Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

বৃত্তির ফল ফাঁস

প্রাথমিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ঘাটতি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাথমিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ঘাটতি

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

Advertisement

২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ওয়েবপোর্টালে প্রকাশিত হওয়ায় দায়িত্বে থাকা সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত কক্ষে আগুন লাগার ঘটনাও আলোচনায় আসে। যদিও ওই ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করেছে। ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ঘটনায় প্রাথমিক অধিদপ্তরের তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একের পর এক এমন ঘটনায় শুধু ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ করলেই হবে না। পুরো তথ্যপ্রযুক্তি ও নথি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৮ জুলাই বৃত্তি পরীক্ষার ফল চূড়ান্ত করা হয়। ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েব লিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মেহতাব কায়েসকে। তাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আগে কোনোভাবেই ফলাফল লাইভ সার্ভারে প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু ৯ জুলাই সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলার ফলাফল ওয়েবপোর্টালে আপলোড হয়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবহারকারীরা সেই লিংক থেকে ফল ডাউনলোড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরদিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বৃত্তির ফল ফাঁসের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অধিদপ্তর জানিয়েছে, লাইভ সার্ভারে লিংক তৈরি ও ফলাফল আপলোডের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণেই অনুমোদনের আগেই ফল জনসমক্ষে চলে আসে। ঘটনার গঠিত তিন সদস্যের কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল প্রকাশের আগে তা সাধারণত পরীক্ষামূলক সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট সময়েই তা লাইভ সার্ভারে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এই ঘটনায় দেখা গেছে, চূড়ান্ত ফল এমন অবস্থায় ছিল, যেখান থেকে লিংক সচল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহারকারীরা তা ডাউনলোড করতে পেরেছেন।

একজন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, তার বিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো পাঁচজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। আরেক অভিভাবক জানান, তার ভাগনে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। কিছু সময় পর অধিদপ্তর জানায়, ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তখন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব সাখাওয়াৎ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বৃত্তির ফল ফাঁসের ঘটনায় এক কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সাপেক্ষে এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতদের শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি

প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতদের শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিসহ ৯ দাবি

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিসহ ৯ দাবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র ও পদায়ন আদেশ জারির নির্দেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র ও পদায়ন আদেশ জারির নির্দেশ

‘দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ের আওতায় আসছে’

‘দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ের আওতায় আসছে’

প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষকের জন্য সুখবর

প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষকের জন্য সুখবর

নাচোলে ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, পাঠদান ব্যাহত

নাচোলে ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, পাঠদান ব্যাহত

আরও পড়ুন

ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল প্রাণীর কামড় নিয়ে দিনে আসছেন ১২শ রোগী

প্রাণীর কামড় নিয়ে দিনে আসছেন ১২শ রোগী

রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি ঐতিহ্য হারিয়ে ধুঁকছে পাঠকখরায়

ঐতিহ্য হারিয়ে ধুঁকছে পাঠকখরায়

সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিশ্চয়তা শাহবাগে বিক্ষোভ

নিয়োগে অনিশ্চয়তা শাহবাগে বিক্ষোভ

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বড় ঋণ গ্রাহকরাই বেশি খেলাপি

বড় ঋণ গ্রাহকরাই বেশি খেলাপি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম