মুক্তি পাননি ককরোচ নেতা সৌরভ-আশুতোষ
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে মুক্ত হলেও দলটির আরও দুই শীর্ষ-আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস এখনো তিহার জেল থেকে ছাড়া পাননি। অবরুদ্ধ যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে পতাকা ওড়ানোর জেরে তাদের মঙ্গলবার আটক করা হয়। তাদের ৫ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হলেও রোববার রাত পর্যন্ত তারা মুক্তি পাননি। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে-আজ কি তারা ছাড়া পেতে পারেন?
আশুতোষ ও সৌরভকে গ্রেফতার দেখিয়েছি দিল্লি পুলিশ। সূত্র জানায়, রোববার তাদের মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন দলের সমর্থকরা। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকেই মুক্ত করা হয়নি। অভিজিৎ দীপকের পরই এ দুই নেতা দলটিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী। যন্তর মন্তরে পতাকা ওড়িয়ে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার ভারতজুড়ে ‘তেরেঙ্গা ওড়াও’ (পতাকা ওড়াও) কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ পরিস্থিতি ক্রমেই বিরোধীদের সমর্থন অর্জন করছে ককরোচরা। তবে সেই সঙ্গে সরকারবিরোধী ক্ষোভও বাড়ছে। দিল্লিসহ পুরো ভারতে জেন-জিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। জোরালো হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি ও ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বিরোধিতা। শুরুতেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রকাশ্যে সমর্থন পেয়েছে দলটি। এবার দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর প্রধান দুদলের সমর্থন পেয়ে ককরোচরা আরও চাঙা। তাদের অব্যাহতভাবে সমর্থন করছেন বলিউডের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র শিল্পীরা।
রোববার কেন আশুতোষ ও সৌরভ মুক্তি পেলেন না-এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। সূত্র জানায়, তাদের জামিনদারদের নথি যাচাই ও মুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে তারা এখনো তিহার জেলে আছেন কিনা, মুক্তির নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি নিশ্চিতকরণ জরুরি।
তরুণীদের নির্জন স্থানে নিয়ে ছাড়া হতো : দিল্লিতে তরুণদের নেতৃত্বে আয়োজিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ১৯ বছর বয়সি এক তরুণীকে পুলিশ আটক করে। কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই তরুণী আল জাজিরাকে জানান, রোববার যখন হাজার হাজার মানুষ মধ্য নয়াদিল্লিতে জড়ো হন, তখন তাকে আটক করা হয়। তারা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছিলেন। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা এ দাবি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।
আটক হওয়ার পর ওই তরুণীসহ কয়েক বিক্ষোভকারীকে পুলিশের একটি বাসে করে বিক্ষোভস্থল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। কাছে কোনো নগদ অর্থ ছিল না, ফোনের চার্জও শেষ হয়ে গিয়েছিল-এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে অন্ধকার রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি, বুঝতে পারছিলেন না এখন কী করবেন। এমন সময় একটি গাড়ি এসে থামল এবং চালক জানতে চাইলেন, তার কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে কিনা। তিনি বলেন, ‘আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। স্বেচ্ছাসেবকরা যখন আমাকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করলেন, তখন মনে হলো যেন কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে, আগে কখনো দেখা হয়নি এমন কেউ এগিয়ে এসে আমাকে এভাবে সাহায্য করবেন।’
নয়াদিল্লি-যা কুখ্যাতভাবে ‘ভারতের ধর্ষণের রাজধানী’ হিসাবে পরিচিত-সেখানে গভীর রাতে একা থাকা এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের গাড়িতে ওঠা কোনো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। এ শহরে গড়ে প্রতিদিন তিনটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে ওই তরুণী জানান, গাড়িতে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের একজনকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চিনতে পারেন। তিনি অনলাইনে ওই ব্যক্তির ভিডিও দেখেছিলেন, যেখানে তাকে আটক বিক্ষোভকারীদের কাছে সাহায্যের প্রয়োজন আছে কিনা তা জিজ্ঞেস করতে দেখা গিয়েছিল। পরিচিত মুখটিকে দেখে তিনি আশ্বস্ত হন যে, যারা তাকে গাড়িতে ওঠার প্রস্তাব দিচ্ছেন, তাদের ওপর ভরসা করা যেতে পারে।
