মহাসপ্তমী উদযাপন
আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী উদযাপিত হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মহাসপ্তমী উদযাপন করেন। পঞ্জিকা অনুযায়ী-এ বছর শনি ও রোববার দুদিন ‘মহাসপ্তমী’ তিথি হওয়ায় দুদিনই সপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। দেবীর আরাধনায় পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের দিনভর ভিড় ছিল। আজ দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সকালে পূজা শেষে হাতে ফুল-বেলপাতা নিয়ে ভক্তরা মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে দেবীর পায়ে অঞ্জলি দেন। করজোরে জগজ্জননীর কাছে তারা প্রার্থনা করেন। ঢাকের বাদ্য, কাসর ঘণ্টা বা শঙ্খধ্বনিতে দেবীর আরাধনার পাশাপাশি সব কিছুতেই যেন ছিল একই আর্তি।
আজ দুর্গাপূজার অষ্টমী ও কুমারী পূজা। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজার সময়সূচি অনুযায়ী-সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে মহাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে এবং সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধিপূজা। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু পুরাণ অনুসারে-এ আচার চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করতে দেবী দুর্গার চামুণ্ডা রূপ ধারণ করার মুহূর্তটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
এদিকে, ঐতিহ্য মেনে বিভিন্ন মন্দিরে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেবী দুর্গাকে ‘কুমারী’ বা পবিত্র হৃদয়ের এক কুমারী বালিকার রূপে পূজা করা হয়। রাজধানীতে রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল সাড়ে ৯টায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ আচারের সময় সাধারণত এক থেকে ১৬ বছর বয়সি, বয়ঃসন্ধি-পূর্ব অবিবাহিত বালিকাকে দেবী দুর্গা তথা দিব্য নারীশক্তির জীবন্ত রূপ হিসাবে পূজা করা হয়। এ সময় ভক্তরা কুমারীর চরণে জল, বস্ত্র, ফুল এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কার নিবেদন করেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর যুগান্তরকে বলেন, এবার সরকার অনেক আন্তরিক। প্রশাসন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। এটি সত্যিই ইতিবাচক এবং আমাদের জন্য আনন্দের। এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। বনানী পূজা মণ্ডপের পরিকল্পনাকারী প্রফেসর অমিত কুণ্ডু যুগান্তরকে বলেন, দুর্গাপূজা কেবল একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসাবেই নয়; বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবেও উদযাপিত হয়। এ উৎসব হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্য ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে। যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান-বনানীর দৃষ্টিনন্দন পূজামণ্ডপ (জলজ) দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুলশ বিনিময়ের পাশাপাশি নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের আহ্বান জানান।
