অভিশংসনের মুখে ‘নাটের গুরু’ পিট হেগসেথ!
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
পিট হেগসেথের হাতে আরবি ভাষায় ‘কাফির’ শব্দের ট্যাটু -দ্য গার্ডিয়ান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির জন্য দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে দায়ী করছেন তার নিজ দলের নেতাকর্মীরাই। এ অবস্থায় ইসরাইলপন্থি এ মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। সেই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’রও পদত্যাগ চাচ্ছেন কেউ কেউ। তবে হোয়াইট হাউজ এসব দাবি নাকচ করে বলছে, এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করেই নির্বাচনে দলটির বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করছেন ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। তবে তিনি পদত্যাগ করছেন না বলে স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হেগসেথের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।’ এ সময় হেগসেথের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। তবে হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি শুধু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ নেই। তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগও নিয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টমাস ম্যাসি। ট্রাম্পের সমালোচক হিসাবে পরিচিত এ আইনপ্রণেতা জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিশংসনের প্রস্তাব সামনে আনবেন তিনি।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ। সেখানে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন এবং অভিশংসনের প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন। হেগসেথ বলেন, ‘দেখতেই পাচ্ছেন, তারা আমাকে আক্রমণ করছে। আমাদের আক্রমণ করছে, কারণ আমরা কার্যকর ভূমিকা পালন করছি। এতে কোনো লাভ হবে না। আমরা পিছু হটব না।’
অন্যদিকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগ করছেন বলে ছড়ানো খবরকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছে হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও জানান, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে কাজ করাই তার মূল পরিকল্পনা। নিজের পদ ছাড়ার গুঞ্জন নিয়ে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘তারা যখন বলে আমি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছি, তখন আমি হেসে ভাবি-কোন চাকরিটার কথা বলছে তারা?’
এরই মধ্যে ওয়াশিংটন পোস্ট বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ছাড়াও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কিংবা সেন্টকমপ্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এই দুই সামরিক কর্মকর্তা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা বিভিন্ন সময়ে সামরিক কৌশল ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ফলে তাদের সম্ভাব্য অপসারণের খবর ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
