Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জনসমুদ্র

ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে: তারেক রহমান

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-পথজুড়ে মানুষের ঢল। কোথাও স্লোগানের গর্জন, কোথাও লাল-সবুজের পতাকা, আবার কোথাও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস। শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির শোভাযাত্রা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বিকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে ‘সার্বভৌমত্ব’ শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। এর আগে র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। সীমান্তের ওপার থেকেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ষড়যন্ত্র দেশের ভেতরে হোক বা বাইরে, একে একে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে। এ ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল থেকে রাজধানী ও আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উপস্থিতি। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসা নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বেলা পৌনে ৩টায় নয়াপল্টনে র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে নেই। পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা আবারও দেশে গুম-খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।’ প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে একই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। অতীতের মতো এখনো একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করতে চায়, তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না। বেলা সোয়া ৩টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। নিরাপত্তাকর্মী ও দলীয় নেতাকর্মীদের বেষ্টনীর মধ্যে হেঁটেই তিনি শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অভিবাদনের জবাবে হাত নেড়ে তিনি শুভেচ্ছা জানান। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে পুরো শোভাযাত্রা পরিণত হয় জনতার মিছিলে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে র‌্যালিতে মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী অংশ নেন। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হাতে ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা, বিএনপির দলীয় পতাকা এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড। নানা রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে রাখেন পুরো পথ।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত তাদের জনগণ বারবার পরাজিত করেছে। আবারও তারা ষড়যন্ত্র করার জন্য মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই-যে কোনো মূল্যে আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব। এটাই হোক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রতিজ্ঞা। যতদিন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন এ বিপ্লবের র‌্যালি চলমান থাকবে।

এর আগে র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান ও ফরহাদ হালিম ডোনারসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

সরেজমিন দেখা যায়, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রা ঘিরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। সকাল থেকে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয় মঞ্চ ও দলীয় কার্যালয়। রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে পল্টন ও কাকরাইল এলাকায় আসেন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা জড়ো হন নয়াপল্টনে।

নেতাকর্মীদের হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং দলের শীর্ষ নেতাদের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড। নানা রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে স্লোগানে মুখর করে তোলেন তারা পুরো এলাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগমও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে নয়াপল্টন ও আশপাশের সড়কে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে।

শোভাযাত্রা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দলের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ প্রস্তুতি। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরা। পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জনসমুদ্র ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে: তারেক রহমান

ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে: তারেক রহমান

পোশাক শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক, প্রশ্ন পরিমাণে

বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক, প্রশ্ন পরিমাণে

বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস আজ মাস্টার প্ল্যানের বাইরে দেশের ৮৪ শতাংশ

মাস্টার প্ল্যানের বাইরে দেশের ৮৪ শতাংশ

ঋণের শর্তে ভর্তুকি ছাঁটাইয়ের তাগিদ তেল গ্যাস বিদ্যুৎ সারে দাম বৃদ্ধির চাপ আইএমএফের

তেল গ্যাস বিদ্যুৎ সারে দাম বৃদ্ধির চাপ আইএমএফের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম