৮২ সৌদি ফ্লাইট স্থগিত
ফাঁকা শাহজালালের বহির্গমন টার্মিনাল
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একের পর এক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে যাত্রীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মঙ্গলবার সাধারণত যাত্রী ও স্বজনদের ভিড়ে মুখর থাকা টার্মিনালে দেখা গেছে একেবারে ভিন্ন চিত্র। যাত্রীদের আনাগোনা কম থাকায় অনেকটা ফাঁকা ছিল বহির্গমন এলাকা। এদিকে সৌদির বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ৮২টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে দুশ্চিন্তাসহ ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রী।
মঙ্গলবার সরেজমিন বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, অন্যদিনের তুলনায় যাত্রী উপস্থিতি অনেক কম। ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিমানবন্দরে এসে অনেকে ফিরেও গেছেন। রোববার ও সোমবারও অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে ফিরে যান। শ্রীলংকাগামী হাবিবুর রহমান বলেন, এর আগে তিনি ভারত, মালয়েশিয়া ও নেপাল ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু বিমানবন্দরের এমন দৃশ্য কখনো দেখেননি। তিনি বলেন, ‘আগে যাত্রী ও স্বজনদের ভিড় ঠেলে লাইনে দাঁড়াতে হতো। কিন্তু আজ বিমানবন্দর প্রায় ফাঁকা। সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রী উপস্থিতি কমে গেছে।’ কাতারগামী সোহেল মাহমুদ বলেন, বিমানবন্দরে চিরচেনা দৃশ্য আজ নেই। সাধারণত পুরো টার্মিনাল যাত্রীদের ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু মঙ্গলবার সেই চিত্র দেখা যায়নি।
বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০ অক্টোবর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি সৌদি আরব হয়ে পরিচালিত ট্রানজিট ফ্লাইটেও এর প্রভাব পড়ে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ঢাকা থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সরাসরি ও ট্রানজিট রুট মিলিয়ে মোট ৮২টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৩২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৫০টি। এতে দুশ্চিন্তার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রী। স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের পাঁচটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। এ ছাড়া ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ট্রানজিট ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।
এদিকে যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের যাত্রা পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহার করে অন্য দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরে যাত্রী উপস্থিতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জানতে এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের প্রবণতাও বেড়েছে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ও সৌদি হয়ে ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা সময়সূচি পরিবর্তনের তথ্য দ্রুত যাত্রীদের জানানো এবং ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সোমবার রাতে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে চিঠি দিয়ে এসব নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল বা সময়সূচিতে পরিবর্তন হলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের এসএমএস, ফোনকল, ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানাতে হবে। একই সঙ্গে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, পরিবর্তিত যাত্রার সময়, পুনরায় টিকিট বুকিং, অর্থ ফেরত এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে। ফ্লাইটের বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার পরামর্শ দিতেও বলা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে এয়ারলাইন্সগুলোকে সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় সৌদি দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। ফ্লাইটের পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত না থাকায় যেসব যাত্রী বিমানবন্দরে উপস্থিত হবেন, তাদেরও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল, নাশতা, খাবারসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতে হবে। বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্নের বিষয়ে দ্রুত সমন্বয় নিশ্চিত করতে প্রতিটি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে একজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। ওই কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা দ্রুত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা বিভাগকে জানাতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না। যাত্রীদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
