ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ মৃত্যু
হাম উপসর্গে প্রাণ গেছে আরও ৬ শিশুর * সব হাসপাতালকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশে সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গে একদিনেই ১৬ জনের মৃত্যু হলো। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এদিকে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব হাসপাতালে এ রোগীদের জন্য শয্যা বাড়াতে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন। সোমবার ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যুসহ চলতি মাসের ৬ দিনে ৩৬ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৭৩৬ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ওই ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২০৩, চট্টগ্রামে ২৪২, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৮০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৪, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭, খুলনায় ৩০২, ময়মনসিংহে ৯৬, রাজশাহীতে ১৯৯, রংপুরে ৭৫ এবং সিলেটে ১৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন। এ বছর মৃত্যু হয়েছে ২৮১ জনের।
এদিকে, হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা দেয় ১ হাজার ২৯১ শিশুর এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১০২টির। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৩। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মারা গেছে ১ হাজার ১৩৪ শিশু। এর মধ্যে হামে মৃত্যু হয়েছে ১০২ শিশুর। আর হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর ১০৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট শিশু ২ লাখ ২০ হাজার ৯২৩টি।
এদিকে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সব হাসপাতালকে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকার হাসপাতালগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর জন্য বিশেষ বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা মেডিকেল থেকে জাতীয় বার্ন ইউনিটে কিছু রোগীকে স্থানান্তরের চিন্তা করা হচ্ছে। এর আগে রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। সভা শেষে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম জানান, সভায় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিবর্তে কুর্মিটোলা মালটিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালকে রাজধানীর বাইরে থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে। ভোগান্তি কমাতে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোকেও প্রস্তুত রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
