Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

‘সি বিচে আছি, বাচ্চারা খেলা করছে’

ফোনে বলেছিল নাহিদ, স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ নিখোঁজ

Advertisement

Icon

তৌহিদ জামান, যশোর

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

‘সি বিচে আছি, বাচ্চারা খেলা করছে’

এক ফ্রেমে যশোরের নাহিদ ও পরিবারের সদস্যরা। টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তারা নিখোঁজ -ফেসবুক থেকে নেওয়া

Advertisement

যশোরের মনিরামপুরের বৃদ্ধ মতিয়ার রহমান জানালেন, গত শুক্রবার রাতে ছেলে নাহিদের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। ফোন করে করে সে বলেছিল, ‘সি বিচে আছি, বাচ্চারা খেলা করছে। মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরব। আপনি বুধবার ঢাকার মিরপুরের বাসায় চলে আসেন।’ কিন্তু মতিয়ার এখন কী করবেন, তা জানেন না। ঘটনায় হতভম্ব ৮০ বছরের বৃদ্ধ মতিয়ার। তিনি যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর কারিকরপাড়ার বাসিন্দা।

কক্সবাজার ইনানী সৈকতের টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মতিয়ার রহমানের ছোট ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই শিশুসন্তান রুজাইনা ইনায়া (৮) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

মতিয়ার রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছোট ছেলের সঙ্গে ঢাকায় থাকি। মাস দেড়েক আগে গ্রামে এসেছি। বুধবার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার রাতেও কথা হয়। সবাইকে নিয়ে বিচে আনন্দ করছিল। ওদের সঙ্গে আর কথা হবে না।

নাহিদের চাচাতো ভাই ও প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় থাকেন নাহিদ। তিনি রাজধানীর শ্যামলীতে ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার কোম্পানি’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার। পরিবার নিয়ে মিরপুরে থাকতেন। গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজারের ওই রিসোর্টটিতে বুকিং দিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। নাহিদের ফুফু রোকসানা আক্তার রূপালী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার বাজান মারা গেছে, আমি বিশ্বাস করি না। তারা নিশ্চয়ই কোথাও আছে।’

চারজনের লাশ শনাক্ত করা যায়নি

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে এক পরিবারের ৬ জনের লাশের তথ্য পাওয়া গেলেও কার লাশ কোনটা তা শনাক্ত করা যায়নি। কারণ সবার শরীর পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। কোনোভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ টেস্ট করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

নাহিদের বড় ভাই জাহিদুর রহমান জানান, ওই আগুন লাগার পর থেকে ছোট ভাই নাহিদ ও তার স্ত্রী এবং দুই ভাতিজির কোনো খোঁজ মিলছে না। লাশগুলোর মধ্যে তারা আছে কি না-তা নিশ্চিত হতে ইতোমধ্যেই তিনি সিলেট থেকে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, এক পরিবারের ছয় জনের বাইরে যে চারটি মরদেহ রয়েছে, তাদের দুটি শিশু আছে। তবে আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারছি না। চেহারা চেনার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। আহতদের মধ্যেও আমার ভাই ও তার স্ত্রী নেই।

নাহিদের চাচা খালিদুর রহমান বলেন, পুড়ে যাওয়া দেহের ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত পরিচয় বের করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

একটি পরিবার এভাবে এক নিমেষে হারিয়ে যাওয়ায় মণিরামপুরের মোহনপুর কারিকরপাড়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন ও প্রতিবেশীদের চোখের পানিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকা।

মণিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ বলেন, নাহিদের বড় ভাই জাহিদুর রহমান সিলেট থেকে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। যতটুকু জানা গেছে, নাহিদের পরিবারের মরদেহ শনাক্ত হয়নি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

নিমতলী থেকে টুপটুপ রিসোর্ট ট্র্যাজেডি এত মৃত্যুর দায় কার

এত মৃত্যুর দায় কার

জ্বালানি অনিশ্চয়তা ও ঋণের উচ্চ সুদসহ নানা কারণ বিনিয়োগের ইঞ্জিন থমকে আছে

বিনিয়োগের ইঞ্জিন থমকে আছে

পর্যটননগরী কক্সবাজারে হোটেল-রিসোর্ট ছয়শ ফায়ার ছাড়পত্র মাত্র ২৩

ফায়ার ছাড়পত্র মাত্র ২৩

‘সি বিচে আছি, বাচ্চারা খেলা করছে’

‘সি বিচে আছি, বাচ্চারা খেলা করছে’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম