অভুক্তের পেট পুরায় ভাসানীর মুসাফিরখানা
৮০ বছর ফ্রি থাকা-খাওয়া
১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠা, প্রতিদিন দুবেলা খাবার * দূর-দূরান্ত থেকে আসেন ভক্ত-অনুসারীরা
Advertisement
জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত মুসাফিরখানায় খাবার খাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তার ভক্ত-অনুসারীরা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাকা নেই, থাকার জায়গা নেই-তবু খাবার ও আশ্রয়ের চিন্তা নেই। টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত মুসাফিরখানায় প্রায় ৮০ বছর ধরে বিনামূল্যে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্ত-অনুসারী, পথচারী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য মানবসেবার এ উদ্যোগ আজও অব্যাহত। প্রতিদিন দুবেলা খাবার দেওয়া হয় এখানে।
১৯৪৬ সালে মওলানা ভাসানী নিজ হাতে এ মুসাফিরখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তার মানবিক আদর্শকে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ কার্যক্রম। সময়ের পরিবর্তন হলেও অসচ্ছল ও দূরপথের যাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ ধরে রেখেছে মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধের স্মৃতি।
রাজনীতির মাঠে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন মওলানা ভাসানী। কৃষক, শ্রমিক ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন সংগ্রাম করেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের ক্ষুধা, দুঃখ ও অসহায়ত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার সেই আদর্শের প্রতিফলন দেখা যায় মুসাফিরখানার সেবামূলক কার্যক্রমে। তার কাছে দূর থেকে কেউ এলে অতিথির খাবার ও প্রয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব পেত-এমন বর্ণনাও বিভিন্ন লেখায় পাওয়া যায়।
আসছেন দূরদূরান্তের মানুষ : ভারতের আসামের লক্ষ্মীপুরের গোয়ালপাড়া থেকে ভাসানীর মুসাফিরখানায় এসেছেন তিন ব্যবসায়ী। তাদের একজন মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের বাপ-দাদারা ভাসানী হুজুরের শিষ্য ছিলেন। তাদের কাছ থেকে হুজুর সম্পর্কে অনেক কথা জেনেছি। আজ সশরীরে সন্তোষে এসেছি। মুসাফিরখানায় উঠে অনেক সেবা-যত্ন পেয়েছি। টাঙ্গাইলে এসে আমাদের ভালোই লাগছে।’
আরেক ব্যবসায়ী সানিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এসেই হুজুরের মাজার জিয়ারত করেছি। বাবা-মায়ের কাছে ভাসানীর ইতিহাস সম্পর্কে জেনেছি। আগে শুনেছি, ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত মুসাফিরখানায় থাকা-খাওয়া ফ্রি। আজ এসে সেটার প্রমাণ পেলাম।’
সাধ্যমতো খাবার দেন কর্মীরা : মুসাফিরখানায় দায়িত্ব পালন করেন আমেনা বেগম। তিনি বলেন, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভক্ত-অনুসারীরা এখানে আসেন। তারা ভাসানীর মাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। তাদের খাবারের সেবা দেওয়ার কাজ করেন তারা। কেউ বাজার করে নিয়ে আসেন, আবার কেউ বাজার ছাড়াই আসেন। যারাই আসেন, তাদের সাধ্য অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয়।
মুসাফিরখানায় প্রায় ৬০ বছর ধরে রান্নার কাজ করছেন চান মিয়া। তিনি বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার এখানে অনুষ্ঠান হয়। এছাড়া প্রতি চান্দ্র মাসের ১১ তারিখেও অনুষ্ঠান হয়। এসব অনুষ্ঠানে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। প্রতিদিন দুবেলা খাবার দেওয়া হয়। যারাই আসেন, তাদের বিনামূল্যে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
চলছে সহযোগিতায় : ভাসানীর দৌহিত্র ও ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি হাসরত খান ভাসানী বলেন, ১৯৪৬ সালে মওলানা ভাসানী এ মুসাফিরখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে প্রায় ৮০ বছর ধরে কার্যক্রম চলছে। হুজুরের মুরিদান ও মুসাফিরখানায় আসা মানুষের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মওলানা ভাসানী হুজুর একটা কথা বলতেন, তার দরগায় কেউ এলে তাকে একটি রুটি দাও। যে কারণে এখানে কেউ এলে না খেয়ে যেতে পারেন না। আল্লাহর রহমতে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।’
