পূজায় ছোটদের সাজ
Advertisement
মুমতাহিনা মেহনাজ অনিভা
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিউলি ঝরা ভোর, কাশফুলের দোল, আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের বাদ্য সবমিলিয়ে শরৎ এলেই শহর যেন বদলে যায় উৎসবের আবহে। পূজার সময় মণ্ডপের আলো, নতুন পোশাকের ঘ্রাণ আর চারপাশের রঙিন ব্যস্ততার মাঝে সবচেয়ে উচ্ছ্বসিত থাকে ঘরের ছোট্ট সদস্যরা। নতুন জামা পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখা, মা-বাবার হাত ধরে মণ্ডপে যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ তাদের কাছে এক মহোৎসব। তাই পূজার প্রস্তুতির পাশাপাশি ছোটদের সাজ নিয়েও পরিবারগুলোতে শুরু হয়ে যায় আগাম ভাবনা; কোন রঙে সাজবে তারা, কেমন হবে পোশাক, আর কীভাবে উৎসবের আনন্দের সঙ্গে মিশবে তাদের স্বচ্ছন্দ শৈশব।
বেশকিছু বছর ধরে পূজার পোশাকে শিশুদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উজ্জ্বল প্রাণবন্ত রং। লাল, হলুদ, কমলা, মেরুন, ইত্যাদি রঙের বৈচিত্র্যে ছোটদের পোশাক যেন আলাদা এক বসন্ত তৈরি করে। মেয়েদের জন্য ফ্রক, ফতুয়া-স্কার্ট, ইত্যাদি; তেমনিই ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি-পায়জামা, কাবলি সেট বেশ জনপ্রিয়।
শিশুদের পূজার পোশাকে নকশার বৈচিত্র্যও থাকছে চোখে পড়ার মতো। টাই-ডাই বা বাটিকের রঙের খেলা, ব্লকপ্রিন্টের ফুল-লতা, ছোট ছোট পাতা ও জ্যামিতিক মোটিফ ইত্যাদি সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারির নকশা পোশাকে এনে দিতে পারে উৎসবের আমেজ। তবে পূজার পোশাক যতই সুন্দর হোক, শিশুদের ক্ষেত্রে আরামই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঢাকার পূজার দিনগুলোতে দীর্ঘসময় মণ্ডপে ঘোরাঘুরি, ভিড়ের মধ্যে হাঁটা, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া এবং গরম আবহাওয়ার কারণে ভারী পোশাক অনেক শিশুর জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই নরম ও তুলনামূলকভাবে হালকা সুতি, বয়েল বা লিনেনের পোশাক বেছে নিতে পারেন। পোশাকের কাটও হওয়া দরকার এমন, যাতে শিশু দৌড়াতে, খেলতে কিংবা সহজে বসতে পারে। খুব আঁটোসাঁটো গলার অংশ, শক্ত কোমরবন্ধ বা অতিরিক্ত ভারী কাজের পোশাক এড়িয়ে চলাই স্বস্তিদায়ক। পুরো পরিবারকে হুবহু একই পোশাকে না সাজিয়েও একই রং, প্রিন্ট, বর্ডার বা এমব্রয়ডারির মাধ্যমে তৈরি করা যায় সুন্দর সমন্বয়। এ ছাড়া পুরো পরিবার মিলে একই কাপড়ের তৈরি পোশাক পরতে পারেন।
মেয়েদের চুলে রঙিন ফিতা, ছোট ফুলের ক্লিপ বা হালকা হেয়ারব্যান্ড, হাতে সরু চুড়ি কিংবা ছোট্ট টিপ সবই হতে পারে সাজের অংশ। ছেলেদের ক্ষেত্রে পাঞ্জাবির সঙ্গে ছোট্ট কটি, নেহরু জ্যাকেট বা সাধারণ স্যান্ডেল মানিয়ে যেতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ভারী গয়না বা অস্বস্তিকর জুতা নয়, এমনকিছু বেছে নেওয়াই ভালো, যা দীর্ঘসময় পরও বিরক্তির কারণ হবে না।
তাই পূজার সাজে ছোট্টদের জন্য ফ্যাশনের সঙ্গে স্বস্তি, পছন্দের রং আর ঐতিহ্যের সঙ্গে একটু আধুনিকতা মিলিয়ে দিতে পারলেই তাদের উৎসব হয়ে উঠবে আরও আনন্দময়।
