Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

মহাসড়কে বাঁকে বাঁকে মৃত্যুকূপ: ঢাকা-চট্টগ্রাম

মরণফাঁদ ৫৪ ইউটার্ন পাঁচশ ফিডার রোড

Advertisement

আবুল খায়ের

আবুল খায়ের

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মরণফাঁদ ৫৪ ইউটার্ন পাঁচশ ফিডার রোড

Advertisement

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫৪টি বিপজ্জনক ইউটার্ন ও ৫ শতাধিক ফিডার রোড যেন মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ইউটার্ন ও সংযোগ সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছেন দূরপাল্লার যাত্রী, চালক ও স্থানীয় পথচারী। কেউ হারাচ্ছেন স্বজন, কেউ দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করে সারা জীবনের জন্য হয়ে পড়ছেন অন্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত হলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে এবং আলেখারচর বিশ্বরোড ইউটার্নে নিয়মিত ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের ভাষায়, এসব স্থান যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুফাঁদ।

দুর্ঘটনার বড় কারণ ইউটার্ন ও সংযোগ সড়ক : দেশের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কুমিল্লা থেকে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা জোন পরিচালিত হয়। পার্বত্য এলাকা বাদে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় ৭৮০ কিলোমিটার মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক তদারকির দায়িত্ব এ অঞ্চলের। হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব সমীক্ষায় দুর্ঘটনার বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত হয়েছে। তবে সেগুলো প্রতিরোধে দৃশ্যমান ও কার্যকর সরকারি উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের দাবি, মহাসড়কে ঘটে যাওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বিপজ্জনক ও অনিয়ন্ত্রিত ইউটার্ন, মোটরসাইকেলসহ ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড না থাকা, ৫ শতাধিক অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ফিডার রোড, মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র বাজার ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠা এবং স্থানীয় পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে অনীহা।

ইউটার্নে প্রাণ গেল একই পরিবারের চারজনের : সম্প্রতি পদুয়ার বাজার ইউটার্নে একটি বাস ইউটার্ন নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা লরি বাসটিকে এড়াতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে যায়। লরির নিচে চাপা পড়ে একটি প্রাইভেটকার ও অটোরিকশা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান একই পরিবারের চারজন-কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুরের ওমর আলী, তার স্ত্রী নূরজাহান বেগম এবং দুই ছেলে আবুল হাসেম ও আবুল কাসেম। এ ঘটনায় অটোরিকশার কয়েকজন যাত্রী আহত হন।

এর আগে মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় হোটেল মিয়ামির সামনে ইউটার্ন নেওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয় বিপরীত দিক থেকে বাস। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মুফতি মাওলানা আবদুল মমিন, তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম, মেয়ে লাবিবা, ছেলে সাইফ ও প্রাইভেটকারচালক জামাল হোসেন। তারা নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ীর বাসিন্দা।

পৃথক লেন চান সংশ্লিষ্টরা : হাইওয়ে পুলিশের একাধিক মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের অন্যতম সহজ মাধ্যম সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন। পৃথক লেন না থাকায় এসব ধীরগতির যান দ্রুতগতির বাস-ট্রাকের সঙ্গে একই লেনে চলাচল করে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। দুর্ঘটনা কমাতে সার্ভিস রোড বা আলাদা লেন নির্মাণ জরুরি।

কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কে ধীরগতির ছোট যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ অথবা তাদের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন চালুর দাবি আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি। জাতীয় পর্যায়ে সমস্যাটি বারবার তুলে ধরা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ সড়ক ও জনপথ (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ইউটার্নগুলোতে প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এসব স্থানে লাগানো রিফ্লেক্টিভ স্টিকার অনুসরণ করলে দুর্ঘটনা কমতে পারে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় রোড সাইন ও সংকেত চিহ্ন বাড়ানো হবে। ফিডার রোডগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।’

হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত অভিযান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। দূরপাল্লার দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইভেটকারের সঙ্গে একই লেনে চলছে ধীরগতির মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও জরুরি সেবায় এসব যানবাহনই প্রধান ভরসা। তাই মহাসড়ক নিরাপদ করতে ছোট যানবাহনের জন্য পৃথক লেনের বিকল্প নেই।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ প্রতিদিন ঝরছে ২২ প্রাণ

প্রতিদিন ঝরছে ২২ প্রাণ

ঢামেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রোগী ঢুকতে পারলেও বেরোনো কঠিন

রোগী ঢুকতে পারলেও বেরোনো কঠিন

লেভেল ক্রসিংয়ে সড়ক যান ধৈর্যচ্যুতির খেসারত মৃত্যু আর পঙ্গুত্বে

ধৈর্যচ্যুতির খেসারত মৃত্যু আর পঙ্গুত্বে

যুগান্তরকে ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না

শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম