Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান

অক্টোবরে চুক্তি, অনুসরণ হচ্ছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের মডেল * ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন * লাগেজ থেকে বোর্ডিং-সব সেবায় সময় নির্ধারিত

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ফাইল ছবি

Advertisement

দেশের আকাশপথের যাত্রী চাহিদার বড় অংশ নিজেদের মাধ্যমে পূরণ এবং বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়াতে বড় সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এয়ারবাস থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। অক্টোবরেই এ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ তথ্য জানান।

এদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। এর ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে বিমানের বহরে নতুন করে যুক্ত হবে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ।

এয়ারবাস কেনার উদ্যোগে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই দাবি করে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিমানের নেটওয়ার্ক ও ভবিষ্যৎ বহর পরিকল্পনার ভিত্তিতেই ওয়াইড-বডি ও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের উড্ডয়নসীমা, আসনসংখ্যা, প্রতিটি ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এয়ারবাসের চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ দূরপাল্লার রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। বেশি চাহিদার মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার রুটে এসব উড়োজাহাজ ব্যবহারের কথা রয়েছে। আর ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি জেট চলবে আঞ্চলিক ও স্বল্পপাল্লার রুটে।

বোয়িংয়ের ২৫ উড়োজাহাজ : বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় এরই মধ্যে বড় অগ্রগতি হয়েছে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে। ৩০ এপ্রিল ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তিতে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ রাখা হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর আরও ১১টি উড়োজাহাজের জন্য সম্পূরক চুক্তি করা হয়। নতুন ১১টির মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ওয়াইড-বডি এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ। আগের চুক্তিসহ মোট ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে দুটি বি৭৮৭-৯, ১৩টি বি৭৮৭-১০ এবং ১০টি বি৭৩৭-৮ ম্যাক্স। এর মধ্যে ১৫টি ওয়াইড-বডি এবং ১০টি ন্যারো-বডি।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩১ সালের নভেম্বরে প্রথম উড়োজাহাজ সরবরাহ করার কথা রয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাকি উড়োজাহাজ সরবরাহ করবে বোয়িং। তবে সরকার ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের জন্য বোয়িংকে অনুরোধ করেছে বলে জানান মন্ত্রী।

বিদেশিদের হাতে ৮০ শতাংশ যাত্রী : বহর সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে মাত্র ১৯টি উড়োজাহাজ। অথচ দেশের মোট বিমানযাত্রী চাহিদার ২০ শতাংশের কিছু বেশি পূরণ করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ যাত্রী পরিবহণ করছে বিদেশি এয়ারলাইনস। বিমানের বাজার অংশ বাড়াতেই বহর বড় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের মডেল অনুসরণের কথাও বলেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস একটি ছোট ঐতিহ্যবাহী এয়ারলাইনস থেকে বর্তমানে ১৬৭টি উড়োজাহাজের বহরে পরিণত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি ইথিওপিয়ার চেয়ে বেশি। দেশের বিমানবন্দরগুলোতেও যাত্রীর চাহিদা রয়েছে। ফলে সেই চাহিদার বড় অংশ বিদেশি এয়ারলাইনসের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

নতুন উড়োজাহাজ কেনার অর্থায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসাবে বিমান নিজস্ব আয় এবং উপযুক্ত অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে উড়োজাহাজগুলোর মূল্য পরিশোধ করবে। যেহেতু উড়োজাহাজগুলো একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে, তাই অর্থ পরিশোধও পর্যায়ক্রমে করা হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুট থেকে সম্ভাব্য আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই ক্রয় পরিকল্পনা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এতে সরকারের বাজেটের ওপর সরাসরি কোনো চাপ পড়বে না।

এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রীসেবায় লাগেজ সরবরাহের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। উড়োজাহাজ অবতরণের পর ১২ মিনিটের মধ্যে প্রথম লাগেজ এবং সর্বোচ্চ ৪০ মিনিটের মধ্যে শেষ লাগেজ যাত্রীর হাতে পৌঁছে দিতে হবে। তৃতীয় টার্মিনালের যাত্রীসেবা পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে করা চুক্তিতে এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম লাগেজ ১২ মিনিট এবং শেষ লাগেজ ২৫ মিনিটের মধ্যে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। তবে গ্রেস পিরিয়ড হিসাবে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জরিমানা দিতে হবে। শুধু লাগেজ সরবরাহ নয়, যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামানো এবং উড়োজাহাজে ওঠানোর সময়ও চুক্তিতে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সেবা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল আংশিকভাবে উদ্বোধনের আশা করা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করতে এরপর আরও পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিমানের মহাপরিকল্পনায় প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন বহর বাড়ছে, সক্ষমতা কোথায়

বহর বাড়ছে, সক্ষমতা কোথায়

চাঁদা না দেওয়ায় ফোর স্টার গ্রুপের হামলা পল্লবীতে ফার্মেসি ভাঙচুর কুপিয়ে জখম

পল্লবীতে ফার্মেসি ভাঙচুর কুপিয়ে জখম

শিশু একাডেমির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে

শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে

ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ মৃত্যু

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম