জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই সময়ের দাবি
Advertisement
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা করেছে। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে সাধারণ ছাত্র-জনতার অসামান্য আত্মত্যাগ রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি করেছে, তাকে অর্থবহ পরিণতি দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। গত ১২ আগস্ট দৈনিক ‘যুগান্তর’ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও সামরিক বিশ্লেষকরা এ ঐতিহাসিক রূপান্তরের বহুমাত্রিক দিক নিয়ে আলোকপাত করেছেন।
ড. মাহবুব উল্লাহ্
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে বিপ্লব হয়নি, গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। বিপ্লব হলে সমাজের মৌলিক কাঠামো পালটে যায় এবং পুরোনো রাষ্ট্র ও সামাজিকব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ঘটনায় বিপুল আত্মত্যাগ ও গণসম্পৃক্ততা থাকলেও সেই অর্থে সমাজের মৌলিক রূপান্তর ঘটেনি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ ও ২০২৪ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর্যায়। ইতিহাসকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বয়ানে সীমাবদ্ধ না রেখে এসব ঘটনার বহুমাত্রিক বাস্তবতা নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত রাষ্ট্রের সৃষ্টি এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান বাংলাদেশের ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসের আলোচনা অনেক সময় ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করা হয়। এর আগে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাঙালির বিকাশের ধারাকে যথাযথভাবে আলোচনায় আনা হয় না।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের বয়ান হিসাবে দেখলে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস পাওয়া যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের পাশাপাশি তৎকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভূমিকা এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও আলোচনায় আসা প্রয়োজন।
২০২৪ সালের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র ও সমাজকে কীভাবে রূপান্তর করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করা। শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না; পুরোনো ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। বিশ্বব্যবস্থা এখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক একমেরু বিশ্বব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে চীনসহ বিভিন্ন শক্তির উত্থানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের চীন ঠেকাও নীতির প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ছে। তিস্তা প্রকল্প, বাংলাদেশ-মিয়ানমার যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা, মোংলা বন্দর ও চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশকে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। এ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে যারা দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে, তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিভক্ত হয়ে পড়লে সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন কঠিন হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক জটিল আন্তর্জাতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে একদিকে বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে দেশের নিজস্ব স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন। এ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে।
মহিউদ্দিন আহমদ
ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার অনাবশ্যক তুলনা না করে প্রতিটি পটভূমির স্বকীয়তাকে সম্মান জানাতে হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-এ দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আবেগ ভিন্ন হলেও দুটির পেছনেই ছিল প্রতারিত জন-আকাঙ্ক্ষার ক্ষোভ।
গত ৩০০ বছরে এ অঞ্চলে পলাশীর যুদ্ধ, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মতো নানা বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত ঘটেছে। ৬৯-এর আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। তবে ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের জন-আকাঙ্ক্ষা-পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়িত না হওয়ায় ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটেছিল।
রাষ্ট্র পরিচালনায় যখন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন যে কোনো দেশের রেজিম চেঞ্জ বা সরকার পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে ওঠে। এ জায়গাটিতে ১৯৭৫ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের একটি বড় মিল রয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সাংবিধানিক উপায়ে পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় ২০২৪ সালের ঘটনাও অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
’৭১ বড়, নাকি ’২৪ বড়-এটি একটি সম্পূর্ণ কুতর্ক। যেমন রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মধ্যে তুলনা করার কোনো প্রয়োজন নেই। তেমনই এ দুটি ঐতিহাসিক ঘটনারও তুলনা চলে না। যে তরুণ প্রজন্ম ’২৪-এর আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিল-তাদের কাছে ’২৪-এর আবেগই প্রধান। আবার যারা ’৭১ দেখেছে-তাদের কাছে ’৭১-এর আবেগ অটুট। উভয় ঘটনারই নিজস্ব গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রাণ হলো তার নাগরিক সমাজ। অথচ বিগত সময়ে সিভিল সোসাইটিকে নানাভাবে আক্রমণ করা হয়েছে এবং সরকারের তাঁবেদার গোষ্ঠীতে পরিণত করার চেষ্টা চলেছে।
দেশে এমন অনেক সরকারি সংস্থা ও ‘হোয়াইট এলিফ্যান্ট’ প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা বছরের পর বছর জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পুষতে হচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষ তাদের কাছ থেকে কোনো উপকার পাচ্ছে না। রাজনীতিকদের মানসিকতা ও নেতৃত্ব ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন না হলে রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ব্যবহার রয়েছে। যে জিনিস আমার পছন্দের বিরুদ্ধে যায়, সেটাকে বলি ষড়যন্ত্র। পাকিস্তানের লিয়াকত আলী সরকারের থেকে শুরু করে ভিন্ন পথ নিলেই সে ষড়যন্ত্রকারী, ভারতীয় এজেন্ট। ৭১-এর পর আমাদের রাজনৈতিকরাও সেই কথা টেনে আনছেন। এ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সব সময় আছে।
ড. সলিমুল্লাহ খান
লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও ভাষানীতিতে মৌলিক পরিবর্তন না এনে রাজনৈতিক সংস্কার সম্ভব নয়। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও ভাষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান কাঠামো নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা জরুরি।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যতটা আপনি ঠিক না করেন, আপনি দেশের রাজনীতি করতে পারবেন না’ রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের কথা বললেও শিক্ষা ও ভাষার মতো মৌলিক বিষয়ে তাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না। কীভাবে বাংলা লেখা হবে সেটিও একটি দায়িত্বের বিষয়। কোনো কমিটি বা প্রতিষ্ঠান জনগণের মতামত ও ব্যাপক আলোচনা ছাড়া ভাষার ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। ভাষার নিজস্ব ব্যাকরণ ও ব্যবহার না বুঝে সংস্কার করলে তা ভাষার ওপর ‘অত্যাচার’ হয়ে দাঁড়ায়। ভাষার নিজস্ব ব্যাকরণ, ধ্বনি ও বর্ণের ব্যবহার বুঝে বানান নির্ধারণে করতে হবে। আমি সঠিক, উনি ভুল-এটা বলছি না। কিন্তু যে কায়দায় একটি বিষয় আরোপ করা হয়েছে, সেটাই প্রশ্নের। স্বাধীনতার পর দেশে প্রায় ১০টি শিক্ষা কমিশন হয়েছে। কিন্তু বারবার একই ধরনের সুপারিশ ও আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে শিক্ষা সংস্কারের উদ্যোগ। প্রাথমিক শিক্ষা কত বছর হবে, কোন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে ভাগ করা হবে-এসব বিষয়েও নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
ইংরেজির আমি বিরোধী নই। ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা। কিন্তু বাংলা থাকতে হবে। নিজের ভাষায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে একটি জাতির আত্মমর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি নাম ব্যবহারের প্রবণতা কার্যত বাংলা ভাষার অবমাননাই হচ্ছে। ইংরেজি ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে নয়।
বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস তৈরি পোশাক এবং বিদেশে শ্রমিক পাঠানো। ফলে অর্থনীতি বিভিন্নভাবে বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। দেশে যে পরিমাণ মানুষ জন্ম নিচ্ছে, সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। তাই বেকারত্বের মূল কারণ চিহ্নিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করতে হবে। মানুষ শুধু মুখ নিয়ে জন্মায় না, দুটি হাত নিয়েও জন্মায়। সেই মানুষের কর্মসংস্থানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। শিক্ষাক্ষেত্রে বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থা ও প্রকল্পনির্ভর হয়ে পড়ছে। এতে দেশের নিজস্ব গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণের সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দারিদ্র্য ও সাক্ষরতার প্রচলিত পরিমাপ নিয়ে প্রশ্ন আছে। শুধু নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ বা নাম স্বাক্ষর করতে পারাকে দারিদ্র্য ও শিক্ষার যথাযথ মানদণ্ড হিসাবে বিবেচনা করা যায় না।
আবু আহমেদ
দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে দ্রুত বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থনীতি আরও খারাপের দিকে গেলে দারিদ্র্য বাড়বে, মানুষের অসন্তোষ বাড়বে এবং এর সুযোগ নিয়ে আবারও কর্তৃত্ববাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
অর্থনীতি খুব খারাপ অবস্থায় আছে। খুব ভয়ানক, চিন্তারও বাইরে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। দারিদ্র্য বাড়তে থাকলে মানুষকে বিভক্ত করা সহজ হয়। বিদেশ থেকেও যারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে, তারাও এ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে।
ব্যাংকিং খাতের সংকট ভয়াবহ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। দেশের অনেক ব্যাংকই বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া অনেক ব্যাংকেরই টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে লিজিং কোম্পানি, বিমা, মিউচুয়াল ফান্ড ও পুঁজিবাজারেও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ দাবি পরিশোধ না হওয়ায় বিমা খাতের ওপর মানুষের আস্থা কমেছে। কেউ আর কাউকে টাকা দিয়ে বিশ্বাস করতে চায় না। পুঁজিবাজারের আকারও অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে তাদের বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন। ব্যাংকের সুদের হারের ব্যবধান নির্ধারণে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করাও ঠিক নয়। বাজারকে অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব গতিতে চলার সুযোগ দিতে হবে।
বেসরকারি খাতের ঋণ চাহিদা কমে যাওয়াকে অর্থনীতির দুর্বলতার অন্যতম লক্ষণ। উচ্চ সুদহার, করের চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাত নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছে। ফলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুটিই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও সংশয় রয়েছে। অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের কার্যক্রম না বাড়লে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।
যেসব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লোকসান করছে এবং কোনো কার্যকর অবদান রাখছে না, সেগুলো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি সম্পদ বেসরকারি বা আন্তর্জাতিক দক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার সুযোগ বিবেচনা করা উচিত। আমাদের দরকার জনগণের জন্য ইনভেস্টমেন্ট ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। শুধু ভর্তুকি দিয়ে লোকসানি প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে যেখানে বিনিয়োগ করলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়বে, সেখানে অর্থ ব্যয় করতে হবে।
আবু রূশ্দ
বিগত সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নতজানু হয়ে পড়েছিল। এ শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়া এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন ঘটানোয় ২০২৪ সালের ‘জুলাই আন্দোলন’ দেশের অন্যতম বড় অর্জন। বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানই সবচেয়ে সফল দুটি ঘটনা।
দেশের অর্থনৈতিক সংকট, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং জুলাই আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে দেশে এক ধরনের হতাশাজনক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বাংলাভাষী একক জনগোষ্ঠীর দিক থেকে বাংলাদেশে ৯৮.৭ শতাংশ সামাজিক সংহতি রয়েছে, যা পৃথিবীতে বিরল। অথচ আমরা এ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি।
জুলাইয়ের শেষদিকে চাকরি জীবন ও পরিবারের চাপের মুখে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বহু সেনা কর্মকর্তার সন্তান নিজেরা ব্র্যাক, এনএসইউ, বিইউপি ও এআইইউবির শিক্ষার্থী হিসাবে রাজপথে নেমেছিল। এমনকি সেনা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারছিলেন না। ৩ আগস্ট সেনাপ্রধানের ডাকা দরবারে সেনাসদস্যদের মনোভাব স্পষ্ট হয়ে যায় এবং তারা জনগণের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায়। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, তাদের পরিবার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিরপুর ও মহাখালী ডিওএইচএস থেকে রাজপথে নেমে এসে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যান।
বিগত ১৫ বছরে প্রতিবেশী দেশের চাপে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। প্রতিবেশী দেশের হস্তক্ষেপে আমাদের ২৫০ কিলোমিটার দূরপাল্লার আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা মাল্টিরোল ফাইটার জেট কিনতে দেওয়া হয়নি। ফলে মিয়ানমার সীমান্তে নানা উত্তেজনায় আমরা অসহায় অনুভব করেছি। পার্বত্য অঞ্চলে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি অপারেশনে আমাদের বাহিনী সফল হলেও প্রতিবেশী দেশের কারণে অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহের পথ রুদ্ধ ছিল। সরকারের পতনের পর একাধিক গোয়েন্দাপ্রধান ও সামরিক কর্মকর্তা ভারতে পালিয়ে যান এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
কৌশলগত ও সামরিক স্বার্থে চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মুসলিম দেশগুলোর (যেমন তুরস্ক ও সৌদি আরব) সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে। ‘দেশ বিক্রি হয়ে গেল’ এমন অবাস্তব ট্রমা থেকে বের হয়ে এসে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, ভৌগোলিক সুবিধা গ্রহণ এবং তরুণদের (জেন-জি) নতুন চিন্তাভাবনাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। ১৪০০ মানুষের আত্মত্যাগ এবং হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত জুলাই আন্দোলনই দেশের জন্য সবচেয়ে বড় আশার বার্তা।
ড. মাহফুজ পারভেজ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বয়ান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা তৈরিতে গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র ও সমাজ কোন পথে এগোবে, সে বিষয়ে একটি সক্রিয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চিন্তার পরিসর তৈরি করা জরুরি। তা না হলে অভ্যুত্থানকে ঘিরে নানা কল্পকাহিনি ও বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি হতে পারে।
১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরবর্তী দুবছরের পরিস্থিতি তুলনা করে বর্তমান সময়কে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতি এখনো এমন পর্যায়ে যায়নি, যা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ রয়েছে। তবে জুলাইয়ের শক্তিগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক চুক্তির জায়গাটি এখনো অনিশ্চিত এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘাত বাড়ছে।
বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘদিনের সংঘাতনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি জুলাইয়ের পরও ভাঙা সম্ভব হয়েছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ছাত্র ও তৃণমূল পর্যায়েও যদি এ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে অভ্যুত্থানকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।
একটি সংবাদপত্র শুধু সংবাদ পরিবেশন করবে না; জাতীয় স্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে জনগণের সামনে তা তুলে ধরবে। দলীয় অবস্থান থেকে অনেক সময় রাজনৈতিক দলগুলো যে বিষয়গুলো দেখতে পায় না, গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবীদের সেগুলো দেখার চেষ্টা করতে হবে। যুগান্তর শুধু একটি পত্রিকা নয়, একটি চিন্তা ও দিকনির্দেশনার জায়গা হোক।’ ব্যক্তির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠান ও নীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্রে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘ স্বৈরাচার ও দলীয়করণের পরও যদি পুরোনো কাঠামোর ওপর নতুনভাবে আবরণ দেওয়া হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হলেও সেই প্রক্রিয়ায় পুরোনো কাঠামোকে শুধু নতুন চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।
কোনো রাজনৈতিক দলের উত্থান বা পতনকে কেন্দ্র করে গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বিচার করা ঠিক হবে না। বর্তমান সরকার যদি গণতান্ত্রিক রূপান্তরে ব্যর্থ হয়, সেটি শুধু কোনো ব্যক্তি বা দলের ব্যর্থতা হবে না; বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগেরও পরাজয় হবে।
জুলাইয়ের চেতনাকে কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তিতে পরিণত করা যাবে না। ১৯৭১-এর মতো জুলাইয়ের ঘটনাকেও কোনো গোষ্ঠীর একচেটিয়া মালিকানায় নেওয়া যাবে না। এতে জুলাইয়ের প্রকৃত তাৎপর্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আগামী দিনে যুগান্তরকে মানুষের পত্রিকা, গণ-আন্দোলন ও গণমানুষের পত্রিকা হিসাবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমে চিন্তার স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি।
আবদুল হাই শিকদার
দৈনিক যুগান্তর আয়োজিত আজকের এই ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে মূল্যবান আলোচনা তুলে ধরার জন্য আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনাদের আলোচনায় যেভাবে সংকট ও ভাবনা এবং সেই সঙ্গে সমাধানের বহুমাত্রিক দিকগুলো প্রকাশ করেছেন, তা এককথায় অসাধারণ এবং এ সময়োপযোগী রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ দিয়েছে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি ও নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ। এটি শুধু সরকার বা ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের একটি বড় সুযোগ। তবে শুধু আবেগে ভেসে না গিয়ে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেন এ রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির টানাপোড়েনে ‘এক পাশে হাঙর, অন্য পাশে কুমির’-এর মতো পরিস্থিতি সামলাতে আমাদের অত্যন্ত দক্ষ, সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে হাজারো ছাত্র-জনতার রক্ত ও আত্মত্যাগ আমাদের এক বিশাল আমানত। আমরা যদি নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ তৈরি করি, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যম এবং সরকারকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
আজকের আলোচনা থেকে উঠে আসা যৌক্তিক সুপারিশ ও চিন্তাগুলো আমরা পত্রিকার মাধ্যমে দেশবাসী ও নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরব, যেন তা আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা হিসাবে কাজ করতে পারে।
আপাতত আমাদের এ চিন্তার খোরাক জোগানো আলোচনার এখানেই সমাপ্তি টানছি। এ ধরনের অনুষ্ঠানে আবার আমরা আপনাদের আমন্ত্রণ জানাব, আপনারা আসবেন বলে আমরা আশা করছি। আপনাদের সবাইকে আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এনাম আবেদীন
রাষ্ট্র পরিচালনা, আইনি সংস্কার এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া রাতারাতি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। যখন কোনো দল বা গোষ্ঠী ক্ষমতার বাইরে থাকে-তখন তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর পাওয়ার কমানো কিংবা মন্ত্রীদের জবাবদিহি নিয়ে দারুণ সব সুন্দর প্রস্তাব দেয়। আমরাও এসব বলি, শুনি ও লিখি। কিন্তু বাস্তবে যখন কেউ ক্ষমতার চেয়ারে বসে, তখন হুট করেই সব পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। তখন রাষ্ট্র পরিচালনায় নানা বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। কারণ আমাদের সমাজে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য একতরফাভাবে সরকারকে দায়ী করার একটি মানসিকতা তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিক বা নাগরিক হিসাবে আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতভাবেই প্রয়োজন। তবে স্বাধীনতার নামে সত্য নয়-এমন তথ্য প্রচার করা হলে রাষ্ট্র নীরব ভূমিকা পালন করতে পারে না। পুলিশ বা প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়েও সমালোচনা হয়, কিন্তু তারাও এক ধরনের জটিল কাঠামোর ভেতর কাজ করে। সমস্যা হলো, আমরা অনেকেই নিজেদের কাছে জবাবদিহি করি না।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যেসব সংস্কার বা সুন্দর প্রত্যাশার কথা বলা হচ্ছে-তা রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিরোধী দলে বা সিভিল সোসাইটিতে থাকলে যেভাবে ভাবা যায়, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এলে সেই চিন্তাধারা ও ক্ষমতার প্রয়োগের মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমান বিরোধী জোটে থাকা এনসিপির দুই নেতা অন্তর্বর্তী সরকারে ছিলেন-তারাও কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালে নিজেদের ইচ্ছামতো সব করতে পারেননি। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
রাতারাতি সংবিধান বা আইন পরিবর্তন করে সমাজ বদলে ফেলা সম্ভব নয়। মানুষের আইন মানার প্রবণতা, জ্ঞান, সভ্য আচরণ কিংবা সিভিক সেন্স (নাগরিক সচেতনতা) একদিনে পরিবর্তন হয় না; এটি একটি ধাপে ধাপে ঘটা প্রক্রিয়া। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের রাস্তায় নামলেই যেভাবে মানুষ ধৈর্য হারিয়ে একে অপরকে গালাগাল করে বা ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করে, তাতেই বোঝা যায়, আমাদের সমাজের ধৈর্য ও সামাজিক সৌজন্যবোধের ঘাটতি কতটা গভীরে।
পরামর্শ
আলোচনায় উঠে এসেছে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের আবেগের স্বকীয়তা, অস্থিতিশীল অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের ভঙ্গুরতা কাটাতে জরুরি নীতিগত সিদ্ধান্ত, শিক্ষা ও ভাষার মৌলিক সংস্কার এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জ। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়; বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির বদল, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর এবং জাতীয় স্বার্থে সিভিল সোসাইটি ও গণমাধ্যমের সত্য উচ্চারণের ওপরই নির্ভর করছে এ গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন।
অতিথি
ড. মাহবুব উল্লাহ্
জাতীয় অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ
মহিউদ্দিন আহমদ
লেখক ও গবেষক
ড. সলিমুল্লাহ খান
অধ্যাপক, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
অধ্যাপক আবু আহমেদ
অর্থনীতিবিদ; চেয়ারম্যান, আইসিবি
আবু রূশ্দ
সাংবাদিক, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা
ড. মাহফুজ পারভেজ
চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; নির্বাহী পরিচালক, সিসিআরএসবিডি
আবদুল হাই শিকদার
সম্পাদক
যুগান্তর
এনাম আবেদীন
নির্বাহী সম্পাদক
যুগান্তর
সঞ্চালনা
কাজী জেবেল
