Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি

রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খুব কাছে বাংলাদেশ

Advertisement

Icon

পাবনা ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খুব কাছে বাংলাদেশ

Advertisement

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া (ক্রিটিক্যালিটি) শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। এর মাধ্যমে প্রথমবার পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর গাইডলাইন মেনে রাশিয়ার সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্পের ‘বি-ওয়ান’ ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সবশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ টেস্টের জটিলতা কেটে যাওয়ার পর শুরু হতে যাচ্ছে ‘বি-টু’ (ই-২) ধাপ। এই ‘বি-টু’ ধাপে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হবে।

চেইন রিঅ্যাকশন সফলভাবে শুরু হলে চুল্লিতে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শেষে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছলে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে।

শনিবার কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক নিয়ম ও গাইডলাইন অনুসরণ করে এই পারমাণবিক জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশেষ শেডে সংরক্ষণ করা হবে। সাধারণত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর এক থেকে দেড় বছর পর কিছু ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি পরিবর্তন করতে হয়। প্রথম ইউনিটের সেই বাড়তি জ্বালানিই এখন বাংলাদেশে আসছে।

রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ৯টি চালানে ২০০টিরও বেশি জ্বালানি অ্যাসেম্বল আনা হচ্ছে, যার সবকটি সরবরাহ সম্পন্ন হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই।

প্রকল্প সূত্র জানায়, রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ইউরেনিয়ামের এই চালান দেশে আসবে। এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের যে জ্বালানি আনা হয়েছিল, তা চলতি বছরের মে মাসে রূপপুর প্রকল্পের পারমাণবিক চুল্লিতে বসানো হয়েছে। প্রকল্প সূত্রের দাবি, সেফটি ভালভে ১৬ মেগাপ্যাসকেল (এমপিএ) উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পরবর্তী ধাপে ১৮ এমপিএ চাপে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে।

এটি সফল হওয়ার পর ফিশন রিয়্যাকশন শুরু করা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষে পাওয়ার স্টার্টআপে যেতে পুরো অক্টোবর লেগে যাবে। আর পাওয়ার স্টার্টআপের পরেই গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার বিষয়টি আসবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বাইরে আন্দোলন, ভেতরে চুক্তি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি

ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি

বিশ্ব ডাক দিবস আজ মুমূর্ষু ডাকঘর, নেই সেবা

মুমূর্ষু ডাকঘর, নেই সেবা

বিটিআরসির সিদ্ধান্তে বাড়তি সুবিধা এস আলমের কোম্পানির পোয়াবারো, নতুন বিতর্ক

এস আলমের কোম্পানির পোয়াবারো, নতুন বিতর্ক

শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে অপরাধ ভাড়ায় খাটে দুর্ধর্ষ ডাকাতরা

ভাড়ায় খাটে দুর্ধর্ষ ডাকাতরা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম