আগের স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ডিআরইউতে রোববার এবি পার্টি আয়োজিত মুক্ত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগের স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছিল, হুবহু একই পথে সরকার হাঁটছে। তারা চব্বিশের কথা ভুলে গেছে। গত সাত মাসে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনে না নেমে বিরোধী দল কি গালে আঙ্গুল দিয়ে বসে থাকবে?’ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর : প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সরকারের পতন চাইনি, চেয়েছিলাম তাদের সফলতা। তাদের সফলতা মানে দেশের সফলতা। আমরা এতদিন বলতাম সরকারকে সহযোগিতা করব, আজকে থেকে ঘোষণা দিচ্ছি ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ, ওদের কোনো যোগ্যতা নাই বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা চব্বিশে দৃষ্টি দিয়েছে, জ্বালাও-পোড়াও লাগে না, খালি হাতে ইমানি বল দেশপ্রেম বুকে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়। এটা আমাদের জন্য শিক্ষা, অনুপ্রেরণা। এ পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব এবং নব্য ফ্যাসিবাদেরও পতন হবে ইনশাআল্লাহ।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারা (বিএনপি) সবার আগে বাংলাদেশের স্লোগান দিলেও আসলে সবার আগে বাংলাদেশ নয়। নিজ, নিজের পরিবার, সন্তান, ভাগনা, ভাতিজা, শ্বশুর, তার স্ত্রী-এগুলো হলো তাদের সবার আগে। আমরা সিন্ডিকেটের কাছে প্রিয় বাংলাদেশকে তুলে দেব না। ওইদিন শেষ।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমাদের মধ্যে একটা মজলুম দল ছিল। এখন আর নেই। ৫ আগস্ট দুপুরবেলা পর্যন্ত ছিল। এরপর থেকেই বিএনপি রাতারাতি তাদের অতীত ভুলে গেছে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘একটা পর্যায় এসে উনারা জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করলেন; যা এখনও অব্যাহত আছে। এখন উনারা কায়দা করে ইনিয়ে বিনিয়ে বিভিন্ন পোশাকের লোকদের মাধ্যমে প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে, এত আগে কেন বিরোধী দল আন্দোলনে? আমরা তো চাইনি! আমরা তো চেয়েছিলাম জাতি একটা ভোট দিয়েছে একটা সরকার গঠন করে পাঁচ বছর চালানোর জন্য। আরেকটা ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য। দুইটা ভোটের মূল্যায়ন যদি বিএনপি করত, আমাদের এক সেকেন্ডের জন্যও সংসদের বাইরে আন্দোলন করার প্রয়োজন হতো না। তারাই আমাদেরকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছেন।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘শত ইঞ্জিনিয়ারিং, চুরি-চামারির পরও জনগণ আমাদেরকে যে কয়টি আসন দিয়েছে, এই ৮৯ জন এমপি সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হয়ে কাজ করবেন-ইনশাআল্লাহ। আমরা কথা দিচ্ছি, বিএনপি বদলে গেলেও আমরা আমাদের কথা বদলাবো না। জুলাই সনদ আর গণভোটের গণরায় ইনশাআল্লাহ আমরা আদায় করেই ছাড়ব।’
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন, এলডিপি’র সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখ।
