উৎসবে পোশাকের বৈচিত্র্য
Advertisement
ফারিন সুমাইয়া
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশেষ দিনের বিশেষ আয়োজনে ভিন্নতা চান সবাই। তাই উৎসবের দিনগুলোয় পোশাকের মাঝে রঙের আর ধরনের ভিন্নতা চোখে পড়ে সবার আগে। সময় আর আয়োজন বুঝে দিনক্ষণের হিসাব মিলিয়ে নিজের ও পরিবারের জন্য কেনাকাটার পর্ব থাকে লম্বা সময়। বাড়ির বড়দের পোশাকের দিকটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমন ছোটদের দিকটিও। যেহেতু উৎসবের আমেজ-তাই রঙের ছোঁয়া চাই শতভাগ। আর তা যদি হয় পূজা কেন্দ্র করে, তবে বাড়তি রং আর কারুকাজের মেলা বসে পোশাকের ভাঁজে ভাঁজে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় উৎসব দুর্গাপূজা। মণ্ডপ থেকে শুরু করে ঘরের ভেতরের সাজসজ্জা কোনো কিছুতেই চাই না কোনো অপূর্ণতা। তাই পূজা এলেই আগে থেকেই চলে কেনাকাটা আর পূজার প্রস্তুতির পালা। যেহেতু উৎসব, তাই ছেলেমেয়ে, ছোট-বড় সবার জন্যই চাই পোশাকে নতুনত্বের ছোঁয়া। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোয়ও তাই কাটে রাত-দিন ব্যস্ত সময়। মৌসুমের এ সময়ের আবহাওয়া বুঝে কাপড় যেমন বেছে নিতে হয়, তেমনি রঙের বেলায়ও বেশকিছু বিষয় রাখতে হয় নজরদারিতে। ছেলেদের পোশাক মানেই পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, প্যান্ট আর ক্যাজুয়াল আউটফিট। যেহেতু ঘরেও বেশকিছু সময় অনেক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়, তাই আরামের দিকটিও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। আর যেহেতু অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে আলাদা করে, কাজেই ফর্মাল শার্ট সঙ্গে প্যান্ট হতে পারে আপনার উৎসবের দিনগুলোর সঙ্গী। তবে পূজার আয়োজনের মূল আকর্ষণ থাকে পাঞ্জাবির বেলায়। কটন, সিল্ক অথবা সুতি কিংবা খদ্দর কাপড়ের মাঝে আছে হাতের কাজের ভিন্নতা। সঙ্গে প্রিন্টের কিংবা এক রঙের কাপড়ের মাঝেই উৎসবের আমেজের ছোঁয়া। গরমের শেষভাগে এসেও যখন গরম পিছু ছাড়তে নারাজ, তখন গাঢ় রং যেমন-লাল, কমলা, নীল এ ধরনের রঙের সরাসরি দেখা পাওয়া মুশকিল পছন্দের পোশাকের মাঝে। এর বাইরে বরং ধূসর, সাদা, মেজেন্টা, বেবি পিংক কিংবা সাদার মাঝে যত শেড আছে তার দেখা পাওয়া যায় এ পূজার আয়োজন ঘিরে।
ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের পোশাক মানেই শাড়ির আধিপত্য। সুতি, জামদানি, তাঁতের শাড়ি কিংবা কাতানসহ সিল্কের মাঝে কত শত কারুকাজ আর রঙের দেখা পাওয়া যায় পূজার উৎসব কেন্দ্র করে। শাড়ি ছাড়া যেন পূজার আয়োজন অসম্পূর্ণ। শাড়ির পরই আসে সালোয়ার কামিজ, কুর্তিসহ ওয়েস্টার্ন কালেকশনের হরেকরকম আয়োজন। সবকিছুর মাঝেই সবাই খোঁজে আরাম, সঙ্গে কিছুটা নতুনত্ব আর ভিন্নতা।
বড়দের পাশাপাশি ছোটদের আনন্দ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই শিশুর আরামের দিকটি নিশ্চিত করা চাই সবার আগে। শিশুদের পোশাকের বেলায় কাপড়ের ক্ষেত্রে সুতির কোনো বিকল্প নেই। যেহেতু মণ্ডপে ঘোরাঘুরি আর সঙ্গে থাকে শিশুদের খেলাধুলার বিষয়টি, তাই ঘাম যাতে শুষে নেয় আর বাতাস যাতে প্রবেশ করতে পারে এমন ঢিলেঢালা পোশাক বেছে নিতে হবে পোশাকের বেলায়। শিশুদের বেলায় রঙের কোনো কার্পণ্যতা নেই। বরং উজ্জ্বল রং ছাড়া আয়োজন যেন অসম্পূর্ণ।
অনেকেই তাই অনেকটা সময় ধরে ঘুরে ঘুরে প্রিয় মানুষদের জন্য কেনাকাটার পর্ব শেষ করেন। অনেকেই আবার অনলাইনেই করেন কেনাকাটা, এতে সময় বাঁচে অনেকখানি। তবে যেভাবে হোক কেনাকাটা-তা যাতে হয় মনেরমতো পাশাপাশি আরামদায়ক, সেদিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন সবার আগে। তবেই আপনার বিশেষ দিনগুলো রঙে আর পোশাকের নতুনত্বে পাবে পূর্ণতার আমেজ।
