Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

ছুটি না দিয়ে দুর্ব্যবহার, মেশিনেই মারা গেলেন অসুস্থ পোশাক শ্রমিক

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, ঢাকা উত্তর

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ছুটি না দিয়ে দুর্ব্যবহার, মেশিনেই মারা গেলেন অসুস্থ পোশাক শ্রমিক

Advertisement

ঢাকার আশুলিয়ার একটি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় এক নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কারখানায় কাজের সময় এক কর্মকর্তা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার পরপরই ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন ওই শ্রমিক। ১৬ অক্টোবর তৈরি পোশাকশিল্প গ্রুপ ডেকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থবোধ করায় ওই শ্রমিক কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও উৎপাদনের চাপে তাকে কাজ করতে হয়।

নিহত সুমি আক্তার মিশুর গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলার ডিমলা থানায়। স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে সুইং অপারেটর হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কারখানায় সুমি সুইং মেশিনে কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে তার পাশে আসেন এক ব্যক্তি। এ সময় আরেক ব্যক্তি সুমির দিকে তেড়ে আসেন। তিনি সুইং মেশিন চাপড়াতে শুরু করেন এবং কয়েক দফায় উদ্ধত অঙ্গভঙ্গি করেন। সুমি যে কাপড়টি নিয়ে কাজ করছিলেন, সেটি ছিনিয়ে নিয়ে নিচে ফেলে দেন ওই ব্যক্তি। তার এমন দুর্ব্যবহারের একপর্যায়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন সুমি।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, বিকাল ৫টা ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে সুইং মেশিনে কাজ করা অবস্থায় সুমি ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় মেশিন চাপড়ানো ও উদ্ধত অঙ্গভঙ্গি করা ওই ব্যক্তি কিছুটা দূরে সরে যান। তিনি কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।

একজন নারী শ্রমিক এসে মিশুকে তোলার চেষ্টা করেন। আশপাশের আরও কয়েকজন নারী শ্রমিক এগিয়ে আসেন। ওই ব্যক্তি সুমির মাথার কাছ থেকে কিছু একটা দূরে ছুড়ে ফেলে ঘটনাটি দেখতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। নারী শ্রমিকরা সুমিকে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান। বিকাল ৫টা ৩ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে একটি স্ট্রেচার নিয়ে ফিরে আসেন তারা। পরে সুমিকে স্ট্রেচারে করে ফ্লোর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

সুমির স্বামী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে বিরতির সময় সুমি বাসায় খেতে আসে। খাওয়া শেষে আবার অফিসে যায়। আমি এ সময় বাসায়ই ছিলাম। সে অসুস্থ ছিল না। অসুস্থ বললে তো অফিসেই যেতে দিতাম না।

তিনি আরও বলেন, ফুটেজে যা দেখা গেছে, এটা এক ধরনের নির্যাতন। শরীরে হাত তোলা ব্যতীত যা বলার, করার সব করেছে। খবর পেয়ে ফ্যাক্টরিতে গিয়েছিলাম। পরে তাকে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমি বিচার চাই। এদিকে ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের লাইন সুপারভাইজারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডেকো গ্রুপের জিএম (অ্যাডমিন, এইচআর অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স) সালাউদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে ওই সুপারভাইজারকে শোকজ ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুমির পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সুমির সহকর্মীরা জানিয়েছেন, স্বামী-সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত ছিলেন সুমি। স্বামী কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই হয়তো চিন্তিত ছিলেন। শুনেছি মৃত্যুর ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সুমির পরিবারকে যৌক্তিক সব বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে কেউ এখনো গ্রেফতার হননি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

৮৫০০ কিমি. খননের উদ্যোগ নদীভাঙনে ছোট হচ্ছে ভূখণ্ড

নদীভাঙনে ছোট হচ্ছে ভূখণ্ড

এক দশক পর আজ খুলছে জুলাই স্মৃতিতে সেজেছে ওসমানী উদ্যান

জুলাই স্মৃতিতে সেজেছে ওসমানী উদ্যান

মুক্তি পাননি ককরোচ নেতা সৌরভ-আশুতোষ

মুক্তি পাননি ককরোচ নেতা সৌরভ-আশুতোষ

ইয়েমেনে লড়াই তীব্র, বাড়ছে মানবিক সংকট

ইয়েমেনে লড়াই তীব্র, বাড়ছে মানবিক সংকট

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম