Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

ছয় হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল পরিশোধে চমক

আইপিপির পাওনা মাত্র ২৫৬৬ কোটি টাকা * চার কেন্দ্র অগ্রিম নিয়েছে ৪০০ কোটি টাকা * বিল পরিশোধে বৈষম্যের অভিযোগ

Advertisement

শাহেদ সিদ্দিকী

শাহেদ সিদ্দিকী

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল পরিশোধে চমক

Advertisement

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির আগস্ট পর্যন্ত পিডিবির কাছে পাওনা ছিল ১২ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি-আইপিপিগুলোর পাওনা ছিল ১১ হাজার ৭৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সরকারের ৬ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ এবং বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের কারণে সেই পাওনা এখন ২ হাজার ৯২১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এর মধ্যে আইপিপিগুলোর পাওনা আছে ২ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। এদিকে ৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বকেয়া পরিশোধের পর অতিরিক্ত ৪০০ কোটি টাকার বেশি দেওয়া হয়েছে। এরপরও অনেক তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। অভিযোগ আছে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল পরিশোধে বৈষম্য করা হয়েছে। সব কোম্পানিকে সমানভাবে বিল পরিশোধ করা হয়নি। একজন বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, ‘বকেয়া পাওনার হিসাব অনুযায়ী সমানভাবে অনেক ক্ষেত্রে বিল দেওয়া হয়নি। এতে অনেক কোম্পানি ঠিকমতো ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না।’ তবে পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা ঠিক না। বিদ্যুৎকেন্দ্রের এলাকা, পারফরম্যান্স এবং অন্য সবকিছু হিসাব করে বিল দেওয়া হয়েছে। কারও প্রতি অবিচার করা হয়নি।’ জানা যায়, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এইচএফ পাওয়ার লিমিটেডকে পাওনার চেয়ে ২৫৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বেশি দেওয়া হয়েছে। এভাবে কাঞ্চন পূর্বাচল ৫৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রকে ৭০ কোটি, গাজীপুরের আরপিসিএল ৫২ মেগাওয়াট কেন্দ্রকে ৯ কোটি এবং সরকারি মধুমতি ১০৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্রকে ৭২ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরপিজিসিএল রাউজান, ডাচ-বাংলা পাওয়ার, লংকা পাওয়ার, ভৈরব পাওয়ার, দেশ এনার্জি চাঁদপুর, দেশ এনার্জি হাতিয়া, বারাকা পতেঙ্গা, বিআর পাওয়ার মিরেরসরাই কেন্দ্রের কোনো বকেয়া নেই। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলাকাভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা বিবেচনা করে অনেক কেন্দ্রকে তেল কিনতে অগ্রিম অর্থ দেওয়া হয়েছে। এই মাসের বিলের সঙ্গে সেই অর্থ সমন্বয় করা হবে।

তবে পিডিবির কাছে কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর ২৭৮ কোটি, কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া-২ কেন্দ্র ২৩৪ কোটি, ডিজিটাল পাওয়ার ২৮৪ কোটি, ওরিয়ন পাওয়ার রূপসা ১০৩ কোটি, ওরিয়ন পাওয়ার সোনারগাঁও ১০৪ কোটি (এই কেন্দ্র অনেকদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে না বলে পিডিবির অভিযোগ), সামিট গাজীপুর কেন্দ্র ২০৫ কোটি, ইউনাইটেড ময়মনসিংহ কেন্দ্র ২৭৭ কোটি, ইউনাইটেড আানোয়ারা কেন্দ্র ১৬১ কোটি, মিডল্যান্ড ইস্ট পাওয়ার ১৬১ কোটি এবং ডিজেলভিত্তিক এনডব্লিউপিজিসিএল খুলনা কেন্দ্র ৪২৭ কোটি টাকা এখনো পাবে। যদিও পিডিবির নিজস্ব তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাওনা বকেয়া নেই।

তেলভিত্তিক আইপিপিগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বকেয়া মাত্র আড়াই হাজার কাটি টাকা দেখানো হলেও এটি সঠিক হিসাব নয়। কারণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে পিডিবির সঙ্গে কয়েক মাস ধরে আইপিপিগুলোর মামলা চলছে। এতে বলা হয়েছে, চাহিদামতো বিদ্যুৎ না দিয়ে আইপিপিগুলো প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বিল বেশি নিয়ে গেছে। সেই মামলায় আইপিপিগুলো আপত্তি জানিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসিতে মামলা করেছে। সেই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে।

গত মে মাসে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের বিল ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় গত মাসে। এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে ৬ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেয় অর্থ বিভাগ। এই টাকা পাওয়ার পর বেসরকারি কেন্দ্রের বকেয়া পাওনা পরিশোধ আগের চেয়ে বেড়েছে। এরপরও তেল, কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক সব কেন্দ্রের সরকারের কাছে পাওনা আছে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এদিকে সরকার তেল কিনতে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও অনেক কেন্দ্রে এখনো পর্যাপ্ত তেল নেই। বিশেষ করে সরকারি কেন্দ্র দোহাজারীতে মাত্র ৪ টন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কেন্দ্রে ১০৪ টন, ইনডেক্সের টাঙ্গাইল কেন্দ্রে ২৫ টন এবং পূর্বাচল কেন্দ্রে ২৪ টন মজুত আছে। আর বিআর পাওয়ারের কড্ডা কেন্দ্রে কোনো তেল মজুত নেই। লংকা পাওয়ার ফেনী কেন্দ্রে মাত্র ৫ টন, কুমিল্লা কেন্দ্রে ১২ টন এবং নাটোর কেন্দ্রে মাত্র ৩ টন তেল মজুত আছে। তবে অন্যান্য বেসরকারি কেন্দ্রে মোটামুটি তেল মজুত আছে। এছাড়া এক মাসে এক লাখ টনের বেশি ফার্নেস অয়েল দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যাংকে এসে জমা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে ফার্নেস অয়েল সহজে মিলছে না। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আগের মতো স্বল্পসময়ে তেল আনা কঠিন। তবে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে শিগ্গিরই, যাতে তেলের মজুত বাড়িয়ে লোডশেডিং কমিয়ে আনা যায়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

নিষ্পত্তির অপেক্ষায় সোয়া লাখ জনস্বার্থে করা রিটের রায় বাস্তবায়ন উপেক্ষিত

জনস্বার্থে করা রিটের রায় বাস্তবায়ন উপেক্ষিত

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ অপার সম্ভাবনার এ দেশে কেন বিদেশি পর্যটক কম

অপার সম্ভাবনার এ দেশে কেন বিদেশি পর্যটক কম

আধুনিক সেবার প্রসার মেঘের রাজ্য মারাইংতং

মেঘের রাজ্য মারাইংতং

শিল্প ও সেবা খাত চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ ছাড়ে গতি নেই ৪ মাসেও

প্রণোদনার ঋণ ছাড়ে গতি নেই ৪ মাসেও

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম