অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার
হাসপাতালে ভর্তি ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্ত
Advertisement
আসাদুল্লাহ গালিব, চুয়েট
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
অবরুদ্ধ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে মঙ্গলবার উদ্ধার করছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় তিনি চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়েন। এরপর হাসপাতালে তিনি ভর্তি হন। এর আগে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। উপাচার্য ভবনের নিচতলায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’ এ সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘এখানে চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন। আমরা জানতে চাই-আপনারা কখন আমাদের নিরাপত্তার জন্য থাকবেন? আপনারা কি শুধু সেই ভিসিকে বের করে নিয়ে যেতে এসেছেন, যিনি বহিষ্কৃত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। এ ক্যাম্পাস থেকে তিনি যেতে পারবেন একটা শর্তে, তা হলো-তিনি আর কখনো এ ক্যাম্পাসে আসবেন না।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জন উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন। এরপর কড়া পুলিশি পাহারায় সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম এবং তার সঙ্গে আটকে পড়া ছাত্রদল নেতাদের বের করে আনা হয়। সবাইকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় গণমাধ্যমকে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘উপাচার্য এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও বুঝেছেন, তারা ম্যাচিউরড। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে উপাচার্যের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এজন্য এখানে আমরা এসেছি। শিক্ষার্থীরাও আলোচনার পর পরিস্থিতি বুঝেছেন। কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই আমরা তাকে (উপাচার্য) নিয়ে গেলাম। আমরা আগে চিকিৎসা দিই, সুস্থ হোক। পরেরটা পরে সরকারকে আমরা জানাব।’
এর আগে সোমবার সকালে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস ছাড়তে সময় বেঁধে দেন। এরপর কার্যালয়ের গেটে তালা লাগিয়ে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপাচার্য জানান, ‘কাল রাত ২টায় পুলিশের মাধ্যমে খাবার এসেছিল, সেটাই আমরা খেয়েছিলাম। এখানে আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে। রাতে ঘুমাইনি। এরকম অনেকেরই অনেক সমস্যা হচ্ছে।’ এদিকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপাচার্য অসুস্থ হয়ে পড়লে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক দলকে ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিন এবং রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. টিবলু কান্তি দে। জানা যায়, শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন। এছাড়া চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা বিবৃতি দিয়েছেন।
