Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

রমেক হাসপাতালে লাশ নিয়ে হাতাহাতি

মৃত নারীর ছেলেকে কান ধরে ওঠবস তদন্তে কমিটি

Advertisement

Icon

রংপুর ব্যুরো

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মৃত নারীর ছেলেকে কান ধরে ওঠবস তদন্তে কমিটি

ফাইল ছবি

Advertisement

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে এক নারী রোগীর মৃত্যু নিয়ে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতি এবং মৃত নারীর ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানের আদেশে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আব্দুল বাসেতকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয় এবং ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন-কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু জাহিদ ও সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কানিজ সাবিহা।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম (৬২) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ জুন ভোরে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার ছোট ছেলে রিফাতের দাবি, মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি চিকিৎসকের কাছে অক্সিজেন দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে চিকিৎসক আগে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান এবং তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। মৃত নুর নাহার বেগমের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, মায়ের লাশ আটকে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও নামিয়ে হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। এর জন্য মূলত অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম হয়েছে।

এদিকে ‘ওই সময় উত্তেজিত রমেকের ছাত্র ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মৃত রোগীর ছোট ছেলে রিফাতকে আটক করে চিকিৎসকের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বাধ্য করেন। এরপর তাকে হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে নিয়ে গিয়ে সেখানে তাকে পুনরায় কান ধরে ওঠবস করায় এবং তার ভিডিও ধারণ করে। তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।’ এ কথা মঙ্গলবার জুম্মাপাড়ায় নিজ বাসায় এই প্রতিবেদককে বলেন মৃত নুর নাহারের ছেলে রিফাত। তিনি আরও বলেন, ‘মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় আমি কিছুটা ক্ষুব্ধ হই। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সঙ্গে যা হয়েছে তা শোকের কারণে অবচেতনভাবে হয়েছে। তাই ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু পরে ছাত্ররা আমাকে যখন পরিচালকের কক্ষে নিয়ে ক্ষমা চেয়ে কান ধরে ওঠবস করতে বলে সে সময় আমি ভয় পাই ও অসহায় হয়ে পড়ি। মায়ের লাশ পাওয়ার জন্যই কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য হয়েছিলাম।’

রমেক হাসপাতাল পরিচালক বলেন, সেদিন যা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মৃত নারীর ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করার বিষয়টি তিনি জানতেন না। ঘটনাটি দুঃখজনক। ঘটনার পর হাসপাতালে জরুরি সেবা বন্ধ ছিল। ছাত্র, কর্মচারী, চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মাঝে উত্তেজনা চলছিল, তাই কে কখন কী করেছে তা তিনি জানতেন না। এছাড়া লাশ আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতাল পরিচালক বলেন, লাশ দেওয়ার আগেই রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে ওই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

রমেকে এক মেশিনে চলছে ক্যাথল্যাব, বাড়ছে হৃদরোগীদের ভোগান্তি

রমেকে এক মেশিনে চলছে ক্যাথল্যাব, বাড়ছে হৃদরোগীদের ভোগান্তি

রমেকে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

রমেকে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

লাশ নিয়ে চিকিৎসক-স্বজন হাতাহাতি, মৃতের ছেলেকে ‘কান ধরে উঠবস’

লাশ নিয়ে চিকিৎসক-স্বজন হাতাহাতি, মৃতের ছেলেকে ‘কান ধরে উঠবস’

রমেক হাসপাতালে আইসিইউতে তীব্র শয্যা সংকট, ৩৫ দিনে ৩৫ জনের মৃত্যু

রমেক হাসপাতালে আইসিইউতে তীব্র শয্যা সংকট, ৩৫ দিনে ৩৫ জনের মৃত্যু

নিউমোনিয়া-শ্বাসকষ্টে তিন দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু, ৪ জনের হাম শনাক্ত

রংপুর মেডিকেল নিউমোনিয়া-শ্বাসকষ্টে তিন দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু, ৪ জনের হাম শনাক্ত

রংপুর মেডিকেলের দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল করা হবে: এমপি মাহবুবুর

রংপুর মেডিকেলের দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল করা হবে: এমপি মাহবুবুর

আরও পড়ুন

ব্যাংকে গ্রাহকের সঞ্চয় মূল্যস্ফীতির পেটে মুনাফা

মূল্যস্ফীতির পেটে মুনাফা

ইলিশের নামে ‘রুপালি ধোঁকা’

ইলিশের নামে ‘রুপালি ধোঁকা’

সবজির দামে আগুন শিম ২০০ টাকা

সবজির দামে আগুন শিম ২০০ টাকা

রাজশাহীতে বাদীর বাড়িতে ওসিসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আ.লীগ নেতা মামলা না তুললে মেরে গুম করে ফেলব

মামলা না তুললে মেরে গুম করে ফেলব

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম