চুয়েটে ৩৬ দিন পর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু কাল
Advertisement
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অবশেষে ৩৬ দিন পর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আগামীকাল থেকে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রোববার রাতে এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তারা। তবে ক্লাসে ফিরলেও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের আন্দোলন চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে আবারও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সেক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে শিক্ষাজীবনে সৃষ্ট অতিরিক্ত ক্ষতির দায়ভার উপাচার্যকে নিতে হবে। এদিকে চুয়েটের বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনে আগামীকাল অংশীজনের সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত পরামর্শক কমিটির মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। ইউজিসির ইনস্পেকশন ও মনিটরিং শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চলমান আন্দোলনের বিষয়ে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকার নাঈন মিহাদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাই আমরা আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়েই ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া প্রশাসনিক ভবন আগের মতোই তালাবদ্ধ থাকবে। উপাচার্য যদি পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন, তবে আন্দোলন কঠোর হবে।’
আন্দোলনে থেকেই ক্লাসে যাবেন শিক্ষকরাও : রোববার সকালে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়-উপাচার্যের প্রতি পূর্ণাঙ্গ অসহযোগ অব্যাহত রেখেই শিক্ষকরা একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তবে নবনিযুক্ত উপাচার্য ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক যে কোনো কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করলে পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি চলবে।
বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগের প্রধান বা ইনস্টিটিউট পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও হল প্রশাসনকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাছাড়া বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকানো ও নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হবে। এ জন্য আনসার বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর জন্য নিরাপত্তা শাখাকে অনুরোধ জানাবে শিক্ষক সমিতি।
বিবৃতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইউজিসির ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আহসান উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘আপাতত আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রশাসনিক বিষয়ে শিক্ষক সমিতি থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।’
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। পরে কর্মবিরতি দিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।
