক বাস্তবতায় অগ্রযাত্রার রোডম্যাপ
Advertisement
হক ফারুক আহমেদ ও নেসারুল হক খোকন
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতিসংঘে চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণের পাশাপাশি ৬টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, কূটনৈতিক দিক থেকে তার এই সফরের বহুমাত্রিক প্রজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমান সংঘাতময় বিশ্বে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার সম্প্রসারণের মতো চ্যালেঞ্জ আছে বাংলাদেশের। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে প্রতিটি ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি এক সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। দিয়েছেন বিশ্বশান্তির বার্তা। কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বিনিয়োগ, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সব আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ইস্যুতেও সোচ্চার ছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে বোয়িং, ওয়াল ট্রিট ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার এক রোডম্যাপ হিসাবে দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে। জাতিসংঘ সফর ও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অর্জনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সফিউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘ পনেরো বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সফর। তারেক রহমান অত্যন্ত মিতব্যয়ী ও সংক্ষিপ্ত সফরের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারের অপচয়মূলক সংস্কৃতি পরিহার করে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়গুলো অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। এছাড়া তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোয় প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের একটি স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে সফরটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এটাকে বাংলাদেশের নতুন অগ্রযাত্রা বলা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে বাংলাদেশের কূটনীতির তিনটি দিক স্পষ্ট হয়েছে। বৈশ্বিক মঞ্চে রাজনৈতিক অবস্থান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থনৈতিক যোগাযোগ। জাতিসংঘের ভাষণ ছিল যার প্রকাশ্য কেন্দ্র, কিন্তু বৈঠক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচিগুলো দেখিয়েছে-সফরের আলোচনার পরিধি তার চেয়ে অনেক বিস্তৃত। ফলে পাঁচ দিনের সফরটি শুধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তার জাতিসংঘের ভাষণের মূল বার্তায় ছিল বাংলাদেশের ‘থ্রি-আর’। যার অর্থ হচ্ছে দেশের পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণের এই ধারণার সঙ্গে তিনি গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক রূপান্তর, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো যুক্ত করেছেন। বাংলায় দেওয়া ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, ফিলিস্তিন, বৈশ্বিক শান্তি ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয়ও উঠে আসে।
এদিকে সার্বিকভাবে এই সফর বাংলাদেশের জন্য এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক সাফল্য বয়ে এনেছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসাবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার এই নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক প্রেস বিফিংয়ে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। এর মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে প্রদান করেন একটি ঐতিহাসিক ভাষণ। সাইড লাইনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে চারটি, শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে একটি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি বক্তব্য রাখেন তিনি।
মাহ্দী আমিন জানান, জাতিসংঘকেন্দ্রিক প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সময়সূচিকে মূলত কয়েকটি ভাগে দেখা যায়। প্রথমত, সাধারণ পরিষদের মূল ধারার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত আটটি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য প্রদান, জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশ অনুষ্ঠান এবং উদ্বোধনী অধিবেশন। এছাড়া জাতিসংঘ সম্মেলনস্থলের বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তিনি সস্ত্রীক অংশ নেন।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বাইরে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পাঁচটি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আরও ছয়টি বৈঠক করেন। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বোয়িং গ্লোবাল, গেটস ফাউন্ডেশন, ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারী, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও জাতিসংঘে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, স্বনামধন্য এই চিকিৎসক আটটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং এর চারটিতে বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘের নারীনেত্রীদের প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক অধিবেশন, বিশ্ব ফার্স্ট স্পাউস সংলাপ এবং মাতৃমৃত্যু হ্রাসসংক্রান্ত মিডওয়াইফারি ইভেন্টে তার বক্তব্য বিশ্বনেতারা ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের জীবনসঙ্গীদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জাতিসংঘ সফরের শেষ দিনে সকালেই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বখ্যাত জেপি মর্গান চেস আয়োজিত ‘ব্রেকফাস্ট মিটিং উইথ ওয়াল স্ট্রিট’ শীর্ষক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের প্রথম সারির প্রায় ২০টি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে তিনি অংশ নেন। আমেরিকান বেসরকারি খাত আয়োজিত এই খোলামেলা আলোচনায় বাংলাদেশের আর্থিক খাতে কীভাবে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সফরের সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি ছিল রোহিঙ্গা সংকট। কক্সবাজারে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান বাংলাদেশের ওপর যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপ তৈরি করেছে, সেটিকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় সামনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিনিধির সঙ্গেও যোগাযোগ হয়। ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের বার্তাটি শুধু সাধারণ পরিষদের ভাষণে সীমাবদ্ধ ছিল না; জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায়ও তা এসেছে।
জলবায়ু প্রশ্নেও বাংলাদেশের অবস্থান ছিল সরাসরি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসাবে বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। অর্থাৎ জলবায়ুকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসাবে নয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন, খাদ্য, পানি ও মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় স্বার্থ হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নিউইয়র্কের বৈঠকগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচল এবং সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আবার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সামনে এসেছে। জনশক্তি রপ্তানি, বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় ও বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব বিবেচনায় এসব বৈঠক কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি সরাসরি অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও যুক্ত।
জাতিসংঘের রাজনৈতিক মঞ্চের পাশাপাশি নিউইয়র্কের আর্থিক কেন্দ্রেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল সফরের কর্মসূচিতে। তবে সবচেয়ে দৃশ্যমান ব্যবসায়িক ঘটনা বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি। নতুন ১১টি বিমান যুক্ত হওয়ায় নতুন রুট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ১১টির মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। এর মাধ্যমে বিমানবহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ কতটা কার্যকর হয়, জলবায়ু অর্থায়নে কী অগ্রগতি আসে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ কতটা সম্প্রসারিত হয় এবং বোয়িংয়ের নতুন বিমানগুলো বাস্তবে কবে বহরে যুক্ত হয়-এসবই হবে সফরের পরবর্তী মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সুশাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারসংক্রান্ত যে প্রতিশ্রুতগুলো দিয়েছেন তা জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তবে এই আশাবাদগুলোর বাস্তবায়ন ও আন্তরিকতা কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। এসব বাস্তবায়ন সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলো মূলত সৌজন্যমূলক আলাপ। সেখানে গভীর কোনো নীতিগত পরিবর্তনের চেয়ে পারস্পরিক পরিচিতি ও সাধারণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। সীমিত সময়ের এই সাক্ষাৎকারে বড় কোনো কূটনৈতিক অর্জন বা মৌলিক সিদ্ধান্তের চেয়ে বরং ভবিষ্যতে একত্রে কাজ করার সদিচ্ছাই ফুটে উঠেছে।
