সায়েদাবাদে গৃহবধূর মৃত্যু
সড়ক দুর্ঘটনা নয় ছুরিকাঘাতে হত্যা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর সায়েদাবাদে গৃহবধূ তাসলিমা আক্তারের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা প্রথমদিকে ‘সড়ক দুর্ঘটনায়’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করলেও পুলিশের তদন্তে পরকীয়ার জেরে হত্যার ঘটনা বলে তথ্য মিলেছে। জানা গেছে, ভুক্তভোগী তাসলিমার স্বামীর নাম রশিদ আহামেদ বাপ্পি। তিনি পরিবারের সঙ্গে ৭৩/১ দক্ষিণ সায়েদাবাদের একটি সাততলা ভবনে ভাড়া থাকতেন। তাসলিমার বাবার নাম জয়নাল মাদবর। তাদের বাসা বংশাল মাহুতটুলীতে। যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আওলাদ হোসেন জানান, সোমবার সায়েদাবাদের একই বাসার ভাড়াটিয়া রাজু তসলিমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে। পরে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যান। স্বজনরা প্রথমে হাসপাতালে দাবি করেছিলেন, সায়েদাবাদে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তাসলিমা। পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন তাসলিমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা দেবর নাদিম সাংবাদিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের জানান, বংশালে বাবার বাসা থেকে অটোরিকশায় করে সায়েদাবাদ ফেরার পথে রেলগেট এলাকায় বাসের ধাক্কায় অটোটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে যাত্রী তাসলিমা ও চালক আহত হন।
এদিকে তদন্ত সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ১৮ মাস ধরে ভাড়াটিয়া রাজুর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাসলিমার। সোমবার সন্ধ্যার দিকে বাসার ছাদে কথাকাটাকাটির জেরে তাসলিমাকে ছুরিকাঘাত করে রাজু। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুরতহাল প্রতিবেদন করতে গিয়ে পুলিশ দেখতে পান, তাসলিমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক জখম রয়েছে। এতেই প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন, ওই নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা থানায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং ছুরিকাঘাতে হত্যার বিষয়টি জানান।
