নিউগিনি প্রোপার্টিজ ভাঙচুর
ফ্ল্যাটের চুক্তিতে হামলায় নেতৃত্ব দেয় শাহরিয়া
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রোপার্টিজে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মোটা অঙ্কের অর্থ এবং একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার চুক্তিতে দলবল নিয়ে এ হামলায় নেতৃত্ব দেন শাহরিয়া মাহমুদ। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এ তথ্য দিয়েছেন শাহরিয়া। বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
এদিকে নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি ও কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্যের (এমপি) জামাতা মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন বলেন, সোমবার বিকালে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় এমপি আব্দুল গফুরের বাসা থেকে মিজানুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলায় মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে ডিবি এবং ৫ জনকে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শাহরিয়া মাহমুদ এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় দুই থেকে তিনশ লোক নিয়ে প্রোপার্টিজে প্রবেশ করেন। তাদের সবার হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র, রিভলবার, চাপাতি ও রামদা। ফটক ভেঙে গুলি করতে করতে তারা প্রোপার্টিজের ভেতর প্রবেশ করে। এ সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটও চালানো হয়।
সোমবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিউগিনি প্রোপার্টিজের নিরাপত্তাকর্মীরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বন্ধ রয়েছে এর প্রধান গেট। কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্যস্ত নির্মাণধীন ভবনের শ্রমিকরা। তালাবন্ধ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও রুম। পাশের রুম থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে পরিত্যক্ত আসবাপত্র। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে উধাও নিউগিনি প্রোপার্টিজের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সিকিউরিটি থেকে নির্মাণ শ্রমিক-হামলা, ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় সবার মুখ বন্ধ। গণমাধ্যম বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা না বলতে আরোপ করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। নিজেদের বাসাবাড়িতে হামলার ভয়ে এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন আশপাশের বাসিন্দরাও।
ক্যান্টনমেন্ট থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট ও গুলির ঘটনায় ইতোমধ্যেই মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৫ জন ও পড়ে দুজনসহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় যুক্ত বাকিদের ধরতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া ও মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার তারা বিরোধেও জড়িয়েছেন। এর মধ্যেই এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর মাধমে নাজিম উদ্দিনকে জায়গা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। দাবি করা হয় চাঁদা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার রাতে হামলা চালানো হয়। করা হয় ভাঙচুর-লুটপাট। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী হামলায় পুলিশ সঙ্গে পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সালমান মুক্তাদিরকে রুম বরাদ্দ দিয়েছেন নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া। সেখানেই কনটেন্ট ক্রিয়েটের কাজ করতে স্টুডিও স্থাপন করেন মুক্তাদির। তবে এই জায়গায় ভাড়া হিসাবে তিনি নামমাত্র টাকা পরিশোধ করেন। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা ও দখলবাজদের থেকে মুক্ত থাকতে এবং নিজের অবস্থান শক্ত করতে সালমান মুক্তাদিরকে নিজের জায়গায় বসান নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া।
আওয়ামী লীগ আমলে নাজিমের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে প্রোপার্টিজের ভেতর নির্মাণাধীন ভবনের অনুমোদন জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম দিয়ে আগে আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। জায়গা ছেড়ে দিতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমার ভবনে হামলা করা হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। আমার লোকদের মারধর করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যেই মামলা করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তদন্ত করছে। তদন্তে সত্য সামনে আসবে। নাজিম উদ্দিনের দাবি, আওয়ামী লীগ আমলে তাকে জামায়াত-বিএনপির অর্থদাতা হিসাবে মামলা দেওয়া হয়েছে। মাসের পর মাস জেলে রাখা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তাকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ী মানুষ। তার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
