Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস আজ

মাস্টার প্ল্যানের বাইরে দেশের ৮৪ শতাংশ

Icon

মতিন আবদুল্লাহ

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

স্বল্প আয়তনের দেশ বাংলাদেশ। এখানে বিপুল জনসংখ্যার বাস। দ্রুত বাড়ছে নগরায়ন। বড় ও ছোট শহর ছাপিয়ে গ্রামও এখন নগরে রূপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদূরভবিষ্যতে এটি নগররাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। অথচ স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশে উপযুক্ত মাস্টার প্ল্যান হয়নি। দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ এলাকাই মাস্টার প্ল্যানের বাইরে। বাকি ১৬ শতাংশের পরিকল্পনা থাকলেও অধিকাংশই কেবল কাগজে বন্দি। অপরিকল্পিত এই বিস্তারে জঞ্জাল বাড়ছে। বাড়ছে সড়ক, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাহিদা। এমন প্রেক্ষাপটেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য-‘সুপরিকল্পনায় গড়ে ওঠে সুন্দর জনপদ। একসঙ্গে বাস্তবায়ন করি, একসঙ্গে সমৃদ্ধ হই, একসঙ্গে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করি।’ এদিকে সংকট সমাধানে সরকার নতুন করে ‘জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

দেশের মোট আয়তন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ বর্গকিলোমিটার। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এর মধ্যে মাত্র ২৩ হাজার ২৯ বর্গকিলোমিটার (১৫ দশমিক ৬ শতাংশ) এলাকার জন্য মহাপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ এলাকাই পরিকল্পনার বাইরে। মহাপরিকল্পনার মধ্যে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের (ইউডিডি) আওতাভুক্ত এলাকা প্রায় ১৩ হাজার ৬৬৪ বর্গকিলোমিটার। রাজউকসহ পাঁচটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে রয়েছে ৬ হাজার ৩৬১ বর্গকিলোমিটার। আর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ২১৬টি পৌরসভার আওতায় রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪ বর্গকিলোমিটার।

কাগজে মাস্টার প্ল্যান : এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ২৫০টি পৌর মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। পাঁচটি প্রকল্পের পেছনে ব্যয় ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। কিন্তু গেজেট প্রকাশের আগেই নির্ধারিত বাস্তবায়নকাল পেরিয়ে যায়। শ্রীপুর, কালিয়াকৈর ও সখীপুরের ২০১১ থেকে ২০৩১ মেয়াদি মহাপরিকল্পনা রয়েছে। তবে এগুলোরও কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়ন নেই।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা ছাড়াই আলাদাভাবে মহাপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। এর অনেকগুলোই কাগজে রয়ে গেছে। ভবন নির্মাণের ছাড়পত্র দেওয়া হলেও সড়ক, খাল ও নাগরিক সুবিধা বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই।

ছোট শহরেও বাড়ছে চাপ : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে দেশের ২৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ মানুষ নগরে বাস করত। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশে দাঁড়ায়। ছোট শহরের চারপাশে অপরিকল্পিত বসতি বাড়ায় পৌরসভার সীমানার বাইরেও নাগরিক সুবিধার চাহিদা বাড়ছে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এসএনভি’র এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিলেটে জলাভূমি কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শহরে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। বড় শহরেও অবকাঠামো ও সেবার চরম ঘাটতি রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার মাত্র ২০ শতাংশ বাসিন্দার পাইপভিত্তিক পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ আছে। আর কার্যকর পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা পায় মাত্র ২ শতাংশ মানুষ।

এদিকে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬ থেকে ২০২০) দেশে প্রায় ৫৭০টি নগরের কথা বলা হয়। অন্যদিকে, এলজিইডির ২০০৫ সালের গ্রামীণ সড়ক মহাপরিকল্পনায় ২ হাজার ১০০টি গ্রোথ সেন্টারের (গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল কেন্দ্র) হিসাব দেওয়া হয়।

সরকারের নতুন উদ্যোগ : সরকার সারা দেশের জন্য ‘জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কোথায় নগর বা শিল্প হবে, কোথায় কৃষি জমি ও জলাশয় রক্ষা পাবে-তার দিকনির্দেশনা থাকবে এতে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘জাতীয় নগর নীতিমালা-২০২৫’ অনুমোদন করে সরকার। এরপর ১০ এপ্রিল কার্যকর হয় ‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন-২০২৬’। এ আইনের অধীনে জাতীয় ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর (ইউডিডি)। গত জুলাইয়ে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা পরিষদ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইউডিডির পরিচালক ড. মো. মাহমুদ আলী যুগান্তরকে বলেন, আগে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে শাস্তির বিধান ছিল না। নতুন আইনে পরিকল্পনা লঙ্ঘন করে নির্মাণ করলে কাজ বন্ধ ও উচ্ছেদের বিধান রাখা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরের বাসযোগ্যতা বাড়বে।

অন্যদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, নগরের সমস্যা সমাধানে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নকেও পরিকল্পনার আওতায় আনতে চায়। গ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লে শহরে আসার চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জনসমুদ্র ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে: তারেক রহমান

ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে: তারেক রহমান

পোশাক শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক, প্রশ্ন পরিমাণে

বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক, প্রশ্ন পরিমাণে

বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস আজ মাস্টার প্ল্যানের বাইরে দেশের ৮৪ শতাংশ

মাস্টার প্ল্যানের বাইরে দেশের ৮৪ শতাংশ

ঋণের শর্তে ভর্তুকি ছাঁটাইয়ের তাগিদ তেল গ্যাস বিদ্যুৎ সারে দাম বৃদ্ধির চাপ আইএমএফের

তেল গ্যাস বিদ্যুৎ সারে দাম বৃদ্ধির চাপ আইএমএফের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম