Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

জাতিসংঘ প্রতিবেদন

সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাসহ মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়ছে

Advertisement

Icon

নেসারুল হক খোকন, নিউইয়র্ক থেকে

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাসহ মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়ছে

Advertisement

২০২৫ সালে কক্সবাজার থেকে সমুদ্রপথে ৪০৭টি মানব পাচারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। ওই বছর ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বের হন এবং প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন ৮৯০ জনের বেশি। এ বছর গত মে পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪৯ জন সমুদ্রপথে যাত্রা করে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৫৬ ভাগ বেশি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সরকারের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির থেকে সমুদ্রপথে মানব পাচারের ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে। তুলে ধরা হয়েছে ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ, সুরক্ষা এবং পাচার প্রতিরোধে পদ্ধতিগত ঘাটতির বিষয়টিও। তবে নথিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তারা আগাম কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। রিপোর্টে কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে রোহিঙ্গা শিবির থেকে ৪০৭টি মানব পাচারের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪৮ জন পুরুষ, ৮৮ জন নারী, ৪১ জন ছেলে এবং ২৯ জন মেয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ছিলেন ৬১ শতাংশ, নারী ২২ শতাংশ, ছেলে ১০ শতাংশ এবং মেয়ে ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুদের সংখ্যা ২১ শতাংশ। নারী ও মেয়েদের কারখানা ও গৃহস্থালি কাজ এবং অন্যদের চাকরি, শিক্ষা ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের কথা বলা হয়েছে।

উদ্ধার ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের তথ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত আনার পর কখনো কখনো তাদের আটক করা হয়। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে দেরি হলে তাদের ভুক্তভোগী হিসাবে সহায়তা দেওয়ার বদলে অপরাধী হিসাবে বিবেচনার ঝুঁকি তৈরি হতে দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে। নথিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচারের সম্ভাব্য ভুক্তভোগী শনাক্ত ও সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে, অভিবাসী, রোহিঙ্গা এবং আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পাচারের লক্ষণ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া সব সময় নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করা হয় না। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানতে চেয়েছেন, সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কীভাবে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয় এবং তাদের মানব পাচারের সম্ভাব্য ভুক্তভোগী হিসাবে কীভাবে যাচাই করা হয়।

এছাড়া আন্দামান সাগরে ২৫০ জন নিহত বা নিখোঁজসংক্রান্ত রিপোর্টও স্থান পেয়েছে। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে একটি নৌযান ডুবে প্রায় ২৫০ জন নিহত বা নিখোঁজ ঘটনার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ৪ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে নৌযানটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। ৯ এপ্রিল প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নৌযানটি ডুবে যায়। এতে বলা হয়েছে, ১১ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়াগামী একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ আটজন পুরুষ ও একজন নারীকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে ৮৯০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। তবে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বের হওয়ার তথ্য রয়েছে। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশের বেশি। এসব ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ নারী ও শিশু। এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পৃথক তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, ওই বছর সাড়ে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেন। অর্থাৎ প্রতি সাতজন যাত্রীর মধ্যে প্রায় একজন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।

বাংলাদেশের কাছে ১০ বিষয়ে জবাব চেয়েছে জাতিসংঘ : জাতিসংঘের নথির তথ্য বলছে, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে মোট ১০টি বিষয়ে তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৯ এপ্রিলের নৌকাডুবির পরিস্থিতি ও তদন্ত, সমুদ্র থেকে উদ্ধার ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া, পাচারের ঝুঁকি শনাক্তকরণ, রোহিঙ্গা শিবিরে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, পাচারের ঘটনায় তদন্ত ও বিচার, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণ। এছাড়া দারিদ্র্য, শিক্ষার সীমিত সুযোগ, জীবিকার অভাব, পরিচয়পত্রের সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথের সংকটের মতো মানব পাচারের মূল ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, উত্থাপিত তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা আগাম কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। তবে প্রতিবেদনে কাঠামোগত ঘাটতির ইঙ্গিত রয়েছে এবং তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন।

অর্থ সংকটেও বাড়ছে ঝুঁকি : জাতিসংঘ ও অংশীদারদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গত ২০ মে প্রকাশিত ২০২৬ সালের যৌথ আবেদনে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি সহায়তায় ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই আবেদন ২০২৫ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম। আইওএমের ২০২৬ বাংলাদেশ ক্রাইসিস রেসপন্স প্ল্যানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। সংস্থাটি বলেছে, সীমিত জীবিকা, চলাচলের বিধিনিষেধ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত আইনি পথের অভাব মানব পাচার, শোষণ, শিশুশ্রম এবং অনিয়মিতভাবে অন্যত্র যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ব্যাংকে গ্রাহকের সঞ্চয় মূল্যস্ফীতির পেটে মুনাফা

মূল্যস্ফীতির পেটে মুনাফা

ইলিশের নামে ‘রুপালি ধোঁকা’

ইলিশের নামে ‘রুপালি ধোঁকা’

সবজির দামে আগুন শিম ২০০ টাকা

সবজির দামে আগুন শিম ২০০ টাকা

রাজশাহীতে বাদীর বাড়িতে ওসিসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আ.লীগ নেতা মামলা না তুললে মেরে গুম করে ফেলব

মামলা না তুললে মেরে গুম করে ফেলব

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম