বিশ্বশান্তি কামনায় প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন
Advertisement
রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বান্দরবানে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবে মেতেছেন মারমা সম্প্রদায়ের সদস্যরা। রোববার সন্ধ্যায় রাজারমাঠে ফানুস উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তিন মাসের বর্ষা অধিষ্ঠান শেষে ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠান ও বিশ্বশান্তি কামনার মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে রোববার রাজবন বিহারসহ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে সকাল থেকে দিনব্যাপী ব্যাপক ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় ফানুস উত্তোলনের মাধ্যমে এ আয়োজন শেষ করা হয়।
সদ্ধর্ম রীতি-প্রথা অনুযায়ী বৌদ্ধভিক্ষুরা প্রতি বছর শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে বর্ষাবাস শুরু করে তা তিন মাস পালন শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমা বা শুভ প্রবারণা তিথিতে সমাপ্তি করেন। এজন্য শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ। তাছাড়া এর পরদিন থেকেই মাসজুড়ে বিহারে বিহারে উদযাপন করা হয় দানোত্তম কঠিনচীবর দানোৎসব।
শুভ প্রবারণা উপলক্ষ্যে রোববার সকালে রাঙামাটির রাজবন বিহারে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, পিন্ডদান, বুদ্ধপূজা, সংঘদান, অষ্টপিরস্কারদান, হাজারবাতিদান, সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে সমবেত পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে সদ্ধর্মদেশনা দেন রাজবন বিহারের আবাসিক ভিক্ষুপ্রধান ভদন্ত শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ও ভদন্ত জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান, রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সম্পাদক অমীয় খীসাসহ অন্য সদস্যরা। অনুষ্ঠানে অগণিত পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে।
খাগড়াছড়িতে ৮৪ হাজার প্রদীপ প্রজ্বালন : প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে জেলা সদরের ধর্মপুর আর্য বনবিহার, পানছড়ি অরণ্য কুটিরসহ বিভিন্ন বিহারে সমবেত হন পুণ্যার্থীরা। বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান ও প্রদীপ প্রজ্বালনসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় দিনটি উদযাপন করেন তারা। সকাল থেকেই বিহারগুলোতে চলে ফুল নিবেদন, দান-দক্ষিণা, ধর্মদেশনা ও প্রার্থনা। অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং বিশ্বশান্তি ও সব প্রাণীর মঙ্গল কামনা করেন উপাসক-উপাসিকারা। ধর্মপুর আর্য বনবিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভদ্দজী মহাস্থবির প্রধান ধর্মদেশনা দেন। এ ছাড়া শ্রীমৎ দীপানন্দ স্থবিরসহ অন্য ভিক্ষুরাও ধর্মদেশনা করেন। বিকালে ৮৪ হাজার প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. কায় কিসলু বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য পুলিশ নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।
বান্দরবানে শুরু ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব : বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ (প্রবারণা) উৎসবে মেতেছে বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়। রোববার সন্ধ্যায় বান্দরবানের স্থানীয় রাজার মাঠে তিন দিনব্যাপী উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বান্দরবান সেনা রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার প্রমুখ।
এদিকে সন্ধ্যায় স্থানীয় পুরাতন রাজবাড়ি মাঠ থেকে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের মূল আকর্ষণ অমঙ্গল দমনকারী ড্রাগন আকৃতির আদলে তৈরি করা মঙ্গলরথে বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করে রথটি ঐতিহ্যবাহী রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে অবস্থানরত আসাংম্রাইকে (গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করে) বন্দনা করার উদ্দেশ্যে রশি দিয়ে টেনে নেওয়া হয়। এ সময় বৌদ্ধ ধর্মের নর-নারীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বুদ্ধ মূর্তিকে। এ রথযাত্রা দেখতে রাস্তার দুই পাশে উপচে পড়া ভিড় জমে। এ উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় রাজার মাঠে শিল্পীগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও পিঠা তৈরি উৎসব এবং গৌতম বুদ্ধের স্মরণে আকাশে রং-বেরঙের শত শত ফানুস ওড়ানো হয়। পাহাড়ি পল্লীগুলো ছাড়াও প্রতিটি বৌদ্ধ বিহার থেকে ফানুস ওড়ানো হয়।
