Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

বরিশালে অবাধে নদীর বালু উত্তোলন, ভাঙনের শঙ্কা

বালু বাণিজ্যে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সখ্য

Advertisement

Icon

এস এন পলাশ, বরিশাল

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালে অবাধে নদীর বালু উত্তোলন, ভাঙনের শঙ্কা

Advertisement

বরিশালে ইজারা ছাড়াই রাতের আঁধারে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা। প্রতিনিয়ত নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করছেন তারা। বাণিজ্য চালু রাখতে বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সখ্যও যেন চোখে পড়ার মতো। দিনের পর দিন অবৈধ বালু ব্যবসা চললেও জেলা প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ও চরবাড়িয়ায় ঝুনাহার নদী ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া ও কারখানা নদী থেকে রাতের আঁধারে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব বালু বিভিন্ন উপজেলায় বিক্রি করছেন তারা। ঝুনাহার নদী থেকে ডজনখানেক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ১৫ নেতাকর্মী।

তারা হলেন, চরবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুরুজ, চরবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বসির, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আবিদ, সুজন, নয়ন, হাফিজ, বসির, চরমোনাই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মেহেদি, তারেক রাসেল, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের মাসুম, রায়হান, চাঁদপাশার ফিরোজ মাঝি ও জাকির ভূঁইয়া। এছাড়া তেঁতুলিয়া ও কারখানা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন আসলাম চৌকিদার। বাবুগঞ্জ উপজেলার মিরগঞ্জ এলাকায় বালু উত্তোলন করছেন সহিদ প্যাদা। যদিও তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে এসব লোকজন প্রতি রাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বলে জানান সদর উপজেলার একাধিক বাসিন্দা।

লামছড়ি এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিরোধ থাকলেও বালু ব্যবসার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখা যায়। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযানে ২-১টি ড্রেজার-বলগেট আটক করা হলেও থেমে থাকে না তাদের কার্যক্রম। নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যদের ম্যানেজ করে তারা বাণিজ্য চালান। এ বিষয়ে জানতে বরিশাল কোস্ট গার্ড অফিসে একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বললেও বক্তব্য দিতে রাজি হননি কেউই।

আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বরিশাল সদর নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিম কুমার সিকদার বলেন, অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচলনা করছি। গত মাসেও ৬টি ড্রেজার-বলগেট আটক করে সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া কোথাও বালু উত্তোলন করার খবর পেলে অভিযান চালানো হচ্ছে।

কারখানা নদীতে আসলাম চৌকিদার দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর। বিশারিকাঠি এলাকার মনির পালোয়ান বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করে মাসের পর মাস নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন আসলাম চৌকিদার। আর অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের মুখে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা ফিরোজ খান বলেন, বালু বাণিজ্যের জন্য ইতোমধ্যে বসতবাড়ি ছেড়ে যেতে হয়েছে কয়েকটি পরিবারকে। তারপরেও বন্ধ হয়নি তাদের বাণিজ্য।

এ বিষয়ে জানতে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান মিয়া বলেন, ঘটনাটি আমি জানার পরে কয়েকদিন আগে উপজেলা প্রশাসনসহ অভিযান চালানো হয়। সে সময় আসলাম চৌকিদারের ড্রেজার জব্দ করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, জেলার কোনো নদীতে এ বছর বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। তারপরেও যেসব জায়গায় বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া যাচ্ছে তাৎক্ষণিক সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ব্যাংকে গ্রাহকের সঞ্চয় মূল্যস্ফীতির পেটে আমানতের মুনাফা

মূল্যস্ফীতির পেটে আমানতের মুনাফা

ইলিশের নামে ‘রুপালি ধোঁকা’

ইলিশের নামে ‘রুপালি ধোঁকা’

সবজির দামে আগুন শিম ২০০ টাকা

সবজির দামে আগুন শিম ২০০ টাকা

রাজশাহীতে বাদীর বাড়িতে ওসিসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আ.লীগ নেতা মামলা না তুললে মেরে গুম করে ফেলব

মামলা না তুললে মেরে গুম করে ফেলব

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম